1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদ্রাসার উপর পাহাড় ধস, ৮ শিক্ষার্থী নিহত, মাটিচাপা অনেক

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার :
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫ এ পাহাড় ধসে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজন ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বহু শিক্ষার্থী এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পড়ে।

রোহিঙ্গা যুবক মো. মোস্তাফা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি ছাত্রী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। কয়েকটি সূত্রে সেখানে ৮০ থেকে ১০০ জন শিশু থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে আটকে পড়াদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পাহাড়ধস শুরু হলে কয়েকজন ছাত্রী দৌড়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তবে অধিকাংশ কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ জন নিরাপদে বেরিয়ে আসার তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক আব্দুল্লাহর দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে। তাই জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থার পক্ষ থেকে হতাহত ও আটকে পড়াদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে মোহাম্মদ রশিদের ছেলে একরাম (৭) নিহত হয়। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদ্রাসার উপর পাহাড় ধস, ৮ শিক্ষার্থী নিহত, মাটিচাপা অনেক

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫ এ পাহাড় ধসে এখন পর্যন্ত অন্তত আটজন ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বহু শিক্ষার্থী এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজ বুধবার দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৩ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পড়ে।

রোহিঙ্গা যুবক মো. মোস্তাফা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ৩০ থেকে ৫০ জনের বেশি ছাত্রী কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। কয়েকটি সূত্রে সেখানে ৮০ থেকে ১০০ জন শিশু থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে আটকে পড়াদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পাহাড়ধস শুরু হলে কয়েকজন ছাত্রী দৌড়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। তবে অধিকাংশ কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ জন নিরাপদে বেরিয়ে আসার তথ্য পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিক আব্দুল্লাহর দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেক শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে। তাই জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ সংস্থার পক্ষ থেকে হতাহত ও আটকে পড়াদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত রবিবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে পরিবারের ১০ সদস্য অবস্থান করছিলেন। আহত এক কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাত ২টার দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে মোহাম্মদ রশিদের ছেলে একরাম (৭) নিহত হয়। এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হন।