চট্টগ্রাম-৪ আসন : দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণার নজির আছে
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল কাশেমের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানকে সংসদ সদস্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবুল কাশেম এক লাখ ৪৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান পান ৭২ হাজার ৮০৫ ভোট।
নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে ঋণ ও বিলখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন মাহমুদুল হাসান। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আবুল কাশেমের সংসদ সদস্যপদ বাতিল করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী মাহমুদুল হাসানকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে আবুল কাশেম রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর নির্বাচন কমিশন মাহমুদুল হাসানকে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে গেজেট প্রকাশ করে। ২০১২ সালের ৮ আগস্ট আদালতের রায়ের পর মাহমুদুল হাসান জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সেদিন তৎকালীন স্পিকার মো. আবদুল হামিদ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এদিকে আজ সীতাকুণ্ড-৪ আসনের বিএনপির আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ।
তবে পার্থক্য হলো, চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে জয়ী হলেও শপথ নিতে পারেননি। অন্যদিকে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আবুল কাশেম অন্যান্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন। এরপর বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হাসান তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় আবুল কাশেম ঋণ ও বিলখেলাপি ছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট এবং পরে আপিল বিভাগ তার নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশন তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল করে এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণা করে।
সীতাকুন্ড-৪ আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুনরায় ভোটও হতে পারে অথবা তাকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। আপিল বিভাগের পূর্নাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।















