ইভি বিপ্লবের পথে বাংলাদেশ, নতুন আশায় বাঘ ইকো মোটরস
দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা, হতাশা, প্রশাসনিক জটিলতা আর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে আশার আলো দেখছেন বৈদ্যুতিক যানবাহন উদ্যোক্তা কাজী জসীমুল ইসলাম। তার দাবি, আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের মাধ্যমে শুধু একটি কোম্পানির পথই খুলেনি, বরং বাংলাদেশের পরিবহন খাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বাঘ ইকো মোটরস লিমিটেডের এই উদ্যোক্তা একে বলছেন— “আধুনিকতার সিংহদুয়ার।”
তার ভাষায়, “অনেক লোকসানের পর দেশের উন্নয়ন ও লাভের জন্য একটা সিংহদুয়ার খুলে গেলো। ব্যক্তিগত ক্ষতি থাক, কিন্তু সমষ্টির উপকার হবে— এই প্রাপ্তিই সবচেয়ে বড়।”
‘ফিরিয়ে দাও আমার এতগুলো বছর’
আদালতের রায় পাওয়ার পর পুরোনো এক সিনেমার সংলাপ মনে পড়ে যায় কাজী জসীমুল ইসলামের। যেখানে এক ব্যক্তি বিনা দোষে দীর্ঘ কারাভোগের পর চিৎকার করে বলেছিলেন— “ফিরিয়ে দাও আমার ১২টি বছর”।
তবে নিজের বাস্তবতার সঙ্গে সেই সংলাপ মিলিয়ে উদ্যোক্তা বলেন, “আমি কোনও গল্পের চরিত্র নই। চিৎকার করে কাঁদতে পারবো না। তবে আয়ুক্ষয় হয়েছে, সময় চলে গেছে। সেই সময় আর ফিরে পাবো না।” তার মতে, ২০১৮ সালে যে স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় নিবন্ধন ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা। আধুনিক প্রযুক্তির যানবাহন তৈরি করেও তা সড়কে নামানোর অনুমতি না পাওয়ায় আটকে যায় পুরো পরিকল্পনা।
যে স্বপ্ন আটকে ছিল আইনের মারপ্যাঁচে
বিশ্ব যখন দ্রুত বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে, তখন বাংলাদেশেও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করেন কাজী জসীমুল ইসলাম। তার ভাবনায় ছিল— শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং পুরো নগর পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা।
তিনি মনে করেন, দেশের শহরগুলোতে চলাচলকারী দুই, তিন ও চার চাকার অনেক যানবাহনের আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সেগুলো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর করা গেলে মানুষের জীবনযাত্রায়ও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তার পরিকল্পনায় ছিল— দেশীয় কারখানায় আধুনিক ইভি যানবাহন উৎপাদন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, অ্যাসিডমুক্ত ব্যাটারি প্রযুক্তি, যাত্রীদের জন্য ওয়াই-ফাই সুবিধা, কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিবহন নেটওয়ার্ক। কিন্তু বাস্তবে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।
তিনি বলেন, “যেকোনও নতুন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে মানুষের দ্বিধা থাকে। তাই আমরা চেয়েছিলাম কিছু যানবাহন রাস্তায় নামুক, মানুষ ব্যবহার করুক, স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করুক। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি।”
অ্যাসিড ব্যাটারির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
কাজী জসীমুল ইসলামের বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে অ্যাসিড ব্যাটারির পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়টি। তার মতে, বর্তমানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহৃত অনেক ব্যাটারিচালিত যানবাহনে এসিড ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, “অসাবধানতায় প্রতিদিন মাটি ও পানিতে এসিড মিশে যাচ্ছে। মাছ, ফসলের মাধ্যমে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও জীবন।” এ কারণেই পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ প্রযুক্তির ওপর জোর দেন তিনি।
ঢাকার রাস্তায় পরিবর্তনের বাস্তবতা
ঢাকার রাস্তায় গত এক দশকে বড় পরিবর্তন এসেছে। একসময় যেখানে প্যাডেলচালিত রিকশা ছিল প্রধান বাহন, সেখানে এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে মোটরচালিত ব্যাটারিচালিত রিকশা। তবে কাজী জসীমুল ইসলামের দাবি, এসব যানবাহনের অধিকাংশই অনিয়ন্ত্রিত ও নিরাপত্তাহীন। তার মতে, “যাত্রী ও চালকদের কাছে আরামদায়ক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এসব বাহনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।” তিনি মনে করেন, সঠিক নীতিমালা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ করে আধুনিক ইভি চালু করা গেলে শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপদ পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আদালতের রায়ে কী বদলালো
যদিও আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবে উদ্যোক্তার দাবি— এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি নীতিগত অচলাবস্থা ভাঙার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, “যে যানবাহনগুলো শহরের রাস্তায় জনসেবায় চমৎকার ভূমিকা রাখতে পারতো, তা রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না— এমন নিয়মের কারণে আধুনিকতা আমাদের জীবনে যুক্ত হতে পারেনি।” তিনি আরও বলেন, “কেন পারবে না— এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আট বছর লেগে গেছে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আদালতের এ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের নিবন্ধন, অনুমোদন ও নীতিমালার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
দেশে ইভি শিল্পের বাস্তবতা
বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইউরোপ, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলো ইতোমধ্যে ইভিকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে গেছে।
বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে ইভি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি, পরিবেশ দূষণ ও নগর পরিবহনের সংকটের কারণে বিকল্প প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে। তবে এখনও দেশে ইভি শিল্পের বড় চ্যালেঞ্জগুলো হলো— সুস্পষ্ট নীতিমালার অভাব, নিবন্ধন জটিলতা, চার্জিং অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, আমদানি নির্ভর যন্ত্রাংশ, বিনিয়োগ ঝুঁকি, প্রযুক্তিগত মান নিয়ন্ত্রণের অভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীতিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশেও স্থানীয়ভাবে ইভি উৎপাদনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
‘আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি’
কাজী জসীমুল ইসলামের মতে, আদালতের রায়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে তার মানসিক অবস্থায়। তিনি বলেন, “যে আত্মবিশ্বাস আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল, আবার সে আমার হয়েই ফিরে এসেছে। এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।” তার বিশ্বাস, এখন দেশের মানুষ আধুনিক প্রযুক্তির যানবাহনের সুবিধা বুঝতে পারবে। দেশীয় প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পও বিকশিত হতে পারে।
তরুণদের দেশ, নতুন প্রযুক্তির সময়
দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রতি আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এই উদ্যোক্তা। প্রধানমন্ত্রীর ইভি চালানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘এটি ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির প্রতি রাষ্ট্রের আগ্রহের প্রতীক।’’ তার মতে, “দেশ পুরোনো ধারণায় আটকে থাকবে না। তরুণদের দেশকে আগামীর প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।”
নতুন শিল্প খাতের সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্প শুধু পরিবহন খাতেই নয়, নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়ভাবে ইভি উৎপাদন, ব্যাটারি প্রযুক্তি, সফটওয়্যার, চার্জিং স্টেশন, সৌরবিদ্যুৎনির্ভর পরিবহন— সব মিলিয়ে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা, প্রযুক্তিগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ। আট বছরের দীর্ঘ লড়াই শেষে কাজি জসীমুল ইসলাম এখন সেই সম্ভাবনার দিকেই তাকিয়ে আছেন। তার ভাষায়, “মানুষ বিশ্বাস করবে— মানুষের কল্যাণ নিয়ে ভাবনার মানুষ এ দেশেও আছে।”
দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা
২০১৮ সাল থেকে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন ‘বাঘ’ চালুর উদ্যোগ নেন উদ্যোক্তা কাজী জসীমুল ইসলাম বাপ্পি। দেশীয় প্রযুক্তিতে আধুনিক ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল) তৈরি করে নগর পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার।
উদ্যোক্তার দাবি, বুয়েটসহ বিভিন্ন কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষার দীর্ঘ ৪২ মাসের প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের মার্চে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কেন্দ্রীয়ভাবে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দেয়। তবে এরপরও জেলা পর্যায়ের রোড ট্রান্সপোর্ট কমিটির (আরটিসি) অনুমতি না মেলায় এতদিন সড়কে নামানো সম্ভব হয়নি ‘বাঘ’ ইভি।
দীর্ঘদিনের এই প্রশাসনিক ও নীতিগত জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তারা।
‘বাঘ’ ইভিতে থাকছে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা
উদ্যোক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বাঘ’ শুধু একটি যানবাহন নয়; বরং এটি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নগর পরিবহন ব্যবস্থার একটি নতুন ধারণা। প্রতিটি ‘বাঘ’ ইভিতে থাকছে— সৌরবিদ্যুৎনির্ভর চার্জিং সুবিধা, সোয়াপেবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, জিপিএস ও ওয়াইফাই সংযোগ, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ সুবিধা, সাতজন যাত্রী বহনের সক্ষমতা এবং উন্নতমানের ইস্পাত কাঠামো, যা দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ।
উদ্যোক্তাদের দাবি, গাড়িটি প্রতি কিলোমিটার চলবে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ পয়সা খরচে। একবার পূর্ণ চার্জে চলতে পারবে প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এছাড়া সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার চলার সক্ষমতা থাকবে। উদ্যোক্তা বাপ্পী বলেন, “বাঘ সড়কে নামানো গেলে রাজধানীর মানুষ সাশ্রয়ী ভাড়া ও নিরাপদ যাতায়াত সুবিধা পাবেন। একইসঙ্গে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।”
অর্থনীতি ও পরিবেশে বড় সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ— দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উদ্যোক্তাদের হিসাব অনুযায়ী, ‘বাঘ’ ইভি চালু হলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে। প্রতিবছর সরকার প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারে। পাশাপাশি কার্বন ক্রেডিট সুবিধা ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকেও অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলচালিত যানবাহনের ধোঁয়া, কার্বন নিঃসরণ এবং অবৈধ ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে রাজধানীতে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব বৈধ ইভি চালু করা গেলে বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
রাজধানীতে বৈদ্যুতিক বাসের পরিকল্পনা
এদিকে ঢাকা শহরে ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক গণপরিবহন চালুর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীতে ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস নামানোর উদ্যোগ রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই বছরের মধ্যে বাসগুলো চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে পূর্বাচল ও কাঁচপুর এলাকায় দুটি চার্জিং ডিপো নির্মাণ করা হবে। পরে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এসব বাস চলাচল করবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু গাড়ি বা বাস আমদানি করলেই হবে না; এর সঙ্গে প্রয়োজন শক্তিশালী চার্জিং অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিবহন নীতি, প্রযুক্তিগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। তাদের মতে, নীতিগত সমর্থন ছাড়া ব্যয়বহুল ইভি প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
‘বাঘ’ কি হতে পারে টেকসই সমাধান?
বাংলাদেশ বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ— উভয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সিসা দূষণ, কার্বন নিঃসরণ, বায়ুদূষণ এবং অপরিকল্পিত ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিস্তার জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। এ অবস্থায় পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বৈধ ইভি সড়কে নামানো গেলে তা শুধু রাজধানী নয়, পুরো দেশের জন্য একটি টেকসই সমাধান হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এমন উদ্যোগ সফল হলে নতুন শিল্পখাত, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন সরকারের সুস্পষ্ট নীতিগত সহায়তা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়— দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পর ‘বাঘ’ সত্যিই দেশের রাস্তায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে কিনা।


























