বহুরোগে আক্রান্ত ঈশ্বরগঞ্জের গ্রামীণ সড়ক—খসে পড়ছে ‘চামড়া’, মিলছে না প্রতিকার
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়বাজার থেকে খালবলা বাজার হয়ে দিঘালিয়া পেরিয়ে নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নে যাওয়ার প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি যেন এখন আর একটি সড়ক নয়; দীর্ঘদিনের অবহেলায় বহুরোগে আক্রান্ত এক অসুস্থ দেহ। কোথাও কার্পেটিংয়ের ‘চামড়া’ খসে পড়েছে, কোথাও গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও বেরিয়ে এসেছে লাল মাটির শরীর। এর সঙ্গে দিঘালিয়া অংশের পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়ায় পুরো সড়কটি স্থানীয়দের কাছে এখন যেন এক ‘মরণফাঁদ’।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে সড়কটি কার্যকর সংস্কার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন সময়ে আংশিক মেরামত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি। সম্প্রতি খালবলা বাজারের ভেতরে কয়েক মিটার অংশে উন্নয়নকাজ হলেও বাকি অংশ আগের মতোই চলাচলের অনুপযোগী রয়ে গেছে।
সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে যে চিত্র তৈরি হয়েছে, তা অনেকটা ত্বকের একজিমা বা সোরিয়াসিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষতের মতো। কোথাও কার্পেটিং এমনভাবে উঠে এসেছে, যেন পুরোনো ক্ষতের ওপর জমে থাকা মৃত চামড়া। বর্ষার পানি, ভারী যানবাহনের চাপ এবং দীর্ঘদিনের অবহেলায় সেই ক্ষত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। কোথাও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে সড়কটি এমন দুর্বল হয়ে পড়েছে, যেন অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হাড়—সামান্য চাপেই নতুন অংশ ভেঙে পড়ছে।
প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ, কৃষক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালক। বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভাঙা কালভার্টের কারণে অনেক সময় বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়, ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটিই বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও কালভার্ট সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কে সাময়িক জোড়াতালি নয়, প্রয়োজন টেকসই ও মানসম্মত সংস্কার। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্টটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। তাদের মতে, এতে একদিকে যেমন নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

























