পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে ম্যাচটা অনেকটাই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পাকিস্তানের সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য, হাতে মাত্র তিন উইকেট, সবমিলিয়ে জয় তখন টাইগারদের দিকেই ঝুঁকে ছিল। তবে পঞ্চম দিনের সকালে মুহূর্তের জন্য হলেও ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান।
দুই ব্যাটারই শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে রিজওয়ান ছিলেন দারুণ দৃঢ়। আর সাজিদ খানও খেলছিলেন সাবলীলভাবে। একসময় পাকিস্তান শিবিরেও জয়ের স্বপ্ন জাগতে শুরু করে। দিনের শুরুতেই অবশ্য বড় সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ তুলেছিলেন রিজওয়ান, কিন্তু সেই সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
সেই জীবন পেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন রিজওয়ান। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আবারও বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে হাজির হন তাইজুল ইসলাম। প্রথমে সাজিদ খানকে আউট করে ভাঙেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ৩৬ বলে ২৮ রান করে ফেরেন সাজিদ। একই সঙ্গে নিজের পাঁচ উইকেটও পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
এর পর নজর ছিল রিজওয়ানের দিকে। সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার ব্যাটার। কিন্তু তাকে শতকের আনন্দ পেতে দেননি শরিফুল ইসলাম। মিরাজের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৬৬ বলে ৯৪ রান করেন রিজওয়ান। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার।
আর ম্যাচে টিকতে পারেনি পাকিস্তান। খুররাম শেহজাদকে আউট করে শেষ আঘাতটাও হানেন তাইজুল। শেষ পর্যন্ত ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৫৮ রানে। ফলে ৭৮ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এই জয়ে ইতিহাসও গড়েছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে এবারই প্রথম টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। মিরপুরের পর সিলেটেও দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন তাইজুল ইসলাম। ৩৪.২ ওভার বল করে ১২০ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন এই স্পিনার। এছাড়া নাহিদ রানা নেন দুটি উইকেট। আর শরিফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ পান একটি করে উইকেট।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ তোলে ২৭৮ রান। জবাবে পাকিস্তান থামে ২৩২ রানে। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ তোলে ৩৯০ রান, তাতেই পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য।























