বগুড়ায় এইচএসসিতে ফেল করে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
বগুড়ার শাজাহানপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর ঈষিতা খাতুন (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের টেকুরগাড়ী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ঈষিতা শেরপুর মহিলা কলেজের এইচএসসি-২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থী ছিল। সে টেকুরগাড়ী এলাকার আল আমিনের বড় মেয়ে।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে ঋণগ্রস্ত হয়ে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে রেখে এলাকা ছেড়ে চলে যান ঈষিতার বাবা আল আমিন। এরপর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ঈষিতার মা অসুস্থ থাকায় তার নানী ও দুই বোনকে নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাতেন।
এরই মধ্যে সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয় ঈষিতা। এ নিয়ে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বুধবার সকালে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বলেন, তিন-চার বছর আগে আল আমিন ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ করে স্ত্রী-সন্তান রেখে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর তিনি অন্যত্র বিয়ে করে নতুন সংসার গড়েছেন বলে শুনেছি। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও তিনি বাড়ি ফিরতে রাজি হননি। মেয়েটি এইচএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে ফেল করেছে। তার মা-ও খুব অসুস্থ। সব মিলিয়ে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে সকালে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।


























