1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১২:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৪

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

গতকাল সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একনেক সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

তিনি বলেন, রামপালে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছিল না এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করা হবে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে বলেও জানান তিনি।

কয়লাকেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ

বর্তমান রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কাজ এগোয়নি। ফলে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রস্তুত করা বিপুল পরিমাণ জমি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ওই জমিতেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮৫ একর জমি ভরাট করেছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা অন্য কোনো স্থান নির্ধারণ না করেই প্রস্তুত জমি ব্যবহার করা হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়ন ও ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

তিন বছরের মধ্যে ত্রুটি হলে ঠিকাদারকেই মেরামত

একনেক সভায় অবকাঠামোর গুণমান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে ঠিকাদারকেই তা মেরামত করতে হবে। এ জন্য চুক্তিনামায় প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি-সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হবে।

এ ছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাকি বলেন, পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। জমে থাকা বৃষ্টির পানি সড়কের পৃষ্ঠ নষ্ট করে। তাই জনবসতিপূর্ণ এলাকার সড়ক প্রকল্পে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো সড়ক প্রকল্প পরিকল্পনা না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
৪

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

গতকাল সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একনেক সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

তিনি বলেন, রামপালে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছিল না এবং উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করা হবে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে বলেও জানান তিনি।

কয়লাকেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ

বর্তমান রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কাজ এগোয়নি। ফলে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রস্তুত করা বিপুল পরিমাণ জমি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ওই জমিতেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮৫ একর জমি ভরাট করেছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা অন্য কোনো স্থান নির্ধারণ না করেই প্রস্তুত জমি ব্যবহার করা হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়ন ও ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

তিন বছরের মধ্যে ত্রুটি হলে ঠিকাদারকেই মেরামত

একনেক সভায় অবকাঠামোর গুণমান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণের তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে ঠিকাদারকেই তা মেরামত করতে হবে। এ জন্য চুক্তিনামায় প্রয়োজনীয় গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি-সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হবে।

এ ছাড়া জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সাকি বলেন, পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থা গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। জমে থাকা বৃষ্টির পানি সড়কের পৃষ্ঠ নষ্ট করে। তাই জনবসতিপূর্ণ এলাকার সড়ক প্রকল্পে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো সড়ক প্রকল্প পরিকল্পনা না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।