1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬’ পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনের মাধ্যমে ১৫৯ বছর আগে প্রণীত ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ বাতিল করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিনির্ভর জুয়ার বিস্তার ঘটলেও পুরোনো আইন এসব অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর ছিল না।

নতুন আইনে জুয়া, ডিজিটাল জুয়া, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল ওয়ালেট, প্ল্যাটফর্ম, টোটালাইজেটর, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট ২৪টি বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা, জুয়ার সরঞ্জাম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া অনলাইন বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেটেরও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনে বিভিন্ন অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬’ পাস

আপডেট সময় : ০২:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনের মাধ্যমে ১৫৯ বছর আগে প্রণীত ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭’ বাতিল করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল যুগে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সিনির্ভর জুয়ার বিস্তার ঘটলেও পুরোনো আইন এসব অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর ছিল না।

নতুন আইনে জুয়া, ডিজিটাল জুয়া, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল ওয়ালেট, প্ল্যাটফর্ম, টোটালাইজেটর, বাজিকর, ম্যাচ ফিক্সিংসহ মোট ২৪টি বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ বা চ্যানেল পরিচালনা, জুয়ার সরঞ্জাম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং স্পনসরশিপও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া অনলাইন বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ওয়ালেটেরও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনে বিভিন্ন অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধকে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালিত হবে।