1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে শিক্ষকসহ চার হত্যা: দুই আসামির স্বীকারোক্তির পরও কাটছে না রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১২

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তাদের জবানবন্দির পরও হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া ও আসামিদের চিনে ফেলায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, হত্যাকাণ্ডের ধরন এবং বাসায় থাকা ৬০ লাখ টাকার হদিস না পাওয়ায় নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

রোববার রাতে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। এ সময় গণপতি তাদের দেখে ফেলেন এবং ইয়াবা সেবনে বাধা দেন। এরপর তারা গণপতিসহ পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পুলিশের দাবি।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের প্রশ্ন, ছাদের দরজা খোলার শব্দ পেয়ে আসামিরা পালিয়ে না গিয়ে কেন চারজনকে হত্যা করতে গেলেন? মাত্র দুজন তরুণ কীভাবে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করল, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সময় বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিও রহস্য তৈরি করেছে। পুলিশের দাবি, আসামিরা আলমারি ঘেঁটে স্বর্ণালংকার লুট করেছে। তবে স্বজনদের অভিযোগ, ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাসায় রাখা প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। ওই অর্থের কী হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জিলা স্কুলের সামনের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চলা অবরোধে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তার ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীও এই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে কীভাবে পুলিশ এত বড় হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করছে। তারা ঘটনার পেছনে পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।

জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী পুলক রহমান বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান বলেন, চারজন মানুষকে মাত্র দুজন শারীরিকভাবে দুর্বল তরুণ কীভাবে হত্যা করল, তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা ও সংবাদ সম্মেলনের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

রোববার বিকেলে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে স্পর্শকাতর মামলাটির তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে।

তিনি বলেন, আসামিরা পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যই আদালতে স্বীকার করেছেন। দ্রুত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তও চলছে।

এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

রংপুরে শিক্ষকসহ চার হত্যা: দুই আসামির স্বীকারোক্তির পরও কাটছে না রহস্য

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১২

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই তরুণ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তাদের জবানবন্দির পরও হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়া ও আসামিদের চিনে ফেলায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, হত্যাকাণ্ডের ধরন এবং বাসায় থাকা ৬০ লাখ টাকার হদিস না পাওয়ায় নানা প্রশ্ন তুলেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

রোববার রাতে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবন করছিলেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। এ সময় গণপতি তাদের দেখে ফেলেন এবং ইয়াবা সেবনে বাধা দেন। এরপর তারা গণপতিসহ পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পুলিশের দাবি।

তবে পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতদের স্বজন, প্রতিবেশী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের প্রশ্ন, ছাদের দরজা খোলার শব্দ পেয়ে আসামিরা পালিয়ে না গিয়ে কেন চারজনকে হত্যা করতে গেলেন? মাত্র দুজন তরুণ কীভাবে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করল, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সময় বাড়ির বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিও রহস্য তৈরি করেছে। পুলিশের দাবি, আসামিরা আলমারি ঘেঁটে স্বর্ণালংকার লুট করেছে। তবে স্বজনদের অভিযোগ, ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাসায় রাখা প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। ওই অর্থের কী হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জিলা স্কুলের সামনের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা চলা অবরোধে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তার ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীও এই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে কীভাবে পুলিশ এত বড় হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করছে। তারা ঘটনার পেছনে পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান।

জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী পুলক রহমান বলেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুবায়ের হাসান বলেন, চারজন মানুষকে মাত্র দুজন শারীরিকভাবে দুর্বল তরুণ কীভাবে হত্যা করল, তা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা ও সংবাদ সম্মেলনের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

রোববার বিকেলে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী।

মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করতে আগ্রহ প্রকাশ করায় তাদের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে স্পর্শকাতর মামলাটির তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির উপকমিশনার (ডিসি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে।

তিনি বলেন, আসামিরা পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যই আদালতে স্বীকার করেছেন। দ্রুত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তও চলছে।

এর আগে শনিবার রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।