1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ১০টি নিয়ম

অনলাইন ডেস্ক
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৯

ক্রিকেটের নিয়মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সময় নষ্ট ঠেকানো, বলের মাপ ও ওজন নির্ধারণ, ফিল্ডিং, ওভারথ্রো এবং ওয়াইড বলসহ বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নিয়ম যুক্ত ও পুরোনো নিয়মে সংশোধন আনা হয়েছে।

নতুন নিয়মগুলো ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে ১ অক্টোবর বা তার পরে শুরু হওয়া সব আন্তর্জাতিক সিরিজে এসব নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এর আগে শুরু হওয়া সিরিজগুলো আগের নিয়মেই চলবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আসন্ন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

আইসিসি জানিয়েছে, পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের সব ফরম্যাটের হালনাগাদ নিয়ম তাদের ‘রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস’ অংশে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ক্রিকেট আইনে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া পরিবর্তনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইসিসির পুরুষ ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, ক্রিকেট বল, ফিল্ডিং এবং খেলার গতি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আধুনিক ক্রিকেটের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সময় নষ্ট করলে ৫ রান

নতুন নিয়মে ব্যাটারদের সময় নষ্টের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাটার বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত না হলে প্রথমবার সতর্ক করা হবে। দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। তৃতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে ফিল্ডিং দল ৫ রান পাবে। বারবার এমন ঘটলে আচরণবিধির আওতায়ও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

নারী ক্রিকেটে বলের মাপে আলাদা মান

নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে ব্যবহৃত বলের মাপ ও ওজনের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য বলের মাপ ও ওজনের পৃথক মান থাকবে।

ওভারথ্রোর সংজ্ঞা স্পষ্ট

ওভারথ্রো নিয়ে থাকা অস্পষ্টতাও দূর করা হয়েছে। স্টাম্পে বল ছুড়ে রান আটকানো বা রানআউটের চেষ্টা করতে গিয়ে বল অন্যদিকে চলে গেলে সেটিকে ওভারথ্রো হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে বল থামাতে গিয়ে ভুল হওয়া কিংবা এক ফিল্ডার থেকে অন্য ফিল্ডারের কাছে বল পাঠাতে গিয়ে ভুল হলে সেটিকে ওভারথ্রো বলা হবে না।

‘ডেড বল’ নিয়ে আম্পায়ারের ক্ষমতা বাড়ল

কখন বল পুরোপুরি ‘ডেড’ হয়েছে, সে বিষয়ে আম্পায়ারকে আরও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ বলে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকলেই যে বল ডেড হবে—এমন বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

রানআউট-স্টাম্পিংয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ জরুরি

রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে ফিল্ডারের হাতে বল রয়েছে বলে গণ্য করতে হলে বলের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। স্টাম্প ভাঙার সময় শুধু হাত দিয়ে বল স্পর্শ করলেই সেটিকে বলের নিয়ন্ত্রণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ

খারাপ আলোর কারণে দিনের টেস্টে খেলা ব্যাহত হওয়া কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দলকে এ বিষয়ে সম্মত হতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পুরো ম্যাচে একই বল ব্যবহার করতে হবে। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর লাল বল থেকে গোলাপি বলে পরিবর্তন করা যাবে না।

দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও খেলা চলবে

টেস্টের দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়ে গেলেও আবহাওয়া ও পরিস্থিতি খেলার উপযোগী থাকলে বাকি বলগুলো শেষ করতে হবে। আগের নিয়মে উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনের খেলা শেষ হয়ে যেত এবং বাকি বল পরদিন করতে হতো। নতুন নিয়মে সেই পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টিতে বিরতি ১৫ মিনিট

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতি এখন ১৫ মিনিট। তবে ম্যাচে সময় নষ্ট হলে বিরতি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।

ড্রিংকস ব্রেকে মাঠে ঢুকতে পারবেন কোচ

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ড্রিংকস ব্রেকের সময় প্রধান কোচ বা তার মনোনীত একজন মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এর ফলে দুই ফরম্যাটে এ বিষয়ে একই নিয়ম কার্যকর হলো।

ওয়াইড বলের নিয়ম স্থায়ী

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ওয়াইড বলের নতুন নিয়ম এবার স্থায়ী করা হয়েছে। বল করার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে ওয়াইড নির্ধারণের মাপকাঠি ধরা হবে। ব্যাটার পরে অফ সাইডের দিকে সরে গেলেও বল করার মুহূর্তের অবস্থানই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আইসিসির মতে, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো ক্রিকেটের নিয়মকে আধুনিক খেলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, সময় নষ্ট কমানো এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও স্পষ্টতা আনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:০৬ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বদলে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ১০টি নিয়ম

আপডেট সময় : ০৭:১৪:০৬ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
৯

ক্রিকেটের নিয়মে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সময় নষ্ট ঠেকানো, বলের মাপ ও ওজন নির্ধারণ, ফিল্ডিং, ওভারথ্রো এবং ওয়াইড বলসহ বিভিন্ন বিষয়ে নতুন নিয়ম যুক্ত ও পুরোনো নিয়মে সংশোধন আনা হয়েছে।

নতুন নিয়মগুলো ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে ১ অক্টোবর বা তার পরে শুরু হওয়া সব আন্তর্জাতিক সিরিজে এসব নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এর আগে শুরু হওয়া সিরিজগুলো আগের নিয়মেই চলবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার আসন্ন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

আইসিসি জানিয়েছে, পুরুষ ও নারী ক্রিকেটের সব ফরম্যাটের হালনাগাদ নিয়ম তাদের ‘রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস’ অংশে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ক্রিকেট আইনে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া পরিবর্তনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইসিসির পুরুষ ক্রিকেট কমিটির সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, ক্রিকেট বল, ফিল্ডিং এবং খেলার গতি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আধুনিক ক্রিকেটের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সময় নষ্ট করলে ৫ রান

নতুন নিয়মে ব্যাটারদের সময় নষ্টের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাটার বল মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত না হলে প্রথমবার সতর্ক করা হবে। দ্বিতীয়বার দেওয়া হবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। তৃতীয়বার এবং এরপর প্রতিবার একই ঘটনা ঘটলে ফিল্ডিং দল ৫ রান পাবে। বারবার এমন ঘটলে আচরণবিধির আওতায়ও ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

নারী ক্রিকেটে বলের মাপে আলাদা মান

নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটে ব্যবহৃত বলের মাপ ও ওজনের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পুরুষ, নারী ও জুনিয়র ক্রিকেটের জন্য বলের মাপ ও ওজনের পৃথক মান থাকবে।

ওভারথ্রোর সংজ্ঞা স্পষ্ট

ওভারথ্রো নিয়ে থাকা অস্পষ্টতাও দূর করা হয়েছে। স্টাম্পে বল ছুড়ে রান আটকানো বা রানআউটের চেষ্টা করতে গিয়ে বল অন্যদিকে চলে গেলে সেটিকে ওভারথ্রো হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে বল থামাতে গিয়ে ভুল হওয়া কিংবা এক ফিল্ডার থেকে অন্য ফিল্ডারের কাছে বল পাঠাতে গিয়ে ভুল হলে সেটিকে ওভারথ্রো বলা হবে না।

‘ডেড বল’ নিয়ে আম্পায়ারের ক্ষমতা বাড়ল

কখন বল পুরোপুরি ‘ডেড’ হয়েছে, সে বিষয়ে আম্পায়ারকে আরও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ বলে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন বল বোলার বা উইকেটকিপারের হাতে থাকলেই যে বল ডেড হবে—এমন বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

রানআউট-স্টাম্পিংয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ জরুরি

রানআউট বা স্টাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে ফিল্ডারের হাতে বল রয়েছে বলে গণ্য করতে হলে বলের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। স্টাম্প ভাঙার সময় শুধু হাত দিয়ে বল স্পর্শ করলেই সেটিকে বলের নিয়ন্ত্রণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

টেস্টে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ

খারাপ আলোর কারণে দিনের টেস্টে খেলা ব্যাহত হওয়া কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দলকে এ বিষয়ে সম্মত হতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পুরো ম্যাচে একই বল ব্যবহার করতে হবে। ম্যাচ শুরু হওয়ার পর লাল বল থেকে গোলাপি বলে পরিবর্তন করা যাবে না।

দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লেও খেলা চলবে

টেস্টের দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়ে গেলেও আবহাওয়া ও পরিস্থিতি খেলার উপযোগী থাকলে বাকি বলগুলো শেষ করতে হবে। আগের নিয়মে উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনের খেলা শেষ হয়ে যেত এবং বাকি বল পরদিন করতে হতো। নতুন নিয়মে সেই পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

টি-টোয়েন্টিতে বিরতি ১৫ মিনিট

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতি এখন ১৫ মিনিট। তবে ম্যাচে সময় নষ্ট হলে বিরতি কমিয়ে সর্বনিম্ন ১০ মিনিট করা যাবে।

ড্রিংকস ব্রেকে মাঠে ঢুকতে পারবেন কোচ

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ড্রিংকস ব্রেকের সময় প্রধান কোচ বা তার মনোনীত একজন মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এর ফলে দুই ফরম্যাটে এ বিষয়ে একই নিয়ম কার্যকর হলো।

ওয়াইড বলের নিয়ম স্থায়ী

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে চালু থাকা ওয়াইড বলের নতুন নিয়ম এবার স্থায়ী করা হয়েছে। বল করার মুহূর্তে ব্যাটারের পায়ের অবস্থানকে ওয়াইড নির্ধারণের মাপকাঠি ধরা হবে। ব্যাটার পরে অফ সাইডের দিকে সরে গেলেও বল করার মুহূর্তের অবস্থানই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আইসিসির মতে, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো ক্রিকেটের নিয়মকে আধুনিক খেলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা, সময় নষ্ট কমানো এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও স্পষ্টতা আনা।