পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রতিবাদে ভাঙচুর
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিতব্য ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬’-এর বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী মাঠে এসে মেলার গেট ও বিভিন্ন স্টল ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেছেন মেলার কাজে নিয়োজিতরা।
জানা গেছে, মাঠটিতে মাসব্যাপী ‘এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬’ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। মেলা উপলক্ষে ফটক, বিভিন্ন স্টলসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজও চলছিল।
মেলার কাজে নিয়োজিত প্রধান মিস্ত্রি বলেন, “সরকার এখানে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। মেলার স্থাপনাগুলো স্থায়ী কিছু নয়। আমাদের সরিয়ে নিতে বলা হলে আমরা সরিয়ে নিতাম। কিন্তু কোনো ধরনের কথা না বলে এসে ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে আমাদের অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনেক মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “এখানে কোনো সচিবালয় করতে দেওয়া হবে না। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে।”
মাঠে সরেজমিনে গিয়ে মেলার কাজে নিয়োজিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকালে হঠাৎ করেই ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী মাঠে প্রবেশ করে মেলার বিভিন্ন স্টল ও গেট ভাঙচুর শুরু করেন।
মেলার কর্মীরা বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। তাহলে কেন তারা এখানে ভাঙচুর চালাবে? আমরা তো কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই মেলার আয়োজন করছি। এখানে আমাদের প্রায় কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে।”
তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা ভাঙচুর চালানোর সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি। নির্বিচারে মেলার স্থাপনা ভাঙচুর করা হলেও প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকেও ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তেজগাঁও বিভাগের সেকেন্ড ইন কমান্ড (টুআইসি) মো. ফজলু বলেন, “শিক্ষার্থীরা এখানে সচিবালয় করতে দিতে চায় না। তারা চায় এখানে গবেষণার মাঠ করা হোক। তবে এখানে মেলা আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি রয়েছে। সে অনুযায়ী তারা মেলার আয়োজন করেছে।”
এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের জন্য মাটির গুণাগুণ পরীক্ষার কাজ চলছিল। দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সেখানে যান। পরে মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও দুটি গাড়ি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, মাঠটির মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না।

























