ফিডের দামে দিশেহারা, লোকসানে বন্ধ হচ্ছে ত্রিশালের পোল্ট্রি খামার
পোল্ট্রি ফিডের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়েই চলেছে। বিপরীতে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম না পাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের শতাধিক প্রান্তিক খামারি। লোকসান সামাল দিতে না পেরে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ফিডের দাম কমানো, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস এবং ডিম-মুরগির ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ত্রিশাল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে শাহজালাল হোটেলের সামনে মানববন্ধন করেন খামারিরা। ‘ত্রিশালের সর্বস্তরের প্রান্তিক খামারিবৃন্দ’-এর ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে শতাধিক খামারি ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী অংশ নেন।
খামারিরা বলেন, ফিডের দাম বাড়লেও ডিম ও মুরগির বিক্রিমূল্য উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার চিন্তা করছেন।
ত্রিশাল বাজারের ফিড ব্যবসায়ী ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খামারিরা লোকসানে থাকায় দোকান থেকে বাকিতে নেওয়া ফিডের টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে পারছেন না অনেকেই। এতে ব্যবসায়ীদের পাওনাও আটকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কোম্পানি থেকে চড়া দামে ফিড কিনে এনে বিক্রি করেও লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। খামারি ও ব্যবসায়ীদের দাবি, ফিডের দাম কমানো এবং ডিম-মুরগির ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করা হোক।
মানববন্ধনে ফিডের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বন্ধে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং ফিড তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ফয়সল আহমেদ, নজরুল ইসলাম, ফয়জুর রহমান, মনিরুজ্জামান, আব্দুল গাফফার, আব্দুস সামাদ, আকরাম হোসেন, রাশেদ, আবু সাঈদ, আব্দুল করিম ও তুহিনসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, পোল্ট্রি খাত গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রান্তিক খামারিরা এ খাত থেকে ছিটকে পড়বেন।
খামারি ও ব্যবসায়ীরা সংকট নিরসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
~ এম.এ.এইচ রাকিবুল ইসলাম
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

























