ফুলেল শ্রদ্ধা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান শেষে বনানীতে দাফন মুস্তাফা মনোয়ার
একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী এবং দেশের পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারকে ফুলেল শ্রদ্ধা, গার্ড অব অনার ও তিন দফা জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘর থেকে তার মরদেহ নেওয়া হয় দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে। সেখানে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম জানাজায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলমসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরে বেলা ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রয়াত এই গুণী শিল্পীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নীমা রহমান ও ত্রপা মজুমদারসহ অনেকে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউট, কর্মজীবী নারী, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, প্রাচ্যনাট, বটতলা নাট্যদলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন সাংগঠনিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।
পরবর্তীতে মরদেহ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন ও তৃতীয় জানাজা শেষে বিকেলে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন দেশবরেণ্য এই শিল্পী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিউমোনিয়া ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
















