1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চালকল মালিকদের কাছ থেকে বাড়তি ২ লাখ টন চাল কিনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চালকল মালিকদের কাছ থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে আরও দুই লাখ টন চাল কিনছে সরকার। ইতোমধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার টন চালের বরাদ্দপত্র দেওয়ার জন্য তালিকা করা হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালকল মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই অতিরিক্ত চাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত চাল বিক্রির জন্য প্রায় ৮৫০ চালকল মালিক আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে দেড় শতাধিক মালিক স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আধা-সরকারি পত্র বা ডিও লেটার আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

চালকল মালিকদের কাছে থাকা উদ্বৃত্ত চাল সরকার কিনে নেওয়ায় তা বাজারে আসছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চাল বাজারে সরবরাহ করা হলে খুচরা পর্যায়ে চালের দাম কিছুটা কমতে পারত। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকের পাশাপাশি ভোক্তারাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সংগ্রহ

চলতি বোরো মৌসুমে সরকার পাঁচ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও এক লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ধান সংগ্রহ হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ টন, সেদ্ধ চাল ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টন এবং আতপ চাল এক লাখ সাত হাজার ৬৪৭ টন।

অর্থাৎ ধান ও দুই ধরনের চালই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যেও আরও প্রায় দুই লাখ টন চাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৭ টন। গুদামগুলোর কার্যকর সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় ২২ লাখ ৯৫ হাজার টন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৪৪ হাজার টন বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।

এর আগে সরকার চালকল মালিকদের কাছ থেকে ২০ লাখ ২৩ হাজার ২৯৩ টন চাল কিনেছে।

কম দামে ধান কিনে মুনাফার অভিযোগ

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ ব্যবস্থায় কৃষকের তুলনায় চালকল মালিকরা বেশি সুবিধা পান। আর্দ্রতাসহ বিভিন্ন শর্তের কারণে কৃষকের ধান সরকারি গুদামে নেওয়া না হলে তাঁরা কম দামে চালকল মালিকদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

বোরো মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং ধান ৩৬ টাকা দরে কিনেছে। ২০২৪ সালের বোরো মৌসুমে এই দর ছিল যথাক্রমে ৪৫ ও ৩২ টাকা।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি সংগ্রহমূল্য বাড়ার পরও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় চালকল মালিকরা কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে মজুত করেছেন। নির্ধারিত পরিমাণ চাল সরকারকে দেওয়ার পরও উদ্বৃত্ত ধান থেকে গেছে। এখন সেই ধান থেকে তৈরি চাল আবার সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আউশের দামও কমেছে

বোরোর পর এবার আউশ ধানও কৃষকের ঘরে উঠেছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ধানের দাম কমেছে। নওগাঁর মহাদেবপুরে বর্তমানে আউশ ধান প্রতি মণ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে দাম ছিল প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আউশ ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪০ লাখ টন। সংস্থাটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা করছে।

সরকারি সংগ্রহে কৃষকের অংশগ্রহণ কম

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৭টি। বিপরীতে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধিত কৃষক মাত্র ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৩ জন। নিবন্ধিত চালকলের সংখ্যা ছয় হাজার ৩০১টি।

কৃষকের সরকারি দামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, নির্দিষ্ট আর্দ্রতার মাত্রা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এরপর আবেদন যাচাই ও লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এএইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, আর্দ্রতা, পরিবহন, সংগ্রহকেন্দ্রের দূরত্ব ও অর্থপ্রাপ্তির জটিলতার কারণে অনেক কৃষক সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। কৃষকের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সহজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

বন্ধ মিলের সঙ্গেও চুক্তির অভিযোগ

অতিরিক্ত চাল কেনার পাশাপাশি সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থায় চুক্তিবদ্ধ কিছু মিলের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, মূল সংগ্রহের সময় যে মিলার এক হাজার টন চালও সরবরাহ করতে পারেননি, এমনকি যার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ছয় টন, তিনিও এখন পাঁচ হাজার টন চালের বরাদ্দ চাইছেন।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কয়েকটি চালকলের সঙ্গেও সরকারি চাল সরবরাহের চুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চান্দাইকোনার আনোয়ারা সেমি অটো চালকল এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকলেও চলতি বছর ওই মিল থেকে ১১৯ টন চাল কেনার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে রায়গঞ্জের পাঁচটি মিলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ।

রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলাতেও চুক্তিবদ্ধ মিলের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু মিলারের নিজস্ব মিল বা চাতাল নেই। কেউ ভাড়া করা মিল ব্যবহার করছেন, আবার কেউ অন্যের মিল নিজের নামে দেখিয়ে সরকারি সংগ্রহে অংশ নিচ্ছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন বলেন, চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল কেনার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সুপারিশ এসেছে। মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে বলা হয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক লাখ ১৫ হাজার টন চালের বরাদ্দপত্র দেওয়ার জন্য তালিকা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার ধানের দাম কম থাকায় সরকারকে চাল সরবরাহ করে মিলাররা লাভবান হয়েছেন। সে কারণে তাঁদের আগ্রহও বেশি।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহে আর্দ্রতাসহ কিছু কারিগরি সমস্যা রয়েছে। কৃষকের সুবিধার জন্য মৌসুম শেষ হওয়ার এক থেকে দুই মাস পর ধান কেনার একটি নীতি করার কথা ভাবছে সরকার। এতে কৃষক ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং সরকার সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:০২ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

চালকল মালিকদের কাছ থেকে বাড়তি ২ লাখ টন চাল কিনছে সরকার

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:০২ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চালকল মালিকদের কাছ থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে আরও দুই লাখ টন চাল কিনছে সরকার। ইতোমধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার টন চালের বরাদ্দপত্র দেওয়ার জন্য তালিকা করা হয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চালকল মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই অতিরিক্ত চাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত চাল বিক্রির জন্য প্রায় ৮৫০ চালকল মালিক আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে দেড় শতাধিক মালিক স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আধা-সরকারি পত্র বা ডিও লেটার আবেদনপত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

চালকল মালিকদের কাছে থাকা উদ্বৃত্ত চাল সরকার কিনে নেওয়ায় তা বাজারে আসছে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই চাল বাজারে সরবরাহ করা হলে খুচরা পর্যায়ে চালের দাম কিছুটা কমতে পারত। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষকের পাশাপাশি ভোক্তারাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সংগ্রহ

চলতি বোরো মৌসুমে সরকার পাঁচ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও এক লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ধান সংগ্রহ হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ১৪০ টন, সেদ্ধ চাল ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টন এবং আতপ চাল এক লাখ সাত হাজার ৬৪৭ টন।

অর্থাৎ ধান ও দুই ধরনের চালই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যেও আরও প্রায় দুই লাখ টন চাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৭ টন। গুদামগুলোর কার্যকর সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় ২২ লাখ ৯৫ হাজার টন। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৪৪ হাজার টন বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।

এর আগে সরকার চালকল মালিকদের কাছ থেকে ২০ লাখ ২৩ হাজার ২৯৩ টন চাল কিনেছে।

কম দামে ধান কিনে মুনাফার অভিযোগ

কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ ব্যবস্থায় কৃষকের তুলনায় চালকল মালিকরা বেশি সুবিধা পান। আর্দ্রতাসহ বিভিন্ন শর্তের কারণে কৃষকের ধান সরকারি গুদামে নেওয়া না হলে তাঁরা কম দামে চালকল মালিকদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

বোরো মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং ধান ৩৬ টাকা দরে কিনেছে। ২০২৪ সালের বোরো মৌসুমে এই দর ছিল যথাক্রমে ৪৫ ও ৩২ টাকা।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারি সংগ্রহমূল্য বাড়ার পরও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় চালকল মালিকরা কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে মজুত করেছেন। নির্ধারিত পরিমাণ চাল সরকারকে দেওয়ার পরও উদ্বৃত্ত ধান থেকে গেছে। এখন সেই ধান থেকে তৈরি চাল আবার সরকারের কাছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আউশের দামও কমেছে

বোরোর পর এবার আউশ ধানও কৃষকের ঘরে উঠেছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ধানের দাম কমেছে। নওগাঁর মহাদেবপুরে বর্তমানে আউশ ধান প্রতি মণ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই সময়ে দাম ছিল প্রায় এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আউশ ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪০ লাখ টন। সংস্থাটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের আশা করছে।

সরকারি সংগ্রহে কৃষকের অংশগ্রহণ কম

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে কৃষক পরিবারের সংখ্যা এক কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৭টি। বিপরীতে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নিবন্ধিত কৃষক মাত্র ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৩ জন। নিবন্ধিত চালকলের সংখ্যা ছয় হাজার ৩০১টি।

কৃষকের সরকারি দামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, নির্দিষ্ট আর্দ্রতার মাত্রা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এরপর আবেদন যাচাই ও লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এএইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, আর্দ্রতা, পরিবহন, সংগ্রহকেন্দ্রের দূরত্ব ও অর্থপ্রাপ্তির জটিলতার কারণে অনেক কৃষক সরকারি দামে ধান বিক্রির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। কৃষকের জন্য ডিজিটাল নিবন্ধন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সহজ করার প্রয়োজন রয়েছে।

বন্ধ মিলের সঙ্গেও চুক্তির অভিযোগ

অতিরিক্ত চাল কেনার পাশাপাশি সরকারি সংগ্রহ ব্যবস্থায় চুক্তিবদ্ধ কিছু মিলের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, মূল সংগ্রহের সময় যে মিলার এক হাজার টন চালও সরবরাহ করতে পারেননি, এমনকি যার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ছয় টন, তিনিও এখন পাঁচ হাজার টন চালের বরাদ্দ চাইছেন।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কয়েকটি চালকলের সঙ্গেও সরকারি চাল সরবরাহের চুক্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। চান্দাইকোনার আনোয়ারা সেমি অটো চালকল এক যুগের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকলেও চলতি বছর ওই মিল থেকে ১১৯ টন চাল কেনার চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে রায়গঞ্জের পাঁচটি মিলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন অর রশিদ।

রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলাতেও চুক্তিবদ্ধ মিলের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু মিলারের নিজস্ব মিল বা চাতাল নেই। কেউ ভাড়া করা মিল ব্যবহার করছেন, আবার কেউ অন্যের মিল নিজের নামে দেখিয়ে সরকারি সংগ্রহে অংশ নিচ্ছেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জামাল হোসেন বলেন, চালকল মালিকদের কাছ থেকে চাল কেনার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সুপারিশ এসেছে। মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে বলা হয়েছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক লাখ ১৫ হাজার টন চালের বরাদ্দপত্র দেওয়ার জন্য তালিকা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এবার ধানের দাম কম থাকায় সরকারকে চাল সরবরাহ করে মিলাররা লাভবান হয়েছেন। সে কারণে তাঁদের আগ্রহও বেশি।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহে আর্দ্রতাসহ কিছু কারিগরি সমস্যা রয়েছে। কৃষকের সুবিধার জন্য মৌসুম শেষ হওয়ার এক থেকে দুই মাস পর ধান কেনার একটি নীতি করার কথা ভাবছে সরকার। এতে কৃষক ধান শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং সরকার সরাসরি তাঁদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারবে।