1. admin@kagojerbarta.com : admin :
ঢাকা ১২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই শর্তে অনশন ভাঙতে রাজি সোনম ওয়াংচুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা তিন সপ্তাহের অনশনের পর অবশেষে অনশন ভাঙতে রাজি হয়েছেন ভারতের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে এর জন্য তিনি দুটি শর্ত দিয়েছেন। রবিবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে পাঠানো এক হাতে লেখা বার্তায় তিনি জানান, শর্ত পূরণ হলে সোমবারই অনশন প্রত্যাহার করবেন।

ওয়াংচুক জানান, সরকার যদি সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা, বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর দায় স্বীকার করে, অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতারা সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেন, তাহলে তিনি অনশন ভাঙবেন। এছাড়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনশন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে এসে একই আশ্বাস দিলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

বার্তার শেষে সফদরজং হাসপাতালে তাঁকে ‘অবৈধভাবে’ আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, হাসপাতালে তাঁর চলাফেরা, মত প্রকাশ এবং যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করে রাখা হয়েছে।

ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো জানান, তাঁর স্বামীর অনশন ভাঙার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। দ্বিতীয়ত, সোমবার শুরু হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেবেন।

রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে গীতাঞ্জলি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা যদি এসব আশ্বাস দেন, তাহলে সোনম ওয়াংচুক সোমবারই অনশন ভাঙবেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি পালন এবং কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

গীতাঞ্জলি আরও জানান, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি।

গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা তিন সপ্তাহ অনশনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে দিল্লি পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে তাঁর পরিবার ও সিজেপির দাবি, হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কোনো ধরনের স্যালাইন বা ড্রিপ নিতেও রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ভারতে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। এদিকে তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সদস্যদের অনশন রবিবার ২১তম দিনে পৌঁছেছে এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও অনশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে বহিরাগতরা উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই তারা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি ও নিউজ১৮

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

দুই শর্তে অনশন ভাঙতে রাজি সোনম ওয়াংচুক

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

টানা তিন সপ্তাহের অনশনের পর অবশেষে অনশন ভাঙতে রাজি হয়েছেন ভারতের সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে এর জন্য তিনি দুটি শর্ত দিয়েছেন। রবিবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে সমর্থকদের উদ্দেশে পাঠানো এক হাতে লেখা বার্তায় তিনি জানান, শর্ত পূরণ হলে সোমবারই অনশন প্রত্যাহার করবেন।

ওয়াংচুক জানান, সরকার যদি সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা, বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাগুলোর দায় স্বীকার করে, অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদ ও ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর নেতারা সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেন, তাহলে তিনি অনশন ভাঙবেন। এছাড়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনশন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও রাজনৈতিক নেতারা হাসপাতালে এসে একই আশ্বাস দিলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

বার্তার শেষে সফদরজং হাসপাতালে তাঁকে ‘অবৈধভাবে’ আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, হাসপাতালে তাঁর চলাফেরা, মত প্রকাশ এবং যোগাযোগের স্বাধীনতা সীমিত করে রাখা হয়েছে।

ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো জানান, তাঁর স্বামীর অনশন ভাঙার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে। প্রথমত, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। দ্বিতীয়ত, সোমবার শুরু হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেবেন।

রবিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বক্তব্যে গীতাঞ্জলি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা যদি এসব আশ্বাস দেন, তাহলে সোনম ওয়াংচুক সোমবারই অনশন ভাঙবেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি পালন এবং কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।

গীতাঞ্জলি আরও জানান, ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি।

গত শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা তিন সপ্তাহ অনশনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে দিল্লি পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে তাঁর পরিবার ও সিজেপির দাবি, হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কোনো ধরনের স্যালাইন বা ড্রিপ নিতেও রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ভারতে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। এদিকে তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সদস্যদের অনশন রবিবার ২১তম দিনে পৌঁছেছে এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপও অনশনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আন্দোলনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, সোমবারের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে বহিরাগতরা উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই তারা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: এনডিটিভি ও নিউজ১৮