মগড়াসহ অধিকাংশ নদীই বিলুপ্তির পথে
নদীমাত্রিক জেলা ছিল নেত্রকোনা। একসময় এ জেলার প্রসার ঘটেছিল নদীপথের জন্যই। লঞ্চ, স্টিমার, জাহাজসহ ছোটবড় নৌকায় বাণিজ্য হতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তসহ পাশর্^বর্তী কলকাতা পর্যন্ত। জেলার বিভিন্ন উপজেলাও এর জন্য ‘গঞ্জ’ হিসেবে পরিচতি লাভ করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনার আগের নাম ছিল কালীগঞ্জ বাজার। মগড়া নদীর কালীবাড়ি ঘাটে ব্যবসার প্রধান যোগাযোগ থাকার কারণে কালীগঞ্জ নামটি এখনো মানুষের মুখে মুখে রয়েই গেছে। কিন্তু জৌলুস হারিয়েছে সেই মগড়াসহ অন্য সব নদী। দখল আর দূষণে এখন মৃতপ্রায় এসব নদী। তার ওপর অর্ধশত বছরেও খনন না হওয়ায় অনেক নদী বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হাওরবেষ্টিত এ জেলায় একসময় পণ্য আনা-নেওয়া হতো নদীপথে, যা এখন পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। শুধু বর্ষাকাল ছাড়া এখন নৌ চলাচল করে না। তবে বর্ষাতেও সব জায়গায় নৌ চলাচল হয় না। ব্রিজসহ খনন ও দখলে অনেক নদী নাব্য হারিয়ে ফেলেছে। যে কারণে শুধু হাওর জনপদ ছাড়া নৌপথে চলাচল নেই।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকসহ বিভিন্ন সংস্থার গবেষণা তথ্য থেকে জানা গেছে, জেলার মধ্যে গেল দুই থেকে তিন দশক আগেও ৯৫টি নদী ছিল। খাল ছিল ৩২৯টি। হাওর ১৩৫টি। ছোটবড় বিল ছিল ৬৮০টি। তার মধ্যে ৫১টি নদী একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ২১টি নদী এখন বিপন্ন। বর্ষা মৌসুম মিলিয়ে কোনো রকমে নামকাওয়াস্তে চলমান নদী রয়েছে মাত্র ১৪টি।
পরিবেশকর্মী মো. অহিদুর রহমান জানান, কংশ, সোমেশ্বরী, মগড়া, ধনু, উব্দাখালি, মহাদেও, গণেশ্বরী, বালই, বউলাই, সাইডুলি, গুমাই, বিষণাই, ধনাইখালী, গোলাখালী নদীগুলোতে সারা বছর পানি থাকে না। মগড়া নদী থেকে দখলবাজদের উচ্ছেদ করতে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কিছুই হয়নি। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সাতটি বড় নদীসহ ১২২টি ছোটবড় নদী ও খাল ছিল। বড় সাত নদী হলো সোমেশ্বরী, কংস, মগড়া, উব্দাখালী, ধনু, ভোগাই ও গুমাই। এগুলোর দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার। ছোটবড় ১১৫টি নদীর দৈর্ঘ্য ৫১২৫.৬ কিলোমিটার। বর্তমানে এগুলো খালে পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, মগড়া নদী সিএস মূলে উচ্ছেদের আদেশ রয়েছে হাই কোর্ট থেকে। আমরা জরিপ করছি। কয়েকবার হলেও আবারও নতুন করে করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের নিয়েই আলোচনা সাপেক্ষে ম্যাপ দেখা হচ্ছে। খননের জন্য তালিকাও করা হচ্ছে।





















