1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও জোরদারে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস (ডিপিও)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া।

সোমবার (৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান, র‍্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট লেভেল (আরডিএল) ভেরিফিকেশন, কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (মোনুস্কো) থেকে বাংলাদেশি নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) প্রত্যাহারের পর নতুন মিশনে প্রতিস্থাপন, জাতিসংঘের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশিদের নিয়োগ, ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) মোতায়েন এবং ভবিষ্যৎ বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার। এ পর্যন্ত ২৬টি দেশের ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি জানান, শীর্ষ পুলিশ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য দুটি ফর্মড পুলিশ ইউনিটের আরডিএল ভেরিফিকেশনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে জাতিসংঘ পুলিশ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। ইউনিট দুটি জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিক সরঞ্জাম, নিজস্ব রসদ ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবলসহ প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুত যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি ডিপিওর সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১৮০ সদস্যের বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্যান্য মিশনে বিভিন্ন দেশের ইউনিট আনুপাতিকভাবে কমানো হলেও কঙ্গোতে শুধু বাংলাদেশের পুরো ইউনিট প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি দক্ষিণ সুদান, আবেয়ি বা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নতুন একটি বাংলাদেশি এফপিইউ মোতায়েনের অনুরোধ জানান।

জাতিসংঘের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সদর দপ্তর ও বিভিন্ন মিশনের পি-লেভেল এবং ডি-লেভেলের পদে যোগ্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। শান্তিরক্ষা মিশনের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ নারী ও পুরুষ কর্মকর্তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সিলেকশন অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম (এসএএটি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৭ কর্মকর্তার মধ্যে এখনও ৮৫ জন নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোতে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি আইপিওদের দ্রুত মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে পরবর্তী এসএএটি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতির বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

জবাবে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি কঙ্গো মিশনের ভারসাম্য ও সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন ও বিশেষায়িত পুলিশ দল গঠনে জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও জোরদারে আলোচনা

আপডেট সময় : ০৭:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করা এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব পিস অপারেশনস (ডিপিও)-এর আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া।

সোমবার (৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জাতিসংঘ সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদান, র‍্যাপিড ডেপ্লয়মেন্ট লেভেল (আরডিএল) ভেরিফিকেশন, কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (মোনুস্কো) থেকে বাংলাদেশি নারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) প্রত্যাহারের পর নতুন মিশনে প্রতিস্থাপন, জাতিসংঘের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশিদের নিয়োগ, ইন্ডিভিজুয়াল পুলিশ অফিসার (আইপিও) মোতায়েন এবং ভবিষ্যৎ বিশেষায়িত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার। এ পর্যন্ত ২৬টি দেশের ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি জানান, শীর্ষ পুলিশ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও কার্যকারিতা আরও বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য দুটি ফর্মড পুলিশ ইউনিটের আরডিএল ভেরিফিকেশনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে জাতিসংঘ পুলিশ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। ইউনিট দুটি জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী আধুনিক সরঞ্জাম, নিজস্ব রসদ ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ জনবলসহ প্রস্তুত রয়েছে। দ্রুত যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তিনি ডিপিওর সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে কঙ্গোর মোনুস্কো মিশন থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে ১৮০ সদস্যের বাংলাদেশি নারী এফপিইউ প্রত্যাহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অন্যান্য মিশনে বিভিন্ন দেশের ইউনিট আনুপাতিকভাবে কমানো হলেও কঙ্গোতে শুধু বাংলাদেশের পুরো ইউনিট প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সমতা ও ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি দক্ষিণ সুদান, আবেয়ি বা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নতুন একটি বাংলাদেশি এফপিইউ মোতায়েনের অনুরোধ জানান।

জাতিসংঘের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সদর দপ্তর ও বিভিন্ন মিশনের পি-লেভেল এবং ডি-লেভেলের পদে যোগ্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। শান্তিরক্ষা মিশনের পরিবর্তিত চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ নারী ও পুরুষ কর্মকর্তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সিলেকশন অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট টিম (এসএএটি) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৭ কর্মকর্তার মধ্যে এখনও ৮৫ জন নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও কঙ্গোতে ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি আইপিওদের দ্রুত মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে পরবর্তী এসএএটি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতির বিষয়টিও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

জবাবে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যদের বীরত্ব, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি কঙ্গো মিশনের ভারসাম্য ও সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন ও বিশেষায়িত পুলিশ দল গঠনে জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।