স্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির জেরে নবাবগঞ্জে মফিদুল হত্যা, টয়লেটের ট্যাংকি থেকে মরদেহ উদ্ধার
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর মো. মফিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক রাজমিস্ত্রির মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার প্রতিবেশী ও পূর্বপরিচিত মো. মাসুদ মিয়া (২৯) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মাসুদ। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নিহত মফিদুল ইসলাম নবাবগঞ্জ উপজেলার মালদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি। তার ছোট ভাই মো. লিটন মিয়া এ ঘটনায় বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও মামলার তথ্য সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে মফিদুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর তার নিখোঁজের ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি নম্বর-২৬৬।
নিখোঁজ মফিদুলের সন্ধানে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাসহ বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল।
এরই মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে মাসুদ মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে একটি সেচ পাম্পের টিনশেড ঘরের কাছে থাকা পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে টয়লেটের স্লাব সরিয়ে ভেতরে মফিদুল ইসলামের মরদেহ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে নবাবগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। পরে মো. মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, যেভাবে হত্যাকাণ্ড:
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, ৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গান শোনার জন্য মফিদুল ইসলামের কাছে যান মাসুদ।
এ সময় কথোপকথনের একপর্যায়ে মফিদুল ইসলাম মাসুদের স্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেন মাসুদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে মফিদুলের মাথায় আঘাত করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা চেপে শ্বাসরোধ করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে মফিদুলের মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকিতে রেখে স্লাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
উদ্ধার লাঠি ও মোবাইল ফোন:
গ্রেপ্তারকৃত মাসুদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বাঁশের লাঠি এবং নিহত মফিদুল ইসলামের ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করেছে।
পরে গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ মিয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাসুদের স্ত্রী প্রায় ছয় মাস আগে তাকে ছেড়ে চলে যান। অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অভ্যাসের কারণে তাদের মধ্যে পারিবারিক সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর থেকে মাসুদ একাকী জীবনযাপন করছিলেন এবং রাতে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতেন। নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি সঙ্গে বাঁশের লাঠি রাখতেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ বা ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















