1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে ৫৪ পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৪

পোশাকনির্ভর রপ্তানি থেকে বেরিয়ে পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্য বাড়াতে ৫৪টি পণ্য নিয়ে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি বাজারের জন্য পৃথক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। প্রতিটি বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য, বর্তমান রপ্তানি অবস্থান, প্রতিযোগী দেশ এবং প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ চিহ্নিত করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় থাকা বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা, বেলজিয়াম এবং অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-ফিজি অঞ্চল।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন স্ট্র্যাটেজি: প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন অ্যাক্রস এইটিন কী ট্রেডিং ডেস্টিনেশনস’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, নির্বাচিত বাজারগুলোর জন্য দেশভিত্তিক প্রোফাইল তৈরি করে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য এবং বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাজারে কোন পণ্যের সম্ভাবনা বেশি, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী কারা এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা বিশ্লেষণ করেই কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

যেসব পণ্যে গুরুত্ব

সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ব্যাগ ও ভ্রমণসামগ্রী, জুতা, হোম টেক্সটাইল, হোম ডেকর, টুপি ও হেডগিয়ার, ওষুধ, আসবাব, খেলনা, ক্রীড়া সামগ্রী, সাইকেল, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, প্লাস্টিক, সিরামিক, ধাতব গৃহস্থালি সামগ্রী, লোহা-ইস্পাত, কাগজ, মাছ ও সামুদ্রিক পণ্য, চিংড়ি, কাঁকড়া, ফলমূল ও সবজি, প্রক্রিয়াজাত ও হালাল খাদ্য, চা, পানীয় এবং পোষা প্রাণীর পণ্য।

বিশাল বাজার, বাংলাদেশের অংশ সামান্য

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি বড় বাজারে বিপুল আমদানি চাহিদা থাকলেও সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও খুবই কম।

যুক্তরাষ্ট্রে আসবাব আমদানির বাজার প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার হলেও বাংলাদেশ রপ্তানি করে মাত্র ৫৮ লাখ ৬০ হাজার ডলারের আসবাব। দেশটির প্রায় ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের খেলনার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৭৬৬ কোটি পাউন্ডের ওষুধ আমদানি হলেও সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ২৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড। ফ্রান্সে চামড়া, ব্যাগ ও জুতার আমদানি প্রায় ১ হাজার ৫৪৮ কোটি ডলার। ওই বাজারে বাংলাদেশের অংশ ২১ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা মোট আমদানির প্রায় ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

জাপান, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল ও তুরস্কসহ অন্যান্য বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনার তুলনায় কম বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এলডিসি উত্তরণের আগে প্রস্তুতি

সরকারের এই উদ্যোগের অন্যতম কারণ বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইবিএ ও জিএসপিসহ বিভিন্ন শুল্কমুক্ত সুবিধা ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইইউর ক্ষেত্রে ২০২৯ সালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও তা পরিবর্তন হতে পারে।

এ অবস্থায় তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে পাট, চামড়া, সামুদ্রিক খাদ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক, কৃষিজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক সনদে জোর

কৌশলপত্রে দেশীয় পর্যায়ে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সনদ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এলডব্লিউজি, রিচ, এফডিএ ও হালাল সনদ নিশ্চিত করা, হিমাগার ও পরীক্ষাগার স্থাপন, সাভারের ট্যানারি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপনের মতো উদ্যোগের কথা রয়েছে।

একই সঙ্গে ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ প্রচার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চূড়ান্ত করা, জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাস্তবায়ন, মারকোসুর ও ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনা এবং ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিএসটিআই-বিআইএসের পারস্পরিক স্বীকৃতি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং চামড়া, ওষুধ ও পাট খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছরে বাণিজ্য মেলা, বাজার যাচাই ও প্রয়োজনীয় সনদ অর্জনে জোর দেওয়া হবে। এক থেকে তিন বছরের মধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। আর তিন থেকে সাত বছরের মধ্যে পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারগুলোকে তিন স্তরেও ভাগ করা হয়েছে। প্রথম স্তরে রয়েছে চীন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। দ্বিতীয় স্তরে জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-ফিজি, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তৃতীয় স্তরে রয়েছে রাশিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইরান।

বড় চ্যালেঞ্জ শুল্ক, মান ও লজিস্টিকস

রপ্তানি সম্প্রসারণে বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক মান ও সনদ অর্জনের জটিলতা এবং উচ্চ পরিবহন ব্যয়।

ভারত, তুরস্ক, জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে আগের মতো স্বয়ংক্রিয় শুল্ক সুবিধা না থাকায় নতুন বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ভারতের বিএসআই, চীনের খাদ্যনিরাপত্তা বিধি, ইউরোপের রিচ বিধিমালা এবং ওষুধের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ ও অস্ট্রেলিয়ার টিজিএর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্তও বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবহন ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বাধা। জাপানে বাংলাদেশি পণ্য পৌঁছাতে ৭৫ থেকে ১১৫ দিন এবং চীনে ১৮ থেকে ৩৭ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ইরানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাঝুঁকি ও ব্যাংকিং জটিলতা রয়েছে। ব্রাজিলে পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কও বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও তীব্র। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচিত ১৮টি বাজারের সবকটিতেই চীন বাংলাদেশের প্রতিযোগী। ভিয়েতনাম ১৪টি এবং ভারত ১১টি বাজারে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

সরকারের ধারণা, বাজারভিত্তিক এই কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে প্রচলিত পোশাকনির্ভরতার পাশাপাশি নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিসর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:২২ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে ৫৪ পণ্য

আপডেট সময় : ০৪:১৫:২২ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
৪

পোশাকনির্ভর রপ্তানি থেকে বেরিয়ে পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্য বাড়াতে ৫৪টি পণ্য নিয়ে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি বাজারের জন্য পৃথক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। প্রতিটি বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় পণ্য, বর্তমান রপ্তানি অবস্থান, প্রতিযোগী দেশ এবং প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ চিহ্নিত করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনায় থাকা বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা, বেলজিয়াম এবং অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-ফিজি অঞ্চল।

সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন স্ট্র্যাটেজি: প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডাইভারসিফিকেশন অ্যাক্রস এইটিন কী ট্রেডিং ডেস্টিনেশনস’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, নির্বাচিত বাজারগুলোর জন্য দেশভিত্তিক প্রোফাইল তৈরি করে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানিকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে পণ্য এবং বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাজারে কোন পণ্যের সম্ভাবনা বেশি, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী কারা এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা বিশ্লেষণ করেই কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।

যেসব পণ্যে গুরুত্ব

সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ব্যাগ ও ভ্রমণসামগ্রী, জুতা, হোম টেক্সটাইল, হোম ডেকর, টুপি ও হেডগিয়ার, ওষুধ, আসবাব, খেলনা, ক্রীড়া সামগ্রী, সাইকেল, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, প্লাস্টিক, সিরামিক, ধাতব গৃহস্থালি সামগ্রী, লোহা-ইস্পাত, কাগজ, মাছ ও সামুদ্রিক পণ্য, চিংড়ি, কাঁকড়া, ফলমূল ও সবজি, প্রক্রিয়াজাত ও হালাল খাদ্য, চা, পানীয় এবং পোষা প্রাণীর পণ্য।

বিশাল বাজার, বাংলাদেশের অংশ সামান্য

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি বড় বাজারে বিপুল আমদানি চাহিদা থাকলেও সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও খুবই কম।

যুক্তরাষ্ট্রে আসবাব আমদানির বাজার প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার হলেও বাংলাদেশ রপ্তানি করে মাত্র ৫৮ লাখ ৬০ হাজার ডলারের আসবাব। দেশটির প্রায় ১ হাজার ৩৮০ কোটি ডলারের খেলনার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

যুক্তরাজ্যে প্রায় ২ হাজার ৭৬৬ কোটি পাউন্ডের ওষুধ আমদানি হলেও সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ২৫ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড। ফ্রান্সে চামড়া, ব্যাগ ও জুতার আমদানি প্রায় ১ হাজার ৫৪৮ কোটি ডলার। ওই বাজারে বাংলাদেশের অংশ ২১ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার, যা মোট আমদানির প্রায় ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

জাপান, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, ইরান, ব্রাজিল ও তুরস্কসহ অন্যান্য বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনার তুলনায় কম বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এলডিসি উত্তরণের আগে প্রস্তুতি

সরকারের এই উদ্যোগের অন্যতম কারণ বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইবিএ ও জিএসপিসহ বিভিন্ন শুল্কমুক্ত সুবিধা ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইইউর ক্ষেত্রে ২০২৯ সালকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও তা পরিবর্তন হতে পারে।

এ অবস্থায় তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে পাট, চামড়া, সামুদ্রিক খাদ্য, ওষুধ, প্লাস্টিক, কৃষিজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক সনদে জোর

কৌশলপত্রে দেশীয় পর্যায়ে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সনদ অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এলডব্লিউজি, রিচ, এফডিএ ও হালাল সনদ নিশ্চিত করা, হিমাগার ও পরীক্ষাগার স্থাপন, সাভারের ট্যানারি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এপিআই শিল্পপার্ক স্থাপনের মতো উদ্যোগের কথা রয়েছে।

একই সঙ্গে ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ প্রচার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ এবং বিদেশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় পর্যায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চূড়ান্ত করা, জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাস্তবায়ন, মারকোসুর ও ব্রাজিলের সঙ্গে আলোচনা এবং ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে বিএসটিআই-বিআইএসের পারস্পরিক স্বীকৃতি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং চামড়া, ওষুধ ও পাট খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়ন

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম বছরে বাণিজ্য মেলা, বাজার যাচাই ও প্রয়োজনীয় সনদ অর্জনে জোর দেওয়া হবে। এক থেকে তিন বছরের মধ্যে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। আর তিন থেকে সাত বছরের মধ্যে পোশাকের বাইরে রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারগুলোকে তিন স্তরেও ভাগ করা হয়েছে। প্রথম স্তরে রয়েছে চীন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। দ্বিতীয় স্তরে জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড-ফিজি, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তৃতীয় স্তরে রয়েছে রাশিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইরান।

বড় চ্যালেঞ্জ শুল্ক, মান ও লজিস্টিকস

রপ্তানি সম্প্রসারণে বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে এলডিসি উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক মান ও সনদ অর্জনের জটিলতা এবং উচ্চ পরিবহন ব্যয়।

ভারত, তুরস্ক, জাপান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে আগের মতো স্বয়ংক্রিয় শুল্ক সুবিধা না থাকায় নতুন বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ভারতের বিএসআই, চীনের খাদ্যনিরাপত্তা বিধি, ইউরোপের রিচ বিধিমালা এবং ওষুধের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ ও অস্ট্রেলিয়ার টিজিএর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্তও বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবহন ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ বাধা। জাপানে বাংলাদেশি পণ্য পৌঁছাতে ৭৫ থেকে ১১৫ দিন এবং চীনে ১৮ থেকে ৩৭ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ইরানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাঝুঁকি ও ব্যাংকিং জটিলতা রয়েছে। ব্রাজিলে পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কও বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও তীব্র। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচিত ১৮টি বাজারের সবকটিতেই চীন বাংলাদেশের প্রতিযোগী। ভিয়েতনাম ১৪টি এবং ভারত ১১টি বাজারে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

সরকারের ধারণা, বাজারভিত্তিক এই কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে প্রচলিত পোশাকনির্ভরতার পাশাপাশি নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিসর বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।