ফরেন অফিস কনসালটেশনে বসছে ঢাকা-জেনেভা
২০২৮ সালের শেষে বাংলাদেশ আর সুইস উন্নয়ন সহযোগিতার (এসডিসি) অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ থাকবে না। দেশটি উন্নয়ন সহযোগিতার বদলে বাণিজ্য সম্পর্ক এবং বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী সুইজারল্যান্ড।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ঢাকায় সচিব পর্যায়ের আলোচনা প্ল্যাটফর্ম ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) বসছে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ড, যেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি এজেন্ডা আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ষষ্ঠ ফরেন অফিস কনসালটেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) মো. নজরুল ইসলাম। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের প্রধান রাষ্ট্রদূত মার্কাস লেটনার নেতৃত্ব দেবেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের সার্বিক বিষয়ে আলোচনা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুটি প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত এজেন্ডাটি গুরত্বপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সুইস সরকার বিভিন্ন খাতে বাজেট কমানো শুরু করেছে। তারা উন্নয়ন সহযোগিতা কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা মূলত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। সেজন্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত আলোচনাটি গুরত্বপূর্ণ।
এছাড়া, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পেছাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার আবেদন গ্রহণ করে তা পর্যালোচনা করছে জাতিসংঘ। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ যদি এলডিসি পেছাতে পারে এবং তা পিছিয়ে দিতে পারলে পরবর্তীতে কীভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা আলোচনা হবে।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন একটি দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে একজন রাষ্ট্রদূত, একজন ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে দূতাবাসের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন পাওয়া গেলেও দূতাবাসের কার্যক্রম এখনও শুরু করা যায়নি। শিগগিরই এটির কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, উন্নয়ন সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সহযোগিতা, ফার্মাসিউটিক্যালস, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া, নারীর ক্ষমতায়ন এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায়ের মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, সুইজারল্যান্ডে থাকা জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ, আইনের শাসন ও সুশাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে সচিব পর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে। নতুন সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের বৈঠক গুরত্বপূর্ণ। প্রত্যেকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ পাবে। বার্নে আমাদের মিশনের কার্যক্রম শুরুর বিষয় আছে, অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয় আছে। আমরা এখনো সুইসদের উন্নয়ন সহযোগিতা পাচ্ছি। ইউরোপের অনেক দেশ তাদের উন্নয়ন সহযোগিতা দিন দিন কাঁটছাট করছে। সুইসরা ২০২৮ সাল এবং নেদারল্যান্ডস ২০৩০-এর পর আর উন্নয়ন সহযোগিতা নাও দিতে পারে। তারা বিভিন্ন মেকানিজমে বিনিয়োগ করবে, বাণিজ্য সম্পর্ক বর্ধিত করবে। আমরা আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা তুলে ধরবো।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ফরেন অফিস কনসালটেশন নিয়ে গত ১১ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো তাদের নিজস্ব আলোচনার বিষয় উপস্থাপন করেছে। আলোচনায় থাকা বিষয়গুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্ধারণ করে এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে।















