তারাগঞ্জে অজ্ঞাত ব্যক্তির পচাগলা লাশের মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার
তীব্র দুর্গন্ধে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে পরিচয় শনাক্তে পুলিশের তদন্ত, হত্যার অভিযোগে এলাকায় নানা আলোচনা
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কুঠিপাড়া এলাকার ডালিয়া ক্যানেলের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষের নাকে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন হয়তো কোনো পশু মারে পড়ে আছে। কিন্তু দুর্গন্ধ ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন সাহস করে ক্যানেলের ধারের পাটক্ষেতের পাশের ঝোপের দিকে এগিয়ে যান।
ঝোপের ভেতরে উঁকি দিতেই তারা দেখতে পান হৃদয়বিদারক এক দৃশ্য। সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মানুষের মাথার খুলি এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় মরদেহটি সম্পূর্ণ পচে-গলে গেছে। আশপাশে বন্য প্রাণীর বিচরণের চিহ্নও দেখা যায়। ঘটনাস্থলের কিছু দূরে একটি লুঙ্গি ও একটি পাঞ্জাবি পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
এ দৃশ্য দেখে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি তারাগঞ্জ থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মরদেহটি অনেকদিন ধরেই সেখানে পড়ে ছিল। এ কারণে পচন ধরে শরীরের অধিকাংশ অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের ধারণা, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে মরদেহটি নির্জন ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলেনি পুলিশ।
মরদেহের অবস্থা এতটাই নাজুক যে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয়, বয়স বা তিনি কোন এলাকার বাসিন্দা কোনো কিছুই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের অবশিষ্টাংশ ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত শেষে এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু তা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোঃ মুঈদ চৌধুরী
তারাগঞ্জ, রংপুর
৩ জুলাই , ২০২৬




















