নাগেশ্বরীতে ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের জেরে কারাদণ্ড ও পরবর্তী কাজী মার্কেটে হামলার ঘটনা
নাগেশ্বরীতে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের জেরে এক যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড প্রদান এবং পরবর্তীতে আইনি বিতর্কের রেশ ধরে কাজী মার্কেট এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবারের (৩১ আগস্ট) একটি ইভটিজিং ও বিচারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই উত্তেজনা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাজী মার্কেটে সংঘর্ষ ও হামলায় রূপ নেয়।
গত ৩১ আগস্ট সকাল পৌনে ১০টার দিকে নাগেশ্বরী দয়াময়ি (ডিএম) পাইলট একাডেমি চত্বরে যাওয়ার পথে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে মাহাবুর রহমান (২৪) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তিনি নাগেশ্বরী পৌরসভার গোদ্ধারের পাড় এলাকার ইছহাক আলীর ছেলে। এ সময় স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে খুঁটিতে বেঁধে মারধর করে। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ডিএম একাডেমি স্কুলে নিয়ে আসে। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ সেখানে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাঁকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
সাজাপ্রাপ্ত যুবকের পরিবারের দাবি, মাহাবুর গত চার বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বিষয়টি তোলা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। উল্টো বিচারবহির্ভূতভাবে তাঁকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের বিচার দাবি করেন তাঁর ভাই।
এদিকে, এই বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জানান, মোবাইল কোর্ট আইন অনুযায়ী অপরাধ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হতে হয়। ঘটনার দেড় ঘণ্টা পর এই সাজা প্রদান আইনের লঙ্ঘন ও অবৈধ আটক। তবে আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ জানান, অপরাধ নিজের সামনে সংঘটিত না হলেও ঘটনা উদ্ঘাটন করা মোবাইল কোর্ট আইনের এখতিয়ারভুক্ত।
এই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নাগেশ্বরীর কাজী মার্কেট এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হামলার ঘটনা ঘটে। পূর্বের বিরোধ ও উত্তেজনার জেরে হওয়া এই সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।























