1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিফিল ছাড়াই ফায়ার এক্সটিংগুইশারে নকল স্টিকার, মোহনগঞ্জের কর্মকর্তা টেকনাফে বদলি

পলাশ পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

​অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রিফিল না করেই ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনকে কক্সবাজারের টেকনাফে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। তদন্তে নামার পরপরই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
​মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্র জানায়, মূল কর্মস্থল খালিয়াজুরী হলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিগত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মোহনগঞ্জ স্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান সুমন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার সংগ্রহ করে ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার না বদলে কেবল যন্ত্রগুলো পরিষ্কার করা হতো। এরপর ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগিয়ে রিফিল ও মেয়াদ বাড়িয়ে সিল দেওয়া হতো। যন্ত্রপ্রতি ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা নেওয়া হলেও দেওয়া হতো না কোনো বিক্রয় রশিদ। এমনকি কিছু যন্ত্রে রিফিলকারীর কোনো স্বাক্ষরও খুঁজে পাওয়া যায়নি । অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেস থেকে এই নকল স্টিকারগুলো ছাপানো হতো। এলাকা দুটিতে এই ধরনের প্রায় ৫০০এর অধিক ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে বলে জানা গেছে।
​নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান,বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি সরজমিনে মোহনগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এতে প্রতারণার প্রাথমিক শতভাগ সত্যতা মেলে। বিষয়টি সদর দপ্তরকে জানানো হলে গত গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুমনকে টেকনাফে বদলি করা হয়। আজ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোরেই তিনি মালামালসহ স্টেশন ত্যাগ করেন।
​উপসহকারী পরিচালক আরও জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​উল্লেখ্য, বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০২১ সালে রংপুরে কর্মরত থাকাকালেও তাঁর ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই সাথে সরকারি মালামাল বিক্রির প্রমাণ ও মেলে। সে সময়ও বিভিন্ন কৌশলে বিভাগীয় বড় শাস্তি এড়িয়ে তিনি কেবল বদলি হয়ে পার পেয়ে যান বলে গুঞ্জন রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:৫১:৩৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

রিফিল ছাড়াই ফায়ার এক্সটিংগুইশারে নকল স্টিকার, মোহনগঞ্জের কর্মকর্তা টেকনাফে বদলি

আপডেট সময় : ০২:৫১:৩৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রিফিল না করেই ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনকে কক্সবাজারের টেকনাফে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। তদন্তে নামার পরপরই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
​মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্র জানায়, মূল কর্মস্থল খালিয়াজুরী হলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিগত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মোহনগঞ্জ স্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান সুমন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার সংগ্রহ করে ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার না বদলে কেবল যন্ত্রগুলো পরিষ্কার করা হতো। এরপর ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগিয়ে রিফিল ও মেয়াদ বাড়িয়ে সিল দেওয়া হতো। যন্ত্রপ্রতি ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা নেওয়া হলেও দেওয়া হতো না কোনো বিক্রয় রশিদ। এমনকি কিছু যন্ত্রে রিফিলকারীর কোনো স্বাক্ষরও খুঁজে পাওয়া যায়নি । অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেস থেকে এই নকল স্টিকারগুলো ছাপানো হতো। এলাকা দুটিতে এই ধরনের প্রায় ৫০০এর অধিক ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে বলে জানা গেছে।
​নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান,বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি সরজমিনে মোহনগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এতে প্রতারণার প্রাথমিক শতভাগ সত্যতা মেলে। বিষয়টি সদর দপ্তরকে জানানো হলে গত গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুমনকে টেকনাফে বদলি করা হয়। আজ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ভোরেই তিনি মালামালসহ স্টেশন ত্যাগ করেন।
​উপসহকারী পরিচালক আরও জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​উল্লেখ্য, বিতর্কিত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর অভিযোগ ছিল। ২০২১ সালে রংপুরে কর্মরত থাকাকালেও তাঁর ফেনসিডিল সেবনের ভিডিও বিভিন্ন মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই সাথে সরকারি মালামাল বিক্রির প্রমাণ ও মেলে। সে সময়ও বিভিন্ন কৌশলে বিভাগীয় বড় শাস্তি এড়িয়ে তিনি কেবল বদলি হয়ে পার পেয়ে যান বলে গুঞ্জন রয়েছে।