ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে : স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) বলেছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে। তারা যেন সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের উৎপীড়ন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।
মঙ্গলবার দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের (এপিজি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসহযোগী সংগঠন এ সংবর্ধনার আয়োজন করে।
স্পিকার বলেন, ঢাকায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন।
গত ১৭-১৮ বছরের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতায় ছিলো। তিনটি নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি। ক্ষমতায় চিরদিন থাকা যাবে— এমন ধারণা থেকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে। ক্ষমতা ছাড়ার আগে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং সাবেক ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া অতীতে সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।
বাকস্বাধীনতার বিষয়ে স্পিকার বলেন, বর্তমানে মানুষ সরকারের পাশাপাশি সরকারপ্রধানেরও সমালোচনা করতে পারছেন। তবে সমালোচনা হতে হবে ন্যায্য ও গঠনমূলক। আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না।
কেউ যেন সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে, চাঁদাবাজি করতে না পারে সেই বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে স্পিকার বলেন, মাদকের বিষয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে। দলের বড় কোনো নেতা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

























