বিশ্বকাপ টিকেটের দাম কেন এতো বেশি, জানালের ফিফা সভাপতি
বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে সমালোচনার ঝড় বইছে, তার সরাসরি জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফিফার টিকিটের মূল্য কাঠামোকে সমর্থকদের পক্ষ থেকে ‘অত্যধিক’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হলেও ইনফান্তিনো একে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির স্বাভাবিক প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন।
সম্প্রতি বেভারলি হিলসে অনুষ্ঠিত মিলকেন ইনস্টিটিউট গ্লোবাল কনফারেন্সে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, টিকিটের এই উচ্চমূল্য আসলে ফুটবলপ্রেমীদের ব্যাপক চাহিদারই বহিঃপ্রকাশ।
গত সপ্তাহে ফিফার নিজস্ব রিসেল প্ল্যাটফর্ম ফিফা মার্কেটপ্লেসে নিউইয়র্কের ফাইনাল ম্যাচের কিছু টিকিটের দাম ২০ লাখ ডলার ছাড়িয়ে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে ক্রীড়া বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়। এ প্রসঙ্গে রসিকতা করে ফিফা সভাপতি বলেন, কেউ যদি সত্যিই ২০ লাখ ডলারে টিকিট কেনে, তবে তিনি নিজে তাকে মাঠের গ্যালারিতে হট ডগ ও কোক পরিবেশন করবেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্রে টিকিট পুনর্বিক্রি বৈধ হওয়ার কারণেই বাজারদর অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণ করতে হচ্ছে ফিফাকে। যদি ফিফা টিকিটের দাম কম রাখে, তবে কালোবাজারিরা সেই সুযোগ নিয়ে চড়া মূল্যে টিকিট বিক্রি করবে, যা থেকে ফিফা কোনো মুনাফা পাবে না।
সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোটার্স ইউরোপ (এফএসই) কাতার বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের মূল্যের তুলনা টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ২০২২ সালে যেখানে ফাইনালের সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ছিল ১৬০০ ডলার, সেখানে ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ হাজার ডলারে। এর প্রতিবাদে ফিফার বিরুদ্ধে মামলাও করেছে সংগঠনটি। তবে ইনফান্তিনোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত বিনোদন বাজার এবং এখানকার পেশাদার ম্যাচগুলোর তুলনায় বিশ্বকাপের টিকিটের দাম মোটেও বেশি নয়। তিনি যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০০ ডলারের নিচে কোনো ভালো মানের কলেজ ফুটবল ম্যাচও দেখা সম্ভব হয় না, আর সেখানে বিশ্বকাপের ২৫ শতাংশ টিকিটের দাম ৩০০ ডলারের নিচে রাখা হয়েছে।
বিশ্বকাপের টিকিটের প্রতি মানুষের আকর্ষণের তথ্য তুলে ধরে ফিফা সভাপতি জানান, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপ মিলিয়ে মোট ৫ কোটিরও কম আবেদন জমা পড়েছিল। অথচ আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ কোটিরও বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। এই বিশাল চাহিদার কারণেই ফিফা বাজার বাস্তবতা ও স্থানীয় আইনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।





















