1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নওগাঁতে নজরুল ও রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৬০ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার

মো. এ কে নোমান, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২২১

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নওগাঁর অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সংগীত নিকেতন-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সুরের ছন্দে মন ভরি, গান দিয়ে বিশ্ব ভরি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি শিশু-কিশোর শিল্পী, অভিভাবক, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সুধীজনের প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৫টায় নওগাঁ শহরের প্যারীমোহন লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগীত নিকেতনের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ফুলেল শুভেচ্ছায় অতিথিদের বরণ করে নেন। সংগীত নিকেতনের পরিচালক অখিল চন্দ্র সরকারের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্ব শেষে ক্ষুদে শিল্পীদের দলীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পরবর্তীতে একে একে মঞ্চে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত সহ বিভিন্ন ধারার সংগীত। প্রতিটি পরিবেশনায় শিল্পীদের আন্তরিকতা, শুদ্ধ সুর ও নান্দনিক উপস্থাপনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা করতালির মাধ্যমে ক্ষুদে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি এক ক্ষুদে শিক্ষার্থীর মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সবশেষে ‘হার-জিত চিরদিন থাকবে’ শিরোনামের দলীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপ্তি ঘটে।

পরে গত ২৫ বৈশাখ অনুষ্ঠিত সংগীত প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের অতিথিরা বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী মোট ৬০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উচ্ছ্বাসে মিলনায়তনে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ নজরুল একাডেমির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. সিরাজুল ইসলাম, পিটিআই নওগাঁর সুপারিনটেনডেন্ট মিরাজ হোসেন, নওগাঁ সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি কায়েস উদ্দিন, বিশিষ্ট লেখক ও প্রবীণ সাংবাদিক ফরিদুল করিম (বরেন্দ্র ফরিদ), সিনিয়র সাংবাদিক নবীর উদ্দিন, ঐকতানের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন, নওগাঁ থিয়েটারের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, নওগাঁ সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি মনোয়ার হোসেন লিটন, মানবাধিকার কর্মী ইঞ্জিনিয়ার চন্দন কুমার দেব, হাতেখড়ি নওগাঁর সভাপতি মাগফুরুল হাসান বিদ্যুৎ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক সুলতান মাহমুদ, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ (মানাপ)-এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিকী সিটু সহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। একটি শিশুর মেধা, মনন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সংস্কৃতি চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে অভিভাবকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, একটি শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার পরিবারের। অভিভাবকদের উৎসাহ, সময় ও সহযোগিতার কারণেই শিশুরা সংগীতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল অঙ্গনে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জেলার সুনাম অর্জন করছে। এজন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অভিভাবকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

আলোচনা সভায় এক বক্তা বলেন, “প্রকৃত শিল্পীরা কখনোই তাদের বাবা-মাকে অবহেলা করেন না। সমাজে বিভিন্ন পেশার মানুষের ক্ষেত্রে বৃদ্ধাশ্রমে বাবা-মাকে রেখে আসার ঘটনা দেখা গেলেও প্রকৃত শিল্পীদের পরিবারে এমন চিত্র খুব কমই দেখা যায়। কারণ শিল্পচর্চা মানুষকে মানবিকতা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়।”

গান, নৃত্য, করতালি আর ক্ষুদে শিল্পীদের উচ্ছ্বাসে মুখর এ আয়োজন শেষ হলেও তার আবেশ রয়ে যায় উপস্থিত সবার মনে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এ প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁতে নজরুল ও রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৬০ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার

আপডেট সময় : ০৫:২৪:৫৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
২২১

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নওগাঁর অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সংগীত নিকেতন-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সুরের ছন্দে মন ভরি, গান দিয়ে বিশ্ব ভরি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি শিশু-কিশোর শিল্পী, অভিভাবক, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সুধীজনের প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৫টায় নওগাঁ শহরের প্যারীমোহন লাইব্রেরি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগীত নিকেতনের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ফুলেল শুভেচ্ছায় অতিথিদের বরণ করে নেন। সংগীত নিকেতনের পরিচালক অখিল চন্দ্র সরকারের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্ব শেষে ক্ষুদে শিল্পীদের দলীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

পরবর্তীতে একে একে মঞ্চে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত সহ বিভিন্ন ধারার সংগীত। প্রতিটি পরিবেশনায় শিল্পীদের আন্তরিকতা, শুদ্ধ সুর ও নান্দনিক উপস্থাপনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা করতালির মাধ্যমে ক্ষুদে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। সংগীত পরিবেশনার পাশাপাশি এক ক্ষুদে শিক্ষার্থীর মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। সবশেষে ‘হার-জিত চিরদিন থাকবে’ শিরোনামের দলীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সমাপ্তি ঘটে।

পরে গত ২৫ বৈশাখ অনুষ্ঠিত সংগীত প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের অতিথিরা বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী মোট ৬০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উচ্ছ্বাসে মিলনায়তনে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ নজরুল একাডেমির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. সিরাজুল ইসলাম, পিটিআই নওগাঁর সুপারিনটেনডেন্ট মিরাজ হোসেন, নওগাঁ সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি কায়েস উদ্দিন, বিশিষ্ট লেখক ও প্রবীণ সাংবাদিক ফরিদুল করিম (বরেন্দ্র ফরিদ), সিনিয়র সাংবাদিক নবীর উদ্দিন, ঐকতানের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন, নওগাঁ থিয়েটারের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, নওগাঁ সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি মনোয়ার হোসেন লিটন, মানবাধিকার কর্মী ইঞ্জিনিয়ার চন্দন কুমার দেব, হাতেখড়ি নওগাঁর সভাপতি মাগফুরুল হাসান বিদ্যুৎ, জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক সুলতান মাহমুদ, মানবাধিকার নাট্য পরিষদ (মানাপ)-এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিকী সিটু সহ জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, অভিভাবক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল বিকাশে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তিসহ সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। একটি শিশুর মেধা, মনন, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সংস্কৃতি চর্চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে অভিভাবকদের আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, একটি শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার পরিবারের। অভিভাবকদের উৎসাহ, সময় ও সহযোগিতার কারণেই শিশুরা সংগীতসহ বিভিন্ন সৃজনশীল অঙ্গনে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জেলার সুনাম অর্জন করছে। এজন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অভিভাবকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

আলোচনা সভায় এক বক্তা বলেন, “প্রকৃত শিল্পীরা কখনোই তাদের বাবা-মাকে অবহেলা করেন না। সমাজে বিভিন্ন পেশার মানুষের ক্ষেত্রে বৃদ্ধাশ্রমে বাবা-মাকে রেখে আসার ঘটনা দেখা গেলেও প্রকৃত শিল্পীদের পরিবারে এমন চিত্র খুব কমই দেখা যায়। কারণ শিল্পচর্চা মানুষকে মানবিকতা, ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়।”

গান, নৃত্য, করতালি আর ক্ষুদে শিল্পীদের উচ্ছ্বাসে মুখর এ আয়োজন শেষ হলেও তার আবেশ রয়ে যায় উপস্থিত সবার মনে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এ প্রয়াসকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকরা।