1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরীক্ষা চলছে, মাইক বাজছে, পাশে গরুর হাট!

মিয়া সুলেমান, ঈশ্বরগঞ্জ
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একদিকে চলছে অর্ধবার্ষিক ও এসএসসি (পাক নির্বাচনী) পরীক্ষা, অন্যদিকে একই বিদ্যালয়ের মাঠে বসেছে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির হাট। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ঘটনা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা এবং আমাদের অগ্রাধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের (দৈনিক কালের কণ্ঠ) তথ্য অনুযায়ী, গরুর হাটের নির্ধারিত স্থান নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—বিকল্পের অভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই কি প্রথম বিকল্প হওয়া উচিত? পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।
যদি সত্যিই সকাল থেকে মাইকের উচ্চ শব্দ, পশুর ডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় এবং হাটের কোলাহলের মধ্যেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, তবে তা নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বস্তিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। শিক্ষা এমন একটি বিষয়, যেখানে সামান্য বিঘ্নও একজন শিক্ষার্থীর মনোযোগ, মানসিক স্থিরতা ও পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ নোংরা হওয়ার অভিযোগও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থা এবং বিকল্প জায়গা পাওয়া গেলে হাট সরিয়ে নেওয়া হবে। ইজারাদারও দাবি করেছেন, তাঁদের সামনে অন্য কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না। কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতা থাকলেও তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার যৌক্তিকতা তৈরি করে না।
একটি বিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পবিত্র স্থান। সেখানে যখন পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন লিখছে, ঠিক তখনই পাশের মাঠে মাইকের শব্দে জমজমাট পশুর হাট—এ দৃশ্য আমাদের শিক্ষা, পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে।
পরীক্ষা চলছে, মাইক বাজছে, পাশে গরুর হাট!—এটি শুধু একটি শিরোনাম নয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধতার একটি কঠিন প্রশ্ন। প্রশাসনিক প্রয়োজন থাকতেই পারে, কিন্তু সেই প্রয়োজনের ভার কখনোই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের মর্যাদা, শিক্ষার পরিবেশ এবং পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করা। কারণ, হাটের জায়গা অন্যত্র পাওয়া যেতে পারে; কিন্তু শিক্ষার পরিবেশ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

পরীক্ষা চলছে, মাইক বাজছে, পাশে গরুর হাট!

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

একদিকে চলছে অর্ধবার্ষিক ও এসএসসি (পাক নির্বাচনী) পরীক্ষা, অন্যদিকে একই বিদ্যালয়ের মাঠে বসেছে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগির হাট। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এই ঘটনা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা এবং আমাদের অগ্রাধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের (দৈনিক কালের কণ্ঠ) তথ্য অনুযায়ী, গরুর হাটের নির্ধারিত স্থান নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সাময়িকভাবে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—বিকল্পের অভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই কি প্রথম বিকল্প হওয়া উচিত? পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।
যদি সত্যিই সকাল থেকে মাইকের উচ্চ শব্দ, পশুর ডাক, ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় এবং হাটের কোলাহলের মধ্যেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, তবে তা নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের জন্য অস্বস্তিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি। শিক্ষা এমন একটি বিষয়, যেখানে সামান্য বিঘ্নও একজন শিক্ষার্থীর মনোযোগ, মানসিক স্থিরতা ও পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ নোংরা হওয়ার অভিযোগও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
প্রশাসনের ব্যাখ্যা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থা এবং বিকল্প জায়গা পাওয়া গেলে হাট সরিয়ে নেওয়া হবে। ইজারাদারও দাবি করেছেন, তাঁদের সামনে অন্য কোনো বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না। কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতা থাকলেও তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার যৌক্তিকতা তৈরি করে না।
একটি বিদ্যালয় শুধু ইট-পাথরের ভবন নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পবিত্র স্থান। সেখানে যখন পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের স্বপ্ন লিখছে, ঠিক তখনই পাশের মাঠে মাইকের শব্দে জমজমাট পশুর হাট—এ দৃশ্য আমাদের শিক্ষা, পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার সম্পর্কে অস্বস্তিকর প্রশ্ন তোলে।
পরীক্ষা চলছে, মাইক বাজছে, পাশে গরুর হাট!—এটি শুধু একটি শিরোনাম নয়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধতার একটি কঠিন প্রশ্ন। প্রশাসনিক প্রয়োজন থাকতেই পারে, কিন্তু সেই প্রয়োজনের ভার কখনোই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়ের মর্যাদা, শিক্ষার পরিবেশ এবং পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করা। কারণ, হাটের জায়গা অন্যত্র পাওয়া যেতে পারে; কিন্তু শিক্ষার পরিবেশ একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।