1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় স্পেনের পক্ষেই বেশি সমর্থন, বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ফুটবল উন্মাদনা

স্পোর্টস ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে আজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাতেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে সেখানকার অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমী স্পেনের পক্ষেই সমর্থন জানাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনিদের মতে, স্পেনের প্রতি এই সমর্থনের পেছনে রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এগিয়ে নেওয়া, গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করাই ছিল এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

সরকারের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচও প্রকাশ্যে গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগ ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল ‘গাজা আল ইরাদা’-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক। যুদ্ধে অনেক খেলোয়াড় হাত বা পা হারালেও, যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শক্তি তারা হারায়নি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

তবে ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেও গাজার বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট তীব্র হওয়ায় অনেক মানুষের জন্য খেলা দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল মানুষ খেলা দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির সংকট এবং অতিরিক্ত দামের কারণে জেনারেটর চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

এর মধ্যেও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ক্রীড়ার পরিবেশ কিছুটা ফিরিয়ে আনতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে এটিই গাজা উপত্যকার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব, যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশ্বকাপের আদলে আয়োজিত ওই প্রদর্শনী ম্যাচে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দল অংশ নেয়। ম্যাচে রেফারির পাশাপাশি প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিবেশ অনুভব করতে পারেন।

আদনান আল আফিফির ভাষায়, পুরো আয়োজন ছিল আবেগ, আশা ও ইতিবাচকতায় ভরপুর। তাদের কাছে এটি ছিল স্পেন জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন জানানোর সবচেয়ে বড় প্রতীকী আয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

গাজায় স্পেনের পক্ষেই বেশি সমর্থন, বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে ফুটবল উন্মাদনা

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে আজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাতেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে সেখানকার অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমী স্পেনের পক্ষেই সমর্থন জানাচ্ছেন।

ফিলিস্তিনিদের মতে, স্পেনের প্রতি এই সমর্থনের পেছনে রয়েছে দেশটির রাজনৈতিক ও মানবিক অবস্থান। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এগিয়ে নেওয়া, গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করাই ছিল এ সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

সরকারের পাশাপাশি স্পেন জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচও প্রকাশ্যে গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগ ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

গাজার পঙ্গুদের ফুটবল দল ‘গাজা আল ইরাদা’-এর প্রধান কোচ হাতেম আল মাগরিবি বলেন, পুরো ফিলিস্তিনি জাতি চায় স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক। যুদ্ধে অনেক খেলোয়াড় হাত বা পা হারালেও, যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শক্তি তারা হারায়নি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ চলাকালে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

তবে ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেও গাজার বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট তীব্র হওয়ায় অনেক মানুষের জন্য খেলা দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সাবেক ফুটবলার ও স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপক আদনান আল আফিফি বলেন, বিদ্যুৎ থাকলেই কেবল মানুষ খেলা দেখতে পারে। কিন্তু জ্বালানির সংকট এবং অতিরিক্ত দামের কারণে জেনারেটর চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

এর মধ্যেও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ক্রীড়ার পরিবেশ কিছুটা ফিরিয়ে আনতে গাজা সিটির প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে বিশ্বকাপ উপলক্ষে দুটি প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে এটিই গাজা উপত্যকার একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব, যেখানে খেলোয়াড়রা অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশ্বকাপের আদলে আয়োজিত ওই প্রদর্শনী ম্যাচে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দল অংশ নেয়। ম্যাচে রেফারির পাশাপাশি প্রতীকী ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাও রাখা হয়, যাতে খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচের পরিবেশ অনুভব করতে পারেন।

আদনান আল আফিফির ভাষায়, পুরো আয়োজন ছিল আবেগ, আশা ও ইতিবাচকতায় ভরপুর। তাদের কাছে এটি ছিল স্পেন জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন জানানোর সবচেয়ে বড় প্রতীকী আয়োজন।