হরমুজ ইস্যুতে ফের উত্তেজনা, ইরানে মার্কিন হামলার দাবি
যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে অবস্থানরত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখান থেকেই হামলার নির্দেশ দেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযান লক্ষ্যবস্তু ছিল।
মার্কিন পক্ষের অভিযোগ, সোমবার ও মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় ইরান। আন্তর্জাতিক নৌপথে এ ধরনের হামলার জবাব হিসেবেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সেন্টকম জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঙ্কারায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের সঙ্গে বৈঠকের পর হামলার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানের সময়কাল ও পরবর্তী পদক্ষেপ পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
সামরিক অভিযানের আগে ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত একটি ছাড়ও বাতিল করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরায়েল সফরের সম্ভাবনার কথাও জানা গেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার পর সেই সফরসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে দোহায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনা অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। এর ফলে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
























