শেরপুরে বিয়ের ছয় দিন পর নববধূর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী ও শাশুড়ি
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বিয়ের মাত্র ছয় দিন পর শ্বশুরবাড়ি থেকে লিমা আক্তার (২০) নামের এক নববধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী একরামুল ও শাশুড়ি ফরিদা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার রূপনারায়ণকুড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লিমা আক্তার ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা ইউনিয়নের মাবিয়াইল গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা একরামুলের সঙ্গে লিমার বিয়ে হয়। তাঁদের বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছিল এক লাখ ৭০ হাজার টাকা। বিয়ের পর গত রোববার স্বামীর সঙ্গে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান লিমা। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার বাড়ি থেকে পাঠানো জিনিসপত্র পছন্দ না হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়।
নিহতের মা রোকেয়া বেগম অভিযোগ করেন, জিনিসপত্র নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তাঁর মেয়েকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তাঁর মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের বাবা সাইদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে লিমার ভগ্নিপতিকে ফোন করে তাঁকে অসুস্থ বলে জানানো হয়। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফাহাদ রহমান জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই নববধূর মৃত্যু হয়েছিল।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ও শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।























