নওগাঁর ধামইরহাটে বৃদ্ধা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ছোট ভাই ও ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫
নওগাঁর ধামইরহাটে হালিমা বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মামলা রুজুর এক দিনের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানখেতের আইলে হালিমা বেগমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় তাঁর এক কানের লতি কাটা এবং অপর কানের লতি ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে হত্যার শিকার বলে ধারণা করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর ধামইরহাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম এবং ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে ধামইরহাট উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নিহতের ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬), তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা (৪২), রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার প্রায় পাঁচ দিন আগে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। নিহত হালিমা বেগম ছিলেন নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যক্তা। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনুর বাড়ির পেছনে একটি টিনের ছাপড়ার ঘরে বসবাস করতেন। একটি গরু, তিনটি ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন এবং মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
তদন্তে উঠে এসেছে, হালিমার জমানো টাকা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও কানের দুল নিয়ে বিরোধ ছিল। পাশাপাশি জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং এলাকায় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেও কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হামিদুর রহমান হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। পরে অন্যরা মিলে তাঁর মুখ চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির কাছাকাছি একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যান। সেখানে হাত রশি দিয়ে বেঁধে গলা চেপে এবং পরনের ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে কানের দুল নেওয়ার জন্য তাঁর এক কানের লতি কেটে এবং অপর কানের লতি ছিঁড়ে ফেলা হয় বলে পুলিশের দাবি। এরপর মরদেহটি সরিয়ে বাঁশঝাড়ের পাশে ফেলে রাখা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের কানের দুলের একটি মজনু এবং অপরটি হামিদুর নিয়ে যান।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলার অপরাধ দমন ও প্রতিরোধ এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশের আগে গুরুত্বপূর্ণ: মূল তথ্যে মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে হত্যার স্থান পর্যন্ত দূরত্ব এবং মরদেহ সরানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নামের বর্ণনায় কিছু অসংগতি রয়েছে। প্রকাশের আগে পুলিশের মূল প্রেস বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে তথ্যগুলো মিলিয়ে নেবেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করাই যথাযথ।

























