1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলা কিউআর কী, ব্যবহারে চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন একটি সর্বজনীন স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে চালু হয়েছে ‘বাংলা কিউআর’। এটি এমন একটি ইউনিভার্সাল কিউআর কোড ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে একটিমাত্র কোড স্ক্যান করেই পেমেন্ট করা যাবে।

আগে একেক দোকানে বিকাশ, নগদ বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হতো। ফলে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধতা তৈরি হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে একটি অ্যাপ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোডে পেমেন্ট করা যেত না।

বাংলা কিউআর চালুর ফলে এখন মার্চেন্ট পর্যায়ে শুধু একটি কিউআর কোডই যথেষ্ট হবে। গ্রাহকের কাছে যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থাকলেই সেই একটিমাত্র কোড স্ক্যান করে সহজে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। এতে আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না।

সহজভাবে বললে, এই ব্যবস্থা বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস সেবাকে একীভূত করে গ্রাহকদের যেকোনো দোকানে ডিজিটাল পেমেন্ট করার সুবিধা দিচ্ছে। এতে নতুন করে আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার বাধ্যবাধকতাও নেই।সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে নগদ টাকার ঝামেলা, ভাঙতির সমস্যা এবং জাল নোটের ঝুঁকি কমানোর আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল বা ক্যাশলেস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভবিষ্যতে সব ধরনের সরকারি পেমেন্ট সেবাকেও এই কিউআর-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি ইন্টারনেট ছাড়াও কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন চালুর সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থার বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের সব জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা, লেনদেনের ওপর চার্জ কাঠামো স্পষ্ট করা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এছাড়া ডিজিটাল লেনদেন পুরোপুরি ডকুমেন্টেড হলে ভবিষ্যতে করের চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি টাকা ডিজিটালি গ্রহণ করলেও সেটি সহজে ক্যাশ করার প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা থাকতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ব্যবসায়ীরা শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থা আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা, বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি ডিজিটাল আর্থিক পরিচিতি তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য ঋণ সুবিধার সুযোগও বাড়াতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলা কিউআরকে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলা কিউআর কী, ব্যবহারে চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের পেমেন্ট ব্যবস্থায় নতুন একটি সর্বজনীন স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে চালু হয়েছে ‘বাংলা কিউআর’। এটি এমন একটি ইউনিভার্সাল কিউআর কোড ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাপ ব্যবহার করে একটিমাত্র কোড স্ক্যান করেই পেমেন্ট করা যাবে।

আগে একেক দোকানে বিকাশ, নগদ বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হতো। ফলে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য সীমাবদ্ধতা তৈরি হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে একটি অ্যাপ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোডে পেমেন্ট করা যেত না।

বাংলা কিউআর চালুর ফলে এখন মার্চেন্ট পর্যায়ে শুধু একটি কিউআর কোডই যথেষ্ট হবে। গ্রাহকের কাছে যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ থাকলেই সেই একটিমাত্র কোড স্ক্যান করে সহজে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে। এতে আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না।

সহজভাবে বললে, এই ব্যবস্থা বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস সেবাকে একীভূত করে গ্রাহকদের যেকোনো দোকানে ডিজিটাল পেমেন্ট করার সুবিধা দিচ্ছে। এতে নতুন করে আলাদা কোনো অ্যাপ ডাউনলোড করার বাধ্যবাধকতাও নেই।সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করা। এর মাধ্যমে নগদ টাকার ঝামেলা, ভাঙতির সমস্যা এবং জাল নোটের ঝুঁকি কমানোর আশা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ডিজিটাল বা ক্যাশলেস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ভবিষ্যতে সব ধরনের সরকারি পেমেন্ট সেবাকেও এই কিউআর-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এমনকি ইন্টারনেট ছাড়াও কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন চালুর সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থার বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের সব জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা, লেনদেনের ওপর চার্জ কাঠামো স্পষ্ট করা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এছাড়া ডিজিটাল লেনদেন পুরোপুরি ডকুমেন্টেড হলে ভবিষ্যতে করের চাপ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি টাকা ডিজিটালি গ্রহণ করলেও সেটি সহজে ক্যাশ করার প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা থাকতে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।

ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ব্যবসায়ীরা শুরুতে কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও সময়ের সঙ্গে এই ব্যবস্থা আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণা, বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটি ডিজিটাল আর্থিক পরিচিতি তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে তাদের জন্য ঋণ সুবিধার সুযোগও বাড়াতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলা কিউআরকে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা