1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. m3214sdaa@needforspeeds.online : alejandro3192 :
  3. mjhnmbv@needforspeeds.online : alexandramatos :
  4. fdvcd4343vvsdrt23@n8ncreator.ru : alycemack871088 :
  5. pashaigroman324@dyrochka.website : andersonpalazzi :
  6. asddgfsdewr2wrwer87wesa@tomorrow5.fun : andersonthrelkel :
  7. rebyatakotyata@dyrochka.website : angelikamaxfield :
  8. givememoney@needforspeeds.online : angiespooner7 :
  9. vkusnofs@needforspeeds.online : antoniaeastman2 :
  10. roberttaylor1755ywts@gsasearchengineranker.com : anyapraed2271 :
  11. zadaniesuety@dyrochka.website : audrycampion30 :
  12. mogyshiya@needforspeeds.online : beahaviland79 :
  13. info233@noreply0.com : boydehmann0971 :
  14. fgdfvbvdfsdfr3e4@n8ncreator.ru : carltonhilder5 :
  15. sereganeakter@needforspeeds.online : carmelonorman1 :
  16. asddgfsdewr232wrwerwesa@tomorrow5.fun : christamatthew :
  17. shishkirog@dyrochka.website : christencumpston :
  18. asddgfsde54wr2wrwerwesa@tomorrow5.fun : deanachittenden :
  19. thomaswilson2694l2du@welcometotijuana.com : devonquigley892 :
  20. olegkurapatov343@dyrochka.website : dixiekaylock :
  21. noledy@dyrochka.website : estellehanger :
  22. info230@noreply0.com : frankbyron68064 :
  23. asddgfsdewr278wrwerwesa@tomorrow5.fun : frederickacruse :
  24. fengzhang88955jj4n@seoautomationpro.com : gailfrancisco25 :
  25. davidwilson2900s4d@verifiedlinklist.com : gordonhand83 :
  26. jennifermartinez5223xvyc@gsasearchengineranker.com : gustavostamper :
  27. msdfxcv@needforspeeds.online : hannelorevigano :
  28. anthonydavis2330ycpr@gsasearchengineranker.com : hesterlangford :
  29. asddgfsdewr2wrwefdgrwesa@tomorrow5.fun : janessad72 :
  30. bolshayadurrka@dyrochka.website : janette8230 :
  31. richardhernandez3925iexx@travel-e-store.com : jaredwaldrop9 :
  32. mogyshfdgniya@needforspeeds.online : jasminpesina :
  33. mogyshiyabar@needforspeeds.online : jeanettekleiber :
  34. mayaal-ahmad102474wyf@seoautomationpro.com : judsonannunziata :
  35. jenniferbrown3524n04w@verifiedlinklist.com : keeshatiffany95 :
  36. realnodoing@needforspeeds.online : kennyzeigler678 :
  37. asddgfsdewr2wdfsdrwerwesa@tomorrow5.fun : lashawndaingle3 :
  38. info231@noreply0.com : loriballentine :
  39. info232@noreply0.com : lorijip35172 :
  40. afkgaming0ews@needforspeeds.online : maesparling76 :
  41. nadelallinks@dyrochka.website : mathias60a :
  42. asddgfsdewr2wrwerwegfh45sa@tomorrow5.fun : melbacaple :
  43. fdgdfwer454523423dswqdwqr@n8ncreator.ru : patriciaqmc :
  44. sarahmoore9649yrnp@welcometotijuana.com : randellrawlins :
  45. josephhernandez7903zgvy@travel-e-store.com : raymonfassbinder :
  46. paryod@dyrochka.website : reinaldobroun :
  47. dikiycoyot51@dyrochka.website : rhys50a6766 :
  48. asddgfsdewr762wrwerwesa@tomorrow5.fun : rosettadoughty1 :
  49. asddgfsdewr2wrwe2edfrfrwesa@tomorrow5.fun : saraghu625526580 :
  50. asddgfsdewr2wrwer867wesa@tomorrow5.fun : shawneemactier :
  51. ysloviyabananov@dyrochka.website : stuartaguilar44 :
  52. dmitrov1v@dyrochka.website : trenacastellano :
  53. asddgfsdewr2wrwerwesdfsdfsdfsa@tomorrow5.fun : troyranclaud56 :
  54. durovanton3423@dyrochka.website : ulyssesfree :
  55. barbarahernandez3773z8ik@gsasearchengineranker.com : veijere2358 :
  56. barbaraanderson7116r3sd@travel-e-store.com : vernelltzh :
  57. asddgfsdewr2wrwerweretsa@tomorrow5.fun : veronaholden654 :
  58. miyaboikasd@dyrochka.website : vjdlacy363 :
  59. dsfdsf34@needforspeeds.online : willmacias389 :
ঢাকা ১১:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসাকে ধর্ষণ করেছে ডলার, হত্যা করেছি আমি:সোহেল রানা

প্রতিনিধির নাম
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার নামে আট বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীকে হত্যার দায়ে ডলার নামে এক ব্যক্তির উপর চাপালেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। সোমবার (১ জুন) দুপুরে আদালতে সোহেল রানা চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, বাচ্চারে (রামিসা) ধর্ষণ করেছে ডলার। হত্যা করে লাশ টুকরা করেছি আমি।’

সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এরপর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলে সোহেল।
এদিন শুনানি উপলক্ষ্যে সকাল পৌনে ৮টার দিকে সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আর স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে বলেন, ‘শিশু রামিসা আক্তারকে বাসায় ডেকে নিয়ে বাথরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। তাকে বেঁধে নির্যাতনের একপর্যায়ে রামিসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আসামি তাকে মৃত ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শরীর থেকে গলা কেটে আলাদা করে। একই সঙ্গে বাথরুমের ভেতরেই তার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়।’

তিনি বলেন, ঘটনার দিন ভুক্তভোগীর মা রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য ডাকাডাকি করলে তাকে খুঁজে পাননি। পরে একটি জুতা দেখতে পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় আশপাশের লোকজন জড়ো হন। ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের দরজা খুললেও আসামিদের ফ্ল্যাটের দরজা না খোলায় সবার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।

পরে জানালা দিয়ে একজন ফ্ল্যাটের ভেতরে রক্ত দেখতে পান। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেছেন। তার স্ত্রী তখন উপস্থিত লোকজনকে জানান, তার স্বামী এমন ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও উপস্থাপন করতে পারেনি।’ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে আপত্তি জানান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে চান সোহেল রানা। তবে অনুমতি মেলেনি। পরে অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও পড়ে শোনানো হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং রামিসাকে হত্যায় বাধা না দিয়ে রক্ত ও আলামত নষ্টে সহযোগিতা করেছেন, যা হত্যার অপরাধের সহায়তা হিসেবে গণ্য হয়।

পরে বিচারক স্বপ্না আক্তারকে নিজেকে দোষী মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তখন তিনি তার স্বামী সোহেল রানাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি বলো আমি দোষী কিনা।’ এসময় সোহেল রানা আদালতে স্বপ্নাকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামিকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখেন। পরে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক।

এরপর কাঠগড়ায় একে অপরের সাথে কথা বলেন সোহেল ও স্বপ্না। এসময় সোহেল স্বপ্নাকে চিনতে করতে না করেন। তার (স্বপ্নার) কোন দোষ নেই বলে জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানায়। এরপর ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে স্বপ্নাকে কাঠগড়া থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় স্বামী সোহেল রানার দিকে অপলক দৃষ্টিতো তাকিয়ে থাকেন স্বপ্না। সোহেলও তাকে অভয় দিয়ে বলেন চিন্তা না করতে।

এরপর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে সোহেল উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন।’

আরও বলেন, ‘মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে।’ এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন।

আদালত থেকে নেওয়ার পথে সোহেল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মিরপুর-১১ নম্বর লাইনে বাড়ি ডলারের। রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার মুল আসামি ওই ডলার। ধর্ষণও ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন আপনারা (সাংবাদিকরা) সব পাবেন।’

সোহেল বলে, ‘আমার ওয়াইফ আমাকে সাহায্য করেনি। আমার ওয়াইফের কোনো দোষ নাই। দোষ ডলার করেছে। আমার দোষ আছে, ডলারেও দোষ আছে। আমি অতো অপরাধী না। আমি শুধু বাচ্চারে দু’টুকরো করেছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছে ডলার। আমার কোনো ডিএনএ টেস্ট নেয়নি। অটোমেটিক নিয়ে নিছে। ডলার আসাকে দুই লক্ষ টাকা দিছে। ডলার অনেক ধনী লোক, টাকাওয়ালা।’

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়— পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলের সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন রাখেন সোমবার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

রামিসাকে ধর্ষণ করেছে ডলার, হত্যা করেছি আমি:সোহেল রানা

আপডেট সময় : ০৫:০২:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার নামে আট বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীকে হত্যার দায়ে ডলার নামে এক ব্যক্তির উপর চাপালেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। সোমবার (১ জুন) দুপুরে আদালতে সোহেল রানা চিৎকার করে বলতে থাকে, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, বাচ্চারে (রামিসা) ধর্ষণ করেছে ডলার। হত্যা করে লাশ টুকরা করেছি আমি।’

সোমবার (১ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এরপর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলে সোহেল।
এদিন শুনানি উপলক্ষ্যে সকাল পৌনে ৮টার দিকে সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আর স্বপ্নাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করে বলেন, ‘শিশু রামিসা আক্তারকে বাসায় ডেকে নিয়ে বাথরুমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। তাকে বেঁধে নির্যাতনের একপর্যায়ে রামিসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে আসামি তাকে মৃত ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে শরীর থেকে গলা কেটে আলাদা করে। একই সঙ্গে বাথরুমের ভেতরেই তার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করা হয়।’

তিনি বলেন, ঘটনার দিন ভুক্তভোগীর মা রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য ডাকাডাকি করলে তাকে খুঁজে পাননি। পরে একটি জুতা দেখতে পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় আশপাশের লোকজন জড়ো হন। ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটের দরজা খুললেও আসামিদের ফ্ল্যাটের দরজা না খোলায় সবার মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।

পরে জানালা দিয়ে একজন ফ্ল্যাটের ভেতরে রক্ত দেখতে পান। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, আসামি সোহেল রানা পালিয়ে গেছেন। তার স্ত্রী তখন উপস্থিত লোকজনকে জানান, তার স্বামী এমন ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গেছেন। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মূসা কালিমূল্যাহ আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে মামলার তদন্ত শেষ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও উপস্থাপন করতে পারেনি।’ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে আপত্তি জানান তিনি।

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক সোহেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান। আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে চান সোহেল রানা। তবে অনুমতি মেলেনি। পরে অপর আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও পড়ে শোনানো হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং রামিসাকে হত্যায় বাধা না দিয়ে রক্ত ও আলামত নষ্টে সহযোগিতা করেছেন, যা হত্যার অপরাধের সহায়তা হিসেবে গণ্য হয়।

পরে বিচারক স্বপ্না আক্তারকে নিজেকে দোষী মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তখন তিনি তার স্বামী সোহেল রানাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তুমি বলো আমি দোষী কিনা।’ এসময় সোহেল রানা আদালতে স্বপ্নাকে নির্দোষ দাবি করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আগামিকাল মঙ্গলবার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন রাখেন। পরে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক।

এরপর কাঠগড়ায় একে অপরের সাথে কথা বলেন সোহেল ও স্বপ্না। এসময় সোহেল স্বপ্নাকে চিনতে করতে না করেন। তার (স্বপ্নার) কোন দোষ নেই বলে জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানায়। এরপর ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে স্বপ্নাকে কাঠগড়া থেকে পুলিশি নিরাপত্তায় হাজতখানায় নেওয়া হয়। এসময় স্বামী সোহেল রানার দিকে অপলক দৃষ্টিতো তাকিয়ে থাকেন স্বপ্না। সোহেলও তাকে অভয় দিয়ে বলেন চিন্তা না করতে।

এরপর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে সোহেল উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দেন।’

আরও বলেন, ‘মেয়েটাকে এনে দিতে পারলে ডলার তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে।’ এরপর পুলিশ সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন।

আদালত থেকে নেওয়ার পথে সোহেল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মিরপুর-১১ নম্বর লাইনে বাড়ি ডলারের। রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার মুল আসামি ওই ডলার। ধর্ষণও ডলার করছে, মারছেও ডলার। ওরে ধরেন আপনারা (সাংবাদিকরা) সব পাবেন।’

সোহেল বলে, ‘আমার ওয়াইফ আমাকে সাহায্য করেনি। আমার ওয়াইফের কোনো দোষ নাই। দোষ ডলার করেছে। আমার দোষ আছে, ডলারেও দোষ আছে। আমি অতো অপরাধী না। আমি শুধু বাচ্চারে দু’টুকরো করেছি। ধর্ষণ করছে ডলার, মারছে ডলার। আমার কোনো ডিএনএ টেস্ট নেয়নি। অটোমেটিক নিয়ে নিছে। ডলার আসাকে দুই লক্ষ টাকা দিছে। ডলার অনেক ধনী লোক, টাকাওয়ালা।’

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ বলেছে, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়— পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলের সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্র দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন রাখেন সোমবার।