1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  3. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  4. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসওয়াক: পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রিয় সুন্নত

ইসলাম ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মুখের পরিচ্ছন্নতাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলোর একটি হলো মেসওয়াক, যা শুধু দাঁত পরিষ্কারের উপায় নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বরকতময় আমল।

মেসওয়াকের ফজিলত

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ”

অর্থ: “মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।”
(সহিহ বুখারি: ৮৮৭, সুনান নাসাঈ: ৫, মুসনাদ আহমাদ: ২৪৩০৪)

এই হাদিসে মেসওয়াকের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় দিকের উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে।

এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে…

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রত্যেক অজুর সময় (অন্য বর্ণনায় প্রত্যেক নামাজের আগে) মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।”

(সহিহ বুখারি: ৮৮৭, সহিহ মুসলিম: ২৫২)

এ থেকে বোঝা যায়, মেসওয়াক ফরজ নয়, তবে অত্যন্ত গুরুত্ববহ সুন্নত।

মৃত্যুশয্যাতেও মেসওয়াক

সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, জীবনের শেষ মুহূর্তেও রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) মেসওয়াকটি নরম করে তাঁর হাতে দিলে তিনি তা ব্যবহার করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ইন্তেকাল করেন।

(সহিহ বুখারি: ৪৪৪৯, ৮৯০; সহিহ মুসলিম: ২৪৪৪)

এ ঘটনা মেসওয়াকের প্রতি নবীজির (সা.) ভালোবাসা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

কখন মেসওয়াক করা সুন্নত?

হাদিসের আলোকে নিম্নোক্ত সময়ে মেসওয়াক করা বিশেষভাবে সুন্নত—

অজুর সময়
প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের আগে
ঘরে প্রবেশের সময়
জুমার দিন
ঘুম থেকে জাগার পর
কুরআন তিলাওয়াতের আগে
রোজা অবস্থায়
মুখে দুর্গন্ধ বা দাঁত অপরিষ্কার মনে হলে

ঘরে প্রবেশের সময় সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন—

“রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন।”
(সহিহ মুসলিম: ২৫৩)

রোজা রেখে মেসওয়াক করা যাবে?

অনেকের ধারণা, রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করলে রোজা নষ্ট হয়। তবে সহিহ হাদিসের আলোকে এ ধারণা সঠিক নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থাতেও মেসওয়াক করতেন। তাই রমজান বা নফল রোজার দিনেও মেসওয়াক করা সুন্নত।

কুরআন তিলাওয়াতের আগে

কুরআন তিলাওয়াতের আগে মুখ পরিষ্কার রাখা আদবের অন্তর্ভুক্ত। কিছু বর্ণনায় মেসওয়াক করে তিলাওয়াতের অতিরিক্ত ফজিলতের কথা এসেছে, তবে এসব বর্ণনার সনদ দুর্বল। তাই এগুলোকে সহিহ হাদিসের সমপর্যায়ের দলিল হিসেবে নয়, বরং উৎসাহমূলক বর্ণনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মেসওয়াক ব্যবহারের আদব

মেসওয়াক ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নত। দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি না করে পরিমিতভাবে ব্যবহার করা উচিত।

আধুনিক যুগেও প্রাসঙ্গিক

বর্তমানে টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের ব্যবহার ব্যাপক হলেও মেসওয়াকের সুন্নত জীবিত রাখা সম্ভব। কারণ এর মূল উদ্দেশ্য শুধু দাঁত পরিষ্কার করা নয়; বরং মহানবী (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

মেসওয়াক: পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রিয় সুন্নত

আপডেট সময় : ০৪:১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

ইসলামে পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মুখের পরিচ্ছন্নতাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতগুলোর একটি হলো মেসওয়াক, যা শুধু দাঁত পরিষ্কারের উপায় নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি বরকতময় আমল।

মেসওয়াকের ফজিলত

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“السِّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِّ”

অর্থ: “মেসওয়াক মুখকে পবিত্র করে এবং মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।”
(সহিহ বুখারি: ৮৮৭, সুনান নাসাঈ: ৫, মুসনাদ আহমাদ: ২৪৩০৪)

এই হাদিসে মেসওয়াকের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক—উভয় দিকের উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে।

এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে…

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের প্রত্যেক অজুর সময় (অন্য বর্ণনায় প্রত্যেক নামাজের আগে) মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।”

(সহিহ বুখারি: ৮৮৭, সহিহ মুসলিম: ২৫২)

এ থেকে বোঝা যায়, মেসওয়াক ফরজ নয়, তবে অত্যন্ত গুরুত্ববহ সুন্নত।

মৃত্যুশয্যাতেও মেসওয়াক

সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, জীবনের শেষ মুহূর্তেও রাসুলুল্লাহ (সা.) মেসওয়াক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। হজরত আয়েশা (রা.) মেসওয়াকটি নরম করে তাঁর হাতে দিলে তিনি তা ব্যবহার করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ইন্তেকাল করেন।

(সহিহ বুখারি: ৪৪৪৯, ৮৯০; সহিহ মুসলিম: ২৪৪৪)

এ ঘটনা মেসওয়াকের প্রতি নবীজির (সা.) ভালোবাসা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

কখন মেসওয়াক করা সুন্নত?

হাদিসের আলোকে নিম্নোক্ত সময়ে মেসওয়াক করা বিশেষভাবে সুন্নত—

অজুর সময়
প্রত্যেক ফরজ ও নফল নামাজের আগে
ঘরে প্রবেশের সময়
জুমার দিন
ঘুম থেকে জাগার পর
কুরআন তিলাওয়াতের আগে
রোজা অবস্থায়
মুখে দুর্গন্ধ বা দাঁত অপরিষ্কার মনে হলে

ঘরে প্রবেশের সময় সম্পর্কে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন—

“রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, সর্বপ্রথম মেসওয়াক করতেন।”
(সহিহ মুসলিম: ২৫৩)

রোজা রেখে মেসওয়াক করা যাবে?

অনেকের ধারণা, রোজা অবস্থায় মেসওয়াক করলে রোজা নষ্ট হয়। তবে সহিহ হাদিসের আলোকে এ ধারণা সঠিক নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থাতেও মেসওয়াক করতেন। তাই রমজান বা নফল রোজার দিনেও মেসওয়াক করা সুন্নত।

কুরআন তিলাওয়াতের আগে

কুরআন তিলাওয়াতের আগে মুখ পরিষ্কার রাখা আদবের অন্তর্ভুক্ত। কিছু বর্ণনায় মেসওয়াক করে তিলাওয়াতের অতিরিক্ত ফজিলতের কথা এসেছে, তবে এসব বর্ণনার সনদ দুর্বল। তাই এগুলোকে সহিহ হাদিসের সমপর্যায়ের দলিল হিসেবে নয়, বরং উৎসাহমূলক বর্ণনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মেসওয়াক ব্যবহারের আদব

মেসওয়াক ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নত। দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি না করে পরিমিতভাবে ব্যবহার করা উচিত।

আধুনিক যুগেও প্রাসঙ্গিক

বর্তমানে টুথব্রাশ ও টুথপেস্টের ব্যবহার ব্যাপক হলেও মেসওয়াকের সুন্নত জীবিত রাখা সম্ভব। কারণ এর মূল উদ্দেশ্য শুধু দাঁত পরিষ্কার করা নয়; বরং মহানবী (সা.)-এর সুন্নতের অনুসরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা।