1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ৩০০ ছাড়ালো কাঁচা মরিচের দাম, স্বস্তি নেই অন্য সবজিতেও

মোঃ আব্দুল আলীম, জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া ।
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১০

টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার প্রভাবে বগুড়ার বাজারে বেড়েছে কাঁচা মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজি প্রতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে বেগুন, করলা, পটল, ঢেঁড়স, টমেটোসহ অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। ডিম ও মাছের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী।
এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।
শুক্রবার বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনী ও খান্দার বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজির দামই সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে কাঁচা মরিচের গাছ পচে যাচ্ছে।
ফলে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার মহাস্থানে কাঁচা মরিচ মণপ্রতি সাড়ে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া করলা ১২০ টাকা, তরই ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ফুলকপি ১৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, মুখিকচু ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা হয়েছে। আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চীনা রসুন ১৬০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম বাড়লেও মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, ছোট ও বড় পাকিস্তানি মুরগি ২৯০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে সবজির দাম বাড়ায় অনেকেই ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে ফার্মের ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়। দেশি মুরগির ডিম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ইলিশ মাছ আকারভেদে ৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, গ্রাসকার্প ৩২০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফতেহ আলী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. খোকন মিয়া বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের জমি পানির নিচে চলে গেছে। ফলে পর্যাপ্ত সবজি বাজারে আসছে না। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। ”
বাজার করতে আসা মানিক মিয়া বলেন, “এখন বাজারে এসে কিছু কিনতেই ভয় লাগে। সব ধরনের সবজির দাম অনেক বেশি। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ায় ৩০০ ছাড়ালো কাঁচা মরিচের দাম, স্বস্তি নেই অন্য সবজিতেও

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
১০

টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার প্রভাবে বগুড়ার বাজারে বেড়েছে কাঁচা মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম কেজি প্রতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় পৌঁছেছে। একইসঙ্গে বেগুন, করলা, পটল, ঢেঁড়স, টমেটোসহ অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। ডিম ও মাছের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী।
এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।
শুক্রবার বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার, কলোনী ও খান্দার বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজির দামই সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে কাঁচা মরিচের গাছ পচে যাচ্ছে।
ফলে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। জেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার মহাস্থানে কাঁচা মরিচ মণপ্রতি সাড়ে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া করলা ১২০ টাকা, তরই ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, গাজর ১০০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ফুলকপি ১৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, মুখিকচু ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা হয়েছে। আলু প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি আদা ১৬০ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চীনা রসুন ১৬০ টাকা এবং শুকনা মরিচ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দাম বাড়লেও মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, ছোট ও বড় পাকিস্তানি মুরগি ২৯০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে সবজির দাম বাড়ায় অনেকেই ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে ফার্মের ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ টাকায়। দেশি মুরগির ডিম ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ৭০ টাকা হালি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। ইলিশ মাছ আকারভেদে ৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, গ্রাসকার্প ৩২০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফতেহ আলী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. খোকন মিয়া বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে অনেক কৃষকের জমি পানির নিচে চলে গেছে। ফলে পর্যাপ্ত সবজি বাজারে আসছে না। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। ”
বাজার করতে আসা মানিক মিয়া বলেন, “এখন বাজারে এসে কিছু কিনতেই ভয় লাগে। সব ধরনের সবজির দাম অনেক বেশি। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে।