দাম না পেয়ে সড়ক-নদীর পাশে স্তূপ চামড়া, হতাশ ব্যবসায়ীরা
কোরবানির ঈদের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা চামড়ার বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কোথাও আবার ক্রেতাই মিলছে না। এতে রাস্তার পাশে, নদীর ধারে ও খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে শত শত চামড়া।
অনেক জায়গায় দুর্গন্ধ ও লোকসান এড়াতে চামড়া মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করায় বাজারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, সিন্ডিকেটের কারণেই দামের এমন দরপতন। প্রতি পিস চামড়ায় যে দাম মিলছে, তাতে খরচই উঠছে না তাদের।
রাজধানীর পোস্তায় বড় গরুর চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন গণমাধ্যমকে জানান, একটি ভালো মানের বড় চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে। কোথাও সামান্য কাটা বা ছিদ্র থাকলে দাম নেমে যাচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ টাকায়। এক ধরনের সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সাতক্ষীরায় কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
কোনোভাবেই বিক্রি করতে না পেরে লোকসান আর দুর্গন্ধের হাত থেকে বাঁচতে জেলার বিভিন্ন স্থানে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবর পাওয়া গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবীর জানান, চামড়া একটি জাতীয় সম্পদ। এভাবে চামড়া অবিক্রীত থেকে নষ্ট হওয়া বা মাটিতে পুঁতে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। চামড়া সংরক্ষণের জন্য স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত লবণের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আড়তদারদের সমন্বয় করা জরুরি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোরবানির চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া কিনে এখন ক্রেতার অপেক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে চামড়ার স্তূপের সামনে বসে থেকে হতাশ হয়ে সময় পার করছেন তারা। বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন রাস্তার পাশে শতাধিক ব্যবসায়ী শত শত কাঁচা চামড়া নিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশেও চামড়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। কোরবানির পর দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় চামড়া সংগ্রহ শুরু হলেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও কোনো ব্যবসায়ীই চামড়া কিনতে যাননি। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরে চামড়া নিয়ে আসেন। কিন্তু সেখানেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে কেউ কেউ চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন।
চট্টগ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা শত শত গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের আশা ছিল, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম বাড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূরণ হয়নি। কেউ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে চলে যান। কেউ নামমাত্র দামে বিক্রি করেন। আবার কেউ জোর করে আড়তে চামড়া জমা দিয়ে ফিরে যান। সৌজন্যে : কালেরকণ্ঠ
























