1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩

পটুয়াখালীর বাউফলে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এ সময় তেঁতুলিয়া নদীসহ উপকূলীয় এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে নিষেধাজ্ঞার আগে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন বাউফলের হাজার হাজার জেলে। একদিকে মাছের আকাল, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—দুই সংকটে দিশেহারা তাদের জীবন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্রের প্রধান ইলিশ মৌসুমকে সামনে রেখে ট্রলার ও জাল মেরামত, জ্বালানি তেল ও বরফ কেনাসহ নানা খরচ মেটাতে দাদনদার, এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নেন জেলেরা। ভরা মৌসুমে বেশি মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের আশা থাকলেও এবার সেই আশায় গুড়েবালি।

বৈরী আবহাওয়া, অবৈধ জালে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন এবং নদীর নাব্যতা সংকটসহ নানা কারণে নদী ও সাগরে ইলিশের তেমন দেখা মেলেনি। অনেক জেলেই মাছ বিক্রি করে ট্রলারের জ্বালানি খরচও তুলতে পারেননি।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামের জেলে আফজাল মাঝি (৪৮) জানান, ট্রলার ও জাল মেরামত এবং জ্বালানি খরচের জন্য মহাজন ও এনজিও থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পুরো মৌসুমে মাছ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে নতুন করে তার দেনা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আগের দেনাসহ বর্তমানে তার মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ টাকা।

ধুলিয়া গ্রামের জেলে লোকমান হোসেনের (৪২) অবস্থাও একই। পুরো মৌসুমে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করে মাছ বিক্রি করতে পেরেছেন সাড়ে ৪ লাখ টাকার। আগের দাদন ও নতুন দেনা মিলিয়ে তার কাঁধে এখন প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ।

আফজাল ও লোকমানের মতো কালাইয়া, চন্দ্রদ্বীপ, নাজিরপুর, কেশবপুর ও ধুলিয়া ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার জেলে পরিবার ঋণ ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

বাউফল উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. বাবুল বেপারী বলেন, ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার সময় শতভাগ নিরাপদ করা না গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকেই নদীতে মৎস্য বিভাগ, পুলিশ, নৌপুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের যৌথ দল সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারি সহায়তার আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের চাল বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:০৩:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০৪:০৩:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৩

পটুয়াখালীর বাউফলে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এ সময় তেঁতুলিয়া নদীসহ উপকূলীয় এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।

তবে নিষেধাজ্ঞার আগে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন বাউফলের হাজার হাজার জেলে। একদিকে মাছের আকাল, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—দুই সংকটে দিশেহারা তাদের জীবন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্রের প্রধান ইলিশ মৌসুমকে সামনে রেখে ট্রলার ও জাল মেরামত, জ্বালানি তেল ও বরফ কেনাসহ নানা খরচ মেটাতে দাদনদার, এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নেন জেলেরা। ভরা মৌসুমে বেশি মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের আশা থাকলেও এবার সেই আশায় গুড়েবালি।

বৈরী আবহাওয়া, অবৈধ জালে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন এবং নদীর নাব্যতা সংকটসহ নানা কারণে নদী ও সাগরে ইলিশের তেমন দেখা মেলেনি। অনেক জেলেই মাছ বিক্রি করে ট্রলারের জ্বালানি খরচও তুলতে পারেননি।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামের জেলে আফজাল মাঝি (৪৮) জানান, ট্রলার ও জাল মেরামত এবং জ্বালানি খরচের জন্য মহাজন ও এনজিও থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। পুরো মৌসুমে মাছ বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে নতুন করে তার দেনা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আগের দেনাসহ বর্তমানে তার মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ টাকা।

ধুলিয়া গ্রামের জেলে লোকমান হোসেনের (৪২) অবস্থাও একই। পুরো মৌসুমে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ করে মাছ বিক্রি করতে পেরেছেন সাড়ে ৪ লাখ টাকার। আগের দাদন ও নতুন দেনা মিলিয়ে তার কাঁধে এখন প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ।

আফজাল ও লোকমানের মতো কালাইয়া, চন্দ্রদ্বীপ, নাজিরপুর, কেশবপুর ও ধুলিয়া ইউনিয়নের উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার জেলে পরিবার ঋণ ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

বাউফল উপজেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. বাবুল বেপারী বলেন, ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার সময় শতভাগ নিরাপদ করা না গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকেই নদীতে মৎস্য বিভাগ, পুলিশ, নৌপুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের যৌথ দল সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারি সহায়তার আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের চাল বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।