বেনাপোলে স্ট্রোক করে ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু, দূতাবাসের ছাড়পত্রে মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরলেন স্ত্রী
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল চেকপোস্টে স্ট্রোক করে মারা যাওয়া ভারতীয় পাসপোর্টযাত্রী গৌতম মিস্ত্রি (৫৫)-এর মরদেহ দূতাবাসের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে ভারতে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে স্বামীর মরদেহ নিয়ে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের পথে রওনা হন তার স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি।
জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্বামী গৌতম মিস্ত্রিকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে বরিশালে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন জাহানারা মিস্ত্রি। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তারা বেনাপোলে পৌঁছান। গাড়ি থেকে নামার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন গৌতম। দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
বাংলাদেশের অংশে মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ নিয়ে ভারতে ফিরতে পারেননি তার স্ত্রী। পরে হাসপাতাল থেকে ডেথ সার্টিফিকেট, স্থানীয় থানার জিডির কপি এবং ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার সকালে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ মরদেহ নিয়ে ভারতে ফেরার অনুমতি দেয়।
গৌতম মিস্ত্রির স্ত্রী জাহানারা মিস্ত্রি বলেন, “আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। বাংলাদেশের মানুষ আমাকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। মরদেহ গাড়িতে ওঠানো-নামানো থেকে শুরু করে ঢাকা যাওয়া-আসা ও খাবারের খরচ পর্যন্ত স্থানীয় মানুষ ও বেনাপোল ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছেন। এ দেশের মানুষের মানবিকতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, বুধবার স্ট্রোকজনিত কারণে গৌতম মিস্ত্রির মৃত্যু হয়। ওই সময় তার স্ত্রীর কাছে ডেথ সার্টিফিকেট ও থানার জিডির কপি ছাড়া প্রয়োজনীয় অন্য কাগজপত্র ছিল না। পরে দূতাবাসের ক্লিয়ারেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর শুক্রবার সকালে তাকে মরদেহ নিয়ে ভারতে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
গৌতম মিস্ত্রির পাসপোর্ট নম্বর T-3361611। তিনি কলকাতার ৭৮/১, কালিয়া নগর সুরাইয়া সেন পল্লির রমনী মিস্ত্রির ছেলে।

























