1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০২:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

মো. সাইফুল ইসলাম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৮

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাজেকের বিভিন্ন এলাকা। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, জুমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়ক এবং আশপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতেও দেখা গেছে অবরোধকারীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় হাটের দিনেও বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। পরিবহন সংকটের কারণে জুমচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। এভাবে অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে দুর্গম এলাকাগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এতে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েন। পরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে ওজোবাজার এলাকায় বাধার মুখে পড়ে পর্যটকবাহী নিরাপত্তা বহর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর বহরটি চলাচলের অনুমতি পায়। এরপর ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল।

তবে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা আসে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ বিবৃতিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি ও পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

সাজেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুটি আঞ্চলিক সংগঠন—ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয় সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯) নামে এক শিশু। সে মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ধরনের সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বাড়ছে।

অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

এদিকে সাজেকে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং পর্যটন কার্যক্রম চালুর দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষ। এ সময় প্রশাসনের কাছে দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:২৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:২৩:২৩ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
১৮

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাজেকের বিভিন্ন এলাকা। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, জুমচাষি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়ক এবং আশপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করতেও দেখা গেছে অবরোধকারীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় হাটের দিনেও বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। পরিবহন সংকটের কারণে জুমচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। এভাবে অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে দুর্গম এলাকাগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এতে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েন। পরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে ওজোবাজার এলাকায় বাধার মুখে পড়ে পর্যটকবাহী নিরাপত্তা বহর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর বহরটি চলাচলের অনুমতি পায়। এরপর ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল।

তবে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) দ্বিতীয় দফায় আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা আসে। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ বিবৃতিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পরিস্থিতির অবনতি ও পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

সাজেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের দুটি আঞ্চলিক সংগঠন—ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয় সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯) নামে এক শিশু। সে মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ধরনের সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বাড়ছে।

অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

এদিকে সাজেকে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং পর্যটন কার্যক্রম চালুর দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষ। এ সময় প্রশাসনের কাছে দাবি বাস্তবায়নে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।