ঈশ্বরগঞ্জ–নান্দাইল রুটে বাসের দাবি, কর্তৃপক্ষের হাতে শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি
“নিরাপদ পথ, শিক্ষার আলো, কলেজ বাসই আমাদের ভালো।”
এই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার শিক্ষার্থীরা এবার কলেজ বাস চালুর দাবিতে কলেজ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ঈশ্বরগঞ্জ হয়ে নান্দাইল পর্যন্ত কলেজ বাস চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল কলেজের উপাধ্যক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
“যাতায়াত হোক সাশ্রয়ী, হোক নিশ্চিন্ত প্রাণ, কলেজ বাসের দাবিতে এক শিক্ষার্থীর গান।”
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী এই রুটে বিভিন্ন গণপরিবহনে যাতায়াত করেন। পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাব, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অনিয়মিত বাস চলাচল, বাড়তি ভাড়া এবং সড়কপথে নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে আসনসংকট, দাঁড়িয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম এবং সময়মতো কলেজে পৌঁছাতে না পারা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
“ভোগান্তির দিন এবার হোক শেষ, কলেজ বাস চাই—এটাই আমাদের রেশ।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজ বাস চালু হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না; নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি বাড়বে, যাতায়াত ব্যয় কমবে এবং ছাত্রীসহ সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের উদ্বেগও অনেকাংশে কমে আসবে।
“শিক্ষার পথে বাধা কেন হবে আর, কলেজ বাস চালু হোক, পূরণ হোক সবার অধিকার।”
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার বিস্তারিত তুলে ধরে দ্রুত কলেজ বাস চালুর অনুরোধ জানান। এ সময় উপাধ্যক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
“ঈশ্বরগঞ্জ–নান্দাইল এক কণ্ঠে আজ, কলেজ বাস চালু হোক—এটাই আমাদের সাজ।”
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে এ দাবির কথা বিভিন্নভাবে তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া গুনে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কলেজে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
“সময় বাঁচুক, কমুক পথের কষ্ট, কলেজ বাস চালু হোক—এটাই হোক সবার সৃষ্টি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী প্রতিদিন আনন্দ মোহন কলেজে পড়াশোনা করতে আসেন। তাই এ রুটে কলেজ বাস চালু করা হলে একদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।
“শিক্ষার স্বার্থে একটাই উচ্চার, কলেজ বাস চালু হোক—আজই হোক এবার।”
এদিকে বর্তমান শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের খবর জেনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আনন্দ মোহন কলেজের ইংরেজি বিভাগের (২০০৮–০৯ সেশন) সাবেক শিক্ষার্থী মিয়া সুলেমান।
তিনি বলেন, “আমাদের সময়েও ঈশ্বরগঞ্জ–নান্দাইল রুটে যাতায়াত ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দীর্ঘ পথ, অনিয়মিত যানবাহন, অতিরিক্ত ভাড়া ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়েই কলেজজীবন পার করতে হয়েছে। তাই বর্তমান শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ।”
তিনি আরও বলেন, “কলেজ বাস চালু হলে শুধু ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে না; বরং তাদের সময়, অর্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এতে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি বাড়বে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।”
“ভাড়া কম, নিরাপদ পথ—এই তো সবার আশা, কলেজ বাস চালু হলেই হাসবে শিক্ষার ভাষা।”
মিয়া সুলেমান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবিকে কলেজ প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিলে তা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অর্জন হবে।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, কলেজ প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস, কলেজ বাস চালু হলে এটি শুধু একটি পরিবহনসেবা হবে না; বরং নিরাপদ শিক্ষা, সময়নিষ্ঠতা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।






















