1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গারো পাহাড় আমাদের সম্পদ, গজনী পাহাড় আমাদের সৌন্দর্য

সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩০

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ—পাহাড়, বন, লেক আর সীমান্তের অপার সৌন্দর্যে এক অনন্য পর্যটন ঠিকানা

বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তঘেঁষা শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। আর সেই সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র। গারো পাহাড়ের পাদদেশে সবুজ বনানী, পাহাড়-টিলা, লেক, ঝরনা ও সীমান্তের নৈসর্গিক দৃশ্য মিলিয়ে গজনী যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।

গারো পাহাড় আমাদের সম্পদ, গজনী পাহাড় আমাদের সৌন্দর্য—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে ঝিনাইগাতীর গর্ব গজনী অবকাশ।

১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু

শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে গজনী অবকাশ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। এটি ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। বিভিন্ন সূত্রে কেন্দ্রটির আয়তন প্রায় ৯০ একর পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। শেরপুর জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব আনুমানিক ৩০ কিলোমিটার।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান গজনীর সৌন্দর্যকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। পাহাড়ের ঢাল, লাল মাটি, শাল-গজারি-সেগুনের সবুজ বন এবং আঁকাবাঁকা পথ ধরে গজনীতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতাই অনেক পর্যটকের কাছে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

প্রকৃতিই এখানে মূল আকর্ষণ

গজনী অবকাশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রকৃতি। চারদিকে সবুজের সমারোহ, পাহাড়ের সারি, গাছপালার ছায়া আর নির্মল বাতাস পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পাহাড়ের কোলে কৃত্রিম লেক, ঝরনা ও বিভিন্ন স্থাপনা প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিনোদনের নতুন মাত্রা।

এখানকার সাইট ভিউ ওয়াচ টাওয়ার থেকে পাহাড়ি ভূদৃশ্য ও আশপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখা যায়। পরিষ্কার আবহাওয়ায় সীমান্তের ওপারের পাহাড়ও চোখে পড়ে।

লেক, সেতু ও নৌভ্রমণ

গজনী অবকাশের কৃত্রিম লেক পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। লেককে ঘিরে রয়েছে নৌবিহারের সুযোগ, সেতু ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক স্থাপনা। লেকের পানিতে নৌকা চলার দৃশ্য এবং চারপাশের পাহাড়ি সবুজ পরিবেশ একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।

এখানে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, যা পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যে হাঁটার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে যুক্ত হয়েছে ভাসমান সেতুসহ নতুন কিছু আকর্ষণ।

শিশু-কিশোর থেকে সব বয়সী মানুষের বিনোদন

গজনী অবকাশ শুধু প্রকৃতি দেখার জায়গা নয়; এখানে রয়েছে বিভিন্ন বিনোদনমূলক স্থাপনা ও ভাস্কর্য। ডাইনোসর, ড্রাগন, জিরাফ, হাতি ও মৎস্যকন্যার মতো বিভিন্ন প্রতিকৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। রয়েছে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও।

কৃত্রিম জলপ্রপাত, পাতাল পথ, পদ্ম সিঁড়ি, বিভিন্ন বাগান ও লেককেন্দ্রিক স্থাপনাগুলো গজনীকে দিয়েছে ভিন্নধর্মী বৈচিত্র্য। পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সময় ক্যাবল কার ও জিপলাইনসহ বিনোদনমূলক রাইডও চালু করা হয়েছে।

গারো ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির ছোঁয়া

গজনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এখানকার পাহাড়ি জনপদ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি। আদিবাসী পল্লী ও বিভিন্ন স্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় জীবনযাপন ও ঐতিহ্যের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ফলে প্রকৃতির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানারও সুযোগ তৈরি হয়।

পাহাড় রক্ষা করাই ভবিষ্যতের দায়িত্ব

গজনী শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি শেরপুরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। পাহাড়, বন, ঝরনা, জীববৈচিত্র্য ও সীমান্তবর্তী পরিবেশ রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই সৌন্দর্য ধরে রাখা কঠিন হবে।

তাই পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে—পাহাড়ে ময়লা না ফেলা, গাছপালা নষ্ট না করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গজনী অবকাশে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। ২০২৬ সালের মার্চেও ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় কেন্দ্রটি মুখর হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

পর্যটন অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো গেলে গজনী শেরপুরের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গজনী—ঝিনাইগাতীর গর্ব, শেরপুরের সৌন্দর্য

শহরের কোলাহল থেকে দূরে পাহাড়ের নীরবতা, সবুজ বনের ছায়া, লেকের শান্ত জল, পাখির ডাক আর সীমান্তের পাহাড়ি দৃশ্য—সবকিছু মিলিয়ে গজনী অবকাশ এক অন্যরকম অনুভূতির নাম।

গারো পাহাড় আমাদের প্রকৃতির সম্পদ।
গজনী পাহাড় আমাদের সৌন্দর্যের পরিচয়।
আর গজনী অবকাশ—ঝিনাইগাতীর গর্ব, শেরপুরের অহংকার।

প্রকৃতিকে ভালোবেসে, পাহাড়-বনকে রক্ষা করে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান রেখে গজনীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর করে গড়ে তোলাই হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:০১:৩২ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

গারো পাহাড় আমাদের সম্পদ, গজনী পাহাড় আমাদের সৌন্দর্য

আপডেট সময় : ০৯:০১:৩২ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০

শেরপুরের ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ—পাহাড়, বন, লেক আর সীমান্তের অপার সৌন্দর্যে এক অনন্য পর্যটন ঠিকানা

বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তঘেঁষা শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্যের ভাণ্ডার। আর সেই সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র। গারো পাহাড়ের পাদদেশে সবুজ বনানী, পাহাড়-টিলা, লেক, ঝরনা ও সীমান্তের নৈসর্গিক দৃশ্য মিলিয়ে গজনী যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক জীবন্ত ছবি।

গারো পাহাড় আমাদের সম্পদ, গজনী পাহাড় আমাদের সৌন্দর্য—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে ঝিনাইগাতীর গর্ব গজনী অবকাশ।

১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু

শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে গজনী অবকাশ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। এটি ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। বিভিন্ন সূত্রে কেন্দ্রটির আয়তন প্রায় ৯০ একর পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। শেরপুর জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব আনুমানিক ৩০ কিলোমিটার।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান গজনীর সৌন্দর্যকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। পাহাড়ের ঢাল, লাল মাটি, শাল-গজারি-সেগুনের সবুজ বন এবং আঁকাবাঁকা পথ ধরে গজনীতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতাই অনেক পর্যটকের কাছে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।

প্রকৃতিই এখানে মূল আকর্ষণ

গজনী অবকাশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রকৃতি। চারদিকে সবুজের সমারোহ, পাহাড়ের সারি, গাছপালার ছায়া আর নির্মল বাতাস পর্যটকদের মুগ্ধ করে। পাহাড়ের কোলে কৃত্রিম লেক, ঝরনা ও বিভিন্ন স্থাপনা প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে বিনোদনের নতুন মাত্রা।

এখানকার সাইট ভিউ ওয়াচ টাওয়ার থেকে পাহাড়ি ভূদৃশ্য ও আশপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখা যায়। পরিষ্কার আবহাওয়ায় সীমান্তের ওপারের পাহাড়ও চোখে পড়ে।

লেক, সেতু ও নৌভ্রমণ

গজনী অবকাশের কৃত্রিম লেক পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। লেককে ঘিরে রয়েছে নৌবিহারের সুযোগ, সেতু ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক স্থাপনা। লেকের পানিতে নৌকা চলার দৃশ্য এবং চারপাশের পাহাড়ি সবুজ পরিবেশ একসঙ্গে উপভোগ করা যায়।

এখানে রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, যা পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যে হাঁটার আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে যুক্ত হয়েছে ভাসমান সেতুসহ নতুন কিছু আকর্ষণ।

শিশু-কিশোর থেকে সব বয়সী মানুষের বিনোদন

গজনী অবকাশ শুধু প্রকৃতি দেখার জায়গা নয়; এখানে রয়েছে বিভিন্ন বিনোদনমূলক স্থাপনা ও ভাস্কর্য। ডাইনোসর, ড্রাগন, জিরাফ, হাতি ও মৎস্যকন্যার মতো বিভিন্ন প্রতিকৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। রয়েছে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও।

কৃত্রিম জলপ্রপাত, পাতাল পথ, পদ্ম সিঁড়ি, বিভিন্ন বাগান ও লেককেন্দ্রিক স্থাপনাগুলো গজনীকে দিয়েছে ভিন্নধর্মী বৈচিত্র্য। পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সময় ক্যাবল কার ও জিপলাইনসহ বিনোদনমূলক রাইডও চালু করা হয়েছে।

গারো ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির ছোঁয়া

গজনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এখানকার পাহাড়ি জনপদ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি। আদিবাসী পল্লী ও বিভিন্ন স্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় জীবনযাপন ও ঐতিহ্যের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ফলে প্রকৃতির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানারও সুযোগ তৈরি হয়।

পাহাড় রক্ষা করাই ভবিষ্যতের দায়িত্ব

গজনী শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি শেরপুরের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। পাহাড়, বন, ঝরনা, জীববৈচিত্র্য ও সীমান্তবর্তী পরিবেশ রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই সৌন্দর্য ধরে রাখা কঠিন হবে।

তাই পর্যটকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে—পাহাড়ে ময়লা না ফেলা, গাছপালা নষ্ট না করা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গজনী অবকাশে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। ২০২৬ সালের মার্চেও ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় কেন্দ্রটি মুখর হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

পর্যটন অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো গেলে গজনী শেরপুরের অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গজনী—ঝিনাইগাতীর গর্ব, শেরপুরের সৌন্দর্য

শহরের কোলাহল থেকে দূরে পাহাড়ের নীরবতা, সবুজ বনের ছায়া, লেকের শান্ত জল, পাখির ডাক আর সীমান্তের পাহাড়ি দৃশ্য—সবকিছু মিলিয়ে গজনী অবকাশ এক অন্যরকম অনুভূতির নাম।

গারো পাহাড় আমাদের প্রকৃতির সম্পদ।
গজনী পাহাড় আমাদের সৌন্দর্যের পরিচয়।
আর গজনী অবকাশ—ঝিনাইগাতীর গর্ব, শেরপুরের অহংকার।

প্রকৃতিকে ভালোবেসে, পাহাড়-বনকে রক্ষা করে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি সম্মান রেখে গজনীকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর করে গড়ে তোলাই হোক আমাদের সবার অঙ্গীকার।