বন্যায় রাঙামাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
রাঙামাটির নিন্মাঞ্চলে বন্যায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি, বরকল ও রাজস্থলী উপজেলায় দুর্ভোগ চরমে। ডুগেছে গোলাভরা ধান ও ফসলসহ জমি। ছিন্ন বিচ্ছিন্ন গবাদি পশুর খামার। তারই মধ্যে রাঙামাটি রাজস্থলী উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই খামারি ৮টি গরু মারা গেছে।
শনিবার সকালে রাজস্থলী উপজেলায় ১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মহাজন পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ক্যাচি প্রু মারমা বলেন, রাতভর টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে হটাৎ নেমে আসে পাহাড়ি ঢলে স্রোত। স্রোতের পানিতে ভেসে যায় গোয়াল ঘর। ঘরে বাঁধাছিল ৬টি গরু। খবর পেয়ে যখন ছুটে যায় ততখনে গরুগুলো মারা গেছে। স্থানীয়দের সহযোগীতায় গরুগুলো পানি থেকে টেনে টেনে পাড়ে নিয়ে আসলেও বাঁচাতে পারিনি। চোখের সামনে আমার সারাজীবনের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো। একই অবস্থা একই গ্রামের ডাক্তার মো. ইউসুফ খানের গরুগুলোর। বন্যার পানিতে ডুবে মরে ভেসে উঠে গরু দুটি। শুধু গুরু না। পানিতে ভেসে গেছে হাঁস- মুরগির খামারও। সবমিলে শুধু রাজস্থলী উপজেলায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে একই অবস্থা বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে। টানা সাতদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে এ অঞ্চলের মানুষ। কিছুই অবশিষ্ট নেই। ফসল ভরা জমি এখন একটা নদী। গোয়ালে গুরু ছাগল, হাঁস-মুরগির খামারের কোন চিহ্ন নেই। বন্যার পানিতে ডুবে আছে দোকান, হাট বাজার, বিদ্যালয়। যে সড়কে গাড়ি চলাচল করতো , সেখানে চলছে এখন বাঁশের ভেলা। বাড়ি ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকের দিন কাটছে বাঁশের তৈরি ভেলায় চরে।
রাঙামাটি বিলাইছড়ি উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা এলিনা তঞ্চঙ্গ্যা জানায়, কিছুই অবশিষ্ট নেই। সব বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। খাবার নেই, পানি নেই। নেই পড়ার কাপড়। শুধু আছে চার দিকে হা হা কার। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে বৃদ্ধি ও ছোট বাচ্চারা। বৃষ্টির পানিতে দীর্ঘ সময় ভিজে থাকার কারণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
একই অবস্থা বরকল ও বাঘাইছড়ি উপজেলায়ও। সীমান্তবর্তি উপজেলা বাঘাইছড়িতে অনন্ত ৩০টি গ্রাম এখন পানি বন্দি। কিছুই অবশিষ্ট নেই। সুবিধা বঞ্চিত মানুষগুলোর মনে দাগ কেটেছে এবারের বন্যা। সড়ক ডুভে চলাচলের এখন একমাত্র মাধ্যম নৌকা। অনেক গ্রামে তাও নেই। তাই বাঁশের ভেলা তৈরি করে পাড়াপাড় করছে স্থানীয়রা।
বাঘাইছড়ি উপজেলার স্তানীয় আসিফ আহমেদ জানায়, বাঘাইছড়ি ফসল উৎপাদের জন্য বিখ্যাত। এ অঞ্চলের সব মানুষ কৃষিনির্ভর। তাই মাইলের পর মাইল এখানে ফসলি মাঠ। বন্যার পানিতে এখন সব শেষ। ডুবে গেছে দোকান , গবাদি পশুর খামার। কিছু বাড়ি ঘর ডুবন্ত থাকলেও অনেক বাড়ি একেবারে ভেঙ্গে গেছে। সব হারিয়ে অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছে। এসব ক্ষতির সঠিক কোন সংখ্যা নেই।
অভিযোগ রয়েছে, রাঙামাটির দুর্গম ও সীমান্তবর্তি উপজেলাগুলোতে বন্যা দুর্গতদের খবর নিতে এখনো পর্যন্ত কোন চিকিৎসক দল সেখানে পৌছায়নি। পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি শিশু ও বৃদ্ধারা।

























