1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টুঙ্গিপাড়ায় অনুমোদনহীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ

ছাইম খান গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে কাজী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন এবং অবৈধভাবে বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে সাইফুল খাঁ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে বিভিন্ন বিয়ে পড়িয়ে নিজস্বভাবে সংরক্ষিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও কথিত ভলিউম বইয়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করে আসছেন। এতে সংশ্লিষ্ট দম্পতিরা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত সাইফুল খাঁ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ২ নম্বর বর্ণি ইউনিয়নের বাসুড়িয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী খাঁর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাইফুল খাঁ বৈধভাবে নিবন্ধিত কাজী না হলেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করেন এবং সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করে নিজস্বভাবে নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের দেনমোহরের বিপরীতে নির্ধারিত সরকারি ফি জমা না দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটছে। ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বর-কনের বিয়ের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কোথাও বিয়ের আয়োজনের খবর পেলেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে বিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করেন।

সম্প্রতি উপজেলার মালেক বাজার এলাকায় একটি বিয়ে সম্পন্ন করার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজীর কাছে নিয়ে যাওয়া হলে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ জুন বর্ণি গ্রামের ইব্রাহিম শেখের মেয়ে নাহিদা খানমের, ১১ জুন শরসপুর গ্রামের লিটন সর্দারের মেয়ে রুপার এবং একই দিনে গিমাডাঙ্গা মুন্সিরচর গ্রামের আনারউদ্দিন শেখের মেয়ে ইজমা আক্তারের বিয়ে তিনি সম্পন্ন করেন। এছাড়া গজালিয়া গ্রামের শুকুর মোল্লার মেয়ে মুক্তা খানমের বিয়েও তিনি পড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই বিয়ের তারিখ নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানা গেছে।

সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজী হাসমত শেখ অভিযোগ করে বলেন, তিনি একাধিকবার সাইফুল খাঁকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিলেও তা মানা হয়নি। তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তের ব্যবহৃত কথিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও ভলিউম বই জব্দ করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার না করে সাইফুল খাঁ বলেন, তিনি সরকারি নিবন্ধিত কাজী নন। তবে পাশের কুশলী ইউনিয়নের নিবন্ধিত কাজীর সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিয়ে পড়িয়েছেন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানান, অভিযোগটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবৈধভাবে বিয়ে নিবন্ধনের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

টুঙ্গিপাড়ায় অনুমোদনহীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৪:২২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই নিজেকে কাজী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিয়ে সম্পন্ন এবং অবৈধভাবে বিয়ে নিবন্ধনের অভিযোগ উঠেছে সাইফুল খাঁ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোপনে বিভিন্ন বিয়ে পড়িয়ে নিজস্বভাবে সংরক্ষিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও কথিত ভলিউম বইয়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করে আসছেন। এতে সংশ্লিষ্ট দম্পতিরা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে এবং সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত সাইফুল খাঁ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ২ নম্বর বর্ণি ইউনিয়নের বাসুড়িয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী খাঁর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাইফুল খাঁ বৈধভাবে নিবন্ধিত কাজী না হলেও বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করেন এবং সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করে নিজস্বভাবে নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের দেনমোহরের বিপরীতে নির্ধারিত সরকারি ফি জমা না দিয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনাও ঘটছে। ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বর-কনের বিয়ের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, কোথাও বিয়ের আয়োজনের খবর পেলেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কাজী পরিচয় দিয়ে বিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করেন।

সম্প্রতি উপজেলার মালেক বাজার এলাকায় একটি বিয়ে সম্পন্ন করার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজীর কাছে নিয়ে যাওয়া হলে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ৯ জুন বর্ণি গ্রামের ইব্রাহিম শেখের মেয়ে নাহিদা খানমের, ১১ জুন শরসপুর গ্রামের লিটন সর্দারের মেয়ে রুপার এবং একই দিনে গিমাডাঙ্গা মুন্সিরচর গ্রামের আনারউদ্দিন শেখের মেয়ে ইজমা আক্তারের বিয়ে তিনি সম্পন্ন করেন। এছাড়া গজালিয়া গ্রামের শুকুর মোল্লার মেয়ে মুক্তা খানমের বিয়েও তিনি পড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই বিয়ের তারিখ নথিতে উল্লেখ করা হয়নি বলেও জানা গেছে।

সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত নিবন্ধিত কাজী হাসমত শেখ অভিযোগ করে বলেন, তিনি একাধিকবার সাইফুল খাঁকে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিলেও তা মানা হয়নি। তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তের ব্যবহৃত কথিত রেজিস্ট্রেশন খাতা ও ভলিউম বই জব্দ করে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার না করে সাইফুল খাঁ বলেন, তিনি সরকারি নিবন্ধিত কাজী নন। তবে পাশের কুশলী ইউনিয়নের নিবন্ধিত কাজীর সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিয়ে পড়িয়েছেন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানান, অভিযোগটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবৈধভাবে বিয়ে নিবন্ধনের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।