1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, দাবানলে পুড়েছে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্সে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী খরা, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।

দক্ষিণ ফ্রান্সের আউদ, পিরেনে-ওরিয়ঁতাল, বুশ-দ্যু-রোনসহ আশপাশের কয়েকটি অঞ্চলে এখনো একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ড সক্রিয় রয়েছে। শুধু আউদ এলাকাতেই প্রায় ৯০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং আকাশ ঢেকে গেছে ঘন কালো ধোঁয়ায়।

ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৭ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। সাধারণত জুলাইয়ের শেষ দিকে দাবানলের মৌসুম তীব্র আকার ধারণ করলেও এবার তা আগেভাগেই শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তের পর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বনাঞ্চল অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। এর ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হওয়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় মোতায়েন করা হয়েছে অগ্নিনির্বাপক বিমান, কানাডেয়ার উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের হুমকিতে রয়েছে কয়েকটি আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল, গুদামঘর ও পর্যটন ক্যাম্পসাইট। এছাড়া কিছু অঞ্চলে সড়ক ও বিমান চলাচলেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত মৃত্যুর বড় অংশই ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ঘটেছে। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ বেড়েছে।

আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, জুন ও জুলাই মাসে ফ্রান্সের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। অনেক অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রাও ২০ ডিগ্রির নিচে নামছে না। ফলে ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে মানুষের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী তাপচাপ তৈরি করছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সরকার জরুরি বৈঠক করে বনাঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দাবানলপ্রবণ এলাকায় আগুন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক দিনও উচ্চ তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে দাবানলের ঝুঁকিও বহাল থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, দাবানলে পুড়েছে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি

আপডেট সময় : ০৫:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ফ্রান্সে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী খরা, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা এবং প্রবল বাতাসের কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা।

দক্ষিণ ফ্রান্সের আউদ, পিরেনে-ওরিয়ঁতাল, বুশ-দ্যু-রোনসহ আশপাশের কয়েকটি অঞ্চলে এখনো একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ড সক্রিয় রয়েছে। শুধু আউদ এলাকাতেই প্রায় ৯০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং আকাশ ঢেকে গেছে ঘন কালো ধোঁয়ায়।

ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে ৭ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে। সাধারণত জুলাইয়ের শেষ দিকে দাবানলের মৌসুম তীব্র আকার ধারণ করলেও এবার তা আগেভাগেই শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তের পর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বনাঞ্চল অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। এর ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হওয়ায় দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় মোতায়েন করা হয়েছে অগ্নিনির্বাপক বিমান, কানাডেয়ার উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের হুমকিতে রয়েছে কয়েকটি আবাসিক এলাকা, শিল্পাঞ্চল, গুদামঘর ও পর্যটন ক্যাম্পসাইট। এছাড়া কিছু অঞ্চলে সড়ক ও বিমান চলাচলেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগজনিত সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত মৃত্যুর বড় অংশই ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ঘটেছে। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে মানুষের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ বেড়েছে।

আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, জুন ও জুলাই মাসে ফ্রান্সের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। অনেক অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রাও ২০ ডিগ্রির নিচে নামছে না। ফলে ‘ট্রপিক্যাল নাইট’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে মানুষের শরীরে দীর্ঘস্থায়ী তাপচাপ তৈরি করছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সরকার জরুরি বৈঠক করে বনাঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দাবানলপ্রবণ এলাকায় আগুন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, আগামী কয়েক দিনও উচ্চ তাপমাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে দাবানলের ঝুঁকিও বহাল থাকবে।