প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১৭ রান
আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনে দারুণ শুরু করেও শেষ পর্যন্ত বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের শতরানের জুটি ও অর্ধশতকের সুবাদে শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। পরে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তবে প্রথম দিনের খেলা শেষে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান তুলতে পেরেছে দলটি।
শুক্রবার দিনের খেলা শেষে নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন। শনিবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করবেন এই দুই ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের হয়ে তানজিদ হাসান ৭১ বলে ৮৩, সাদমান ইসলাম ৬৭, মুমিনুল হক ৩৯, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ২৯, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪ ও লিটন দাস ৫৩ রান করেছেন।
দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও তানজিদ হাসান শুরু থেকেই সাবলীল ব্যাটিং করেন। সাদমান সতর্কভাবে খেললেও তানজিদ ছিলেন আক্রমণাত্মক। মাত্র ৪১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন এই ওপেনার।
অন্য প্রান্তে সাদমানও নিজের ইনিংস বড় করতে থাকেন। শুরুতে পাঁচ রানে ক্যাচ দিয়ে জীবন পেলেও সেই সুযোগ কাজে লাগান তিনি। আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি তাঁর ক্যাচ নিতে পারেননি। এরপর তানজিদের সঙ্গে গড়ে তোলেন কার্যকর উদ্বোধনী জুটি।
মাত্র ১৮ ওভারেই শতরানের জুটি পূর্ণ করেন দুই ওপেনার। তাঁদের ব্যাটে ভর করে প্রথম সেশন শেষে ১ উইকেটে ১৩৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১২৪ রান। তানজিদ ৮৩ রানে ইসমত আলমের বলে উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
তানজিদের বিদায়ের পরও রান তোলার গতি ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় সেশনে সাদমান ৬৭ রানে আউট হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মোহাম্মদ সেলিম সাফির শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন এই ওপেনার।
এরপর মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৯ রান করে মুমিনুলের বিদায়ের পর দ্রুত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে রহমত শাহর হাতে ক্যাচ দেন মুমিনুল। একই বোলারের বলে শূন্য রানে বোল্ড হন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। এরপর কায়েস আহমেদের বলে ২৯ রান করে আউট হন অধিনায়ক নাজমুল।
একসময় ২ উইকেটে ২২১ রান করা বাংলাদেশ মাত্র ৪ রান যোগ করতেই আরও তিন উইকেট হারায়। ২২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে দলটি। পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সঙ্গে স্পিনারদের কার্যকর আক্রমণে ম্যাচে ফেরে আফগানিস্তান।
এ পরিস্থিতিতে লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন। দুজনের ব্যাটে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৪২ রানের জুটি। তবে ইসমত আলমের বলে বোল্ড হয়ে ২৪ রানেই ফিরতে হয় মিরাজকে।
এরপর লিটনই হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের প্রধান ভরসা। শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও পরে ছন্দ ফিরে পান তিনি। মোহাম্মদ সেলিম সাফির বলে চার মেরে অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। আগের তিন ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর তাঁর এই ফিফটি ছিল স্বস্তির। তবে অর্ধশতকের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। সেলিম সাফির বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৫৩ রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন।
লিটনের বিদায়ের পর শেষ দিকে নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম উইকেটে থেকে দলকে ৩১৭ রানে পৌঁছে দেন। তাঁদের অপরাজিত থাকা বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয় দিনে ইনিংস আরও বড় করার সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রথম সেশনে দুই ওপেনারের ব্যাটে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পরের দুই সেশনে ঘুরে দাঁড়ায় আফগানিস্তান। দিনের শেষ দিকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চাপে রেখে ৮ উইকেট তুলে নেয় সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে শেষ দুই উইকেট হাতে রেখে যতটা সম্ভব রান বাড়ানো এবং প্রথম ইনিংসে লড়াই করার মতো সংগ্রহ গড়ে তোলা।


























