1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিআইএফএফ জয়ের পর অস্কারের দৌড়ে ভারতের ‘অ্যাং’

বিনোদন ডেস্ক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার জয়ের পর এবার ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় নির্মাতা থেজা রিওর সিনেমা ‘অ্যাং’।

‘অ্যাং’ থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ২০২১ সালে একই নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন ৩১ বছর বয়সী এই নির্মাতা। সেটি ক্লেরমঁ-ফেরাঁ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল। এবার সেই গল্পকে বিস্তৃত করে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি।

টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি ‘অ্যাং’কে বিজয়ী নির্বাচিত করে। এর পুরস্কার হিসেবে সিনেমাটি পেয়েছে ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার। নির্মাণশৈলী, ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির গভীর আবেগপূর্ণ চিত্রায়নের জন্য সিনেমাটির প্রশংসা করে জুরি।

নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি রাজধানী কোহিমায় জন্ম নেওয়া থেজা রিও এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বহু বছর ধরে ‘অ্যাং’কে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছেন তারা। নিজেদের গল্প নিজেদের মতো করে বলার বিশ্বাস কখনো হারাননি।

রিও বলেন, প্রথম সিনেমা হিসেবে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তার এবং সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। নিজের জায়গা, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন তিনি।

ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের ঘন জঙ্গলে গড়ে ওঠা একটি নির্জন কনিয়াক গ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘অ্যাং’। গ্রামের প্রধান আংবা দেখছেন, একে একে তার মানুষজন গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কাছের আমেরিকান মিশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন বসতিতে তারা গ্রহণ করছে নতুন জীবন—পশ্চিমা পোশাক, চার্চ, ইংরেজি শিক্ষা ও নতুন ভাষা।

পুরোনো গ্রামে থেকে যায় শুধু আংবা, তার অসুস্থ স্ত্রী এবং বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আমাও। হারিয়ে যেতে বসা একটি সংস্কৃতির শেষ সাক্ষী হয়ে ওঠে এই পরিবার। তাদের গল্পের মধ্য দিয়ে উপনিবেশ, ধর্মীয় প্রভাব ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের জটিল ইতিহাস তুলে ধরেছেন থেজা রিও।

সাধারণত অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিটি দেশ তাদের পক্ষ থেকে একটি সিনেমা মনোনয়ন দেয়। তবে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বের ছয়টি চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সিনেমাগুলো সরাসরি গ্রহণ করছে অ্যাকাডেমি। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে ‘অ্যাং’ সেই সুযোগ পেয়েছে।

এদিকে ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ভারতের পক্ষ থেকে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মারাঠি থ্রিলার ‘গোন্ধল’। সন্তোষ দাভাখার পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া (আইএফএফআই) থেকে সিলভার পিকক পুরস্কার পেয়েছিল।

ফলে ২০২৭ সালের অস্কারকে ঘিরে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘অ্যাং’ ও ‘গোন্ধল’—দুটি সিনেমা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

সূত্র: এনডিটিভি ও লাইভ মিন্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:১৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

টিআইএফএফ জয়ের পর অস্কারের দৌড়ে ভারতের ‘অ্যাং’

আপডেট সময় : ০৫:২৩:১৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ) প্ল্যাটফর্ম পুরস্কার জয়ের পর এবার ২০২৭ সালের অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় নির্মাতা থেজা রিওর সিনেমা ‘অ্যাং’।

‘অ্যাং’ থেজা রিওর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ২০২১ সালে একই নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন ৩১ বছর বয়সী এই নির্মাতা। সেটি ক্লেরমঁ-ফেরাঁ আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পেয়েছিল। এবার সেই গল্পকে বিস্তৃত করে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন তিনি।

টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতায় পাঁচ সদস্যের আন্তর্জাতিক জুরি ‘অ্যাং’কে বিজয়ী নির্বাচিত করে। এর পুরস্কার হিসেবে সিনেমাটি পেয়েছে ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার। নির্মাণশৈলী, ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি এবং একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জীবন ও সংস্কৃতির গভীর আবেগপূর্ণ চিত্রায়নের জন্য সিনেমাটির প্রশংসা করে জুরি।

নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি রাজধানী কোহিমায় জন্ম নেওয়া থেজা রিও এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বহু বছর ধরে ‘অ্যাং’কে সঙ্গে নিয়ে কাজ করেছেন তারা। নিজেদের গল্প নিজেদের মতো করে বলার বিশ্বাস কখনো হারাননি।

রিও বলেন, প্রথম সিনেমা হিসেবে এমন স্বীকৃতি পাওয়া তার এবং সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। নিজের জায়গা, মানুষ ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন তিনি।

ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডের ঘন জঙ্গলে গড়ে ওঠা একটি নির্জন কনিয়াক গ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে ‘অ্যাং’। গ্রামের প্রধান আংবা দেখছেন, একে একে তার মানুষজন গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কাছের আমেরিকান মিশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন বসতিতে তারা গ্রহণ করছে নতুন জীবন—পশ্চিমা পোশাক, চার্চ, ইংরেজি শিক্ষা ও নতুন ভাষা।

পুরোনো গ্রামে থেকে যায় শুধু আংবা, তার অসুস্থ স্ত্রী এবং বাকপ্রতিবন্ধী ছেলে আমাও। হারিয়ে যেতে বসা একটি সংস্কৃতির শেষ সাক্ষী হয়ে ওঠে এই পরিবার। তাদের গল্পের মধ্য দিয়ে উপনিবেশ, ধর্মীয় প্রভাব ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের জটিল ইতিহাস তুলে ধরেছেন থেজা রিও।

সাধারণত অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিটি দেশ তাদের পক্ষ থেকে একটি সিনেমা মনোনয়ন দেয়। তবে এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বের ছয়টি চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী সিনেমাগুলো সরাসরি গ্রহণ করছে অ্যাকাডেমি। টিআইএফএফের প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতার বিজয়ী হিসেবে ‘অ্যাং’ সেই সুযোগ পেয়েছে।

এদিকে ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে ভারতের পক্ষ থেকে সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মারাঠি থ্রিলার ‘গোন্ধল’। সন্তোষ দাভাখার পরিচালিত সিনেমাটি ২০২৫ সালের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়া (আইএফএফআই) থেকে সিলভার পিকক পুরস্কার পেয়েছিল।

ফলে ২০২৭ সালের অস্কারকে ঘিরে ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘অ্যাং’ ও ‘গোন্ধল’—দুটি সিনেমা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

সূত্র: এনডিটিভি ও লাইভ মিন্ট