পেঁপেতে কামালের বছরে আয় ১৫ লাখ টাকা
বগুড়া সদরের খামারকান্দি গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন পেঁপে চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। প্রায় চার বছর আগে এক বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ শুরু করলেও বর্তমানে পাঁচ বিঘা জমিতে এ আবাদ করছেন তিনি।
চলতি বছর সাড়ে চার বিঘা জমির পাকা পেঁপে বিক্রি করে ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন।
আগে ফুলকপি, বেগুন ও আলুসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করতেন কামাল।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে পেঁপে চাষ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার বাগানে চাষ হচ্ছে
‘শাহী’ জাতের পেঁপে।
প্রায় আট বছর ধরে এ জাতের চাষ করছেন। নিজেই বীজ সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করায় বাইরে থেকে চারা কিনতে হয় না।
পাশাপাশি অন্য কৃষকদের কাছেও চারা বিক্রি করেন তিনি।
কামালের বাগানের কোনো কোনো পেঁপের ওজন ছয় থেকে সাত কেজি পর্যন্ত হলেও গড়ে দুই থেকে তিন কেজি হয়। তার মতে, নিয়মিত সার প্রয়োগ ও গাছের মধ্যে সঠিক দূরত্ব রাখলে ফলন ও ফলের আকার ভালো হয়। একটি গাছ থেকে এক মৌসুমে দুই থেকে চার মণ পর্যন্ত পেঁপে পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
কামাল হোসেন বলেন, ‘এবার সাড়ে ৪ বিঘা মাটি পাকানোর জন্য রেডি করতেছি। তাতে মোটামুটি এবারকার বাজার অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা আসবে।’
একটি গাছ থেকে প্রায় দুই বছর ফলন নেওয়া যায়। প্রথম বছর পাকা পেঁপে এবং পরের বছর পুরোনো গাছ থেকে কাঁচা পেঁপে বিক্রি করেন তিনি। পাকা পেঁপে বগুড়ার চেলোপাড়া পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। জমির পাশেই বাইপাস সড়ক থাকায় পরিবহনেও সুবিধা রয়েছে।
পেঁপে বাগানের ফাঁকে হলুদ ও মৌসুমি সবজি চাষ করছেন কামাল। এতে একই জমি থেকে একাধিক ফসলের আয় পাচ্ছেন তিনি। চলতি বছর পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাঁশ, সার ও জৈব সারের পেছনে ব্যয় বেশি হলেও অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁপে বেশি লাভজনক বলে মনে করেন তিনি।
পেঁপে হাতে কৃষক কামাল হোসেন
পেঁপে চাষে তাকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী ও দুই ছেলে। বড় ছেলে ডিপ্লোমা শেষ করে বর্তমানে সরকারি চাকরি করছেন। ছোট ছেলে মিল্লাত সৈয়দ আহমেদ কলেজে ডিগ্রিতে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কৃষিকাজে সহযোগিতা করেন।
কামালের বাগানে উৎপাদিত পেঁপে ও চারার চাহিদাও বেড়েছে। চলতি বছর প্রায় দুই হাজার চারা অন্য কৃষকদের দিয়েছেন তিনি। তার সফলতা দেখে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা বাগান দেখতে আসছেন এবং চারা ও বীজ সংগ্রহ করছেন।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ‘শাহী’ জাতের পেঁপেতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি এবং অন্যান্য হাইব্রিড জাতের তুলনায় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক কম লাগে। এ জাতের পেঁপে চাষে ৬ থেকে ৭ ফুট পরপর গাছ লাগানো এবং চাষের আগে মাটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কৃষক লাবলু জানান, কামালের বাগান দেখে তিনিও প্রায় ৫০ শতক জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বাজারদর কিছুটা কম থাকায় এবার প্রত্যাশিত লাভ কম হতে পারে। তবে লোকসানের আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী, বগুড়ার অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. মাহফুজ আলম জানান, বগুড়া জেলায় প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হচ্ছে। বেলে-দোঁআশ ও উর্বর মাটি পেঁপে চাষের জন্য উপযোগী। বর্তমানে ‘শাহী’ জাতের পেঁপে চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। দ্রুত বর্ধনশীল এ ফসলে ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং ৮ থেকে ৯ মাসের মধ্যে পাকা পেঁপে সংগ্রহ শুরু করা যায়। পাকা পেঁপেতে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ বা বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে।



























