পল্টুন সরিয়ে নেওয়ায় বড়মাছুয়া রকেট ঘাটে নৌযুগের সমাপ্তি
বলেশ্বর নদীর তীরে মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট থেকে পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে পন্টুনটি বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ঘাটের শেষ দৃশ্যমান স্মৃতিচিহ্নটিও সরে গেল। একসময় স্টিমারের হুইসেল, যাত্রীদের ভিড় ও পণ্য ওঠানামায় সরগরম থাকা এ ঘাট এখন নিস্তব্ধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট নির্মাণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার সুবিধার্থে ঘাটে পন্টুন ও বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়।
একসময় বড়মাছুয়া ছিল দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ ঘাট দিয়ে নৌপথে যাতায়াত করতেন। ঢাকা, বরিশাল ও খুলনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্যও এ ঘাট দিয়ে পরিবহন করা হতো।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্টিমার চলাচলের সময় ঘাট এলাকায় প্রতিদিনই ছিল ব্যস্ততা। নির্দিষ্ট সময়ে স্টিমারের হুইসেল শুনলেই যাত্রী ও স্বজনদের ছোটাছুটি শুরু হতো। কেউ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন, কেউ আসতেন স্বজনকে বিদায় জানাতে। স্টিমার ছেড়ে যাওয়ার পর নদীর তীরে আবার নেমে আসত অপেক্ষাকৃত নীরবতা।
তবে সময়ের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্টিমার সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড়মাছুয়া ঘাটের গুরুত্ব কমতে থাকে। নৌপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধ হওয়ার পর পন্টুনটি দীর্ঘদিন ঘাটে পড়ে ছিল। সেটিই হয়ে উঠেছিল হারিয়ে যাওয়া নৌযাতায়াতের একটি স্মারক।
বুধবার সেটিও সরিয়ে নেওয়ায় ঘাটের পুরোনো চেহারার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না। বলেশ্বরের তীরে এখন রয়েছে ঘাটের স্থান ও সেই সময়ের স্মৃতি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, বড়মাছুয়া ঘাট শুধু একটি নৌযান ওঠানামার স্থান ছিল না, এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। কর্মসংস্থান, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করেছেন।
প্রবীণ কৃষক অমল রায় বলেন, নৌযুগের অবসান হলেও বড়মাছুয়া ঘাটের সেই ব্যস্ত সময়ের স্মৃতি স্থানীয় মানুষের কাছে অমলিন হয়ে থাকবে। সময়ের স্রোতে পন্টুনটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বলেশ্বরের তীরে স্টিমারের হুইসেলে মুখর সেই দিনগুলোর গল্প থেকে যাবে মানুষের স্মৃতিতে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতাউর রাব্বি বলেন, দেশের একমাত্র প্যাডের সমৃদ্ধ নৌযানটি আর্থির লোকসানের কারনে সরকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে ঘাটটি অব্যবহৃত পড়ে ছিল। বুধবার নৌকর্তৃপক্ষ রকেট ঘাটটি বরিশালে স্থানান্তরিত করে নেয়।
মঠবাড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, ২ ককটেল উদ্ধার
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : রাতের আঁধারে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিঠাখালী আলম বাজার এলাকায় অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর কার্যালয়টির ভেতর থেকে লাল টেপ মোড়ানো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গভীর রাতে একদল অজ্ঞাত পরিচয় লোক কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কার্যালয়ে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি এলইডি টেলিভিশন ভাঙচুরসহ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি কার্যালয় থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভাঙচুরের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতেই মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দুটি ভাঙা চেয়ার, একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলইডি টেলিভিশন, একটি ভাঙা তালা এবং দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল আলামত হিসেবে জব্দ করে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজী বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করি। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।”
বিষয়টি নিশ্চিত করে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এস.এম. আকাশ
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

























