1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধুনটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা, স্মৃতিচারণে ফিরে এলো মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধুনট (বগুড়া):
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৫

একটি স্বাধীন দেশের জন্মের পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের ত্যাগ, সাহস, রক্ত ও আত্মনিবেদন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেই গৌরবের অগ্রনায়ক। তাঁদের সাহসিকতা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের বিনিময়েই বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সেই ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষীদের একত্রিত করে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানী দক্ষিণপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অত্র অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান–২০২৬’। সহযোদ্ধাদের এই মিলনমেলা ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং স্বাধীনতার ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে মোট ২৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার অংশগ্রহণের কথা থাকলেও বিভিন্ন সমস্যা ও অনিবার্য কারণে সাতজন উপস্থিত হতে পারেননি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এতে সভাপতিত্ব করেন যুদ্ধকালীন সেকশন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী আজহার শেখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত শেষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

মূল পর্বে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন এবং বক্তব্যের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা, প্রতিকূল পরিস্থিতি, ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা এবং একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকার কথা।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি। দীর্ঘ সংগ্রাম, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সেই ইতিহাসের প্রত্যক্ষ অংশীদারদের একসঙ্গে বসে স্মৃতিচারণ করতে দেখা শুধু একটি সাধারণ মিলনমেলা নয়; এটি জাতির ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে স্মরণ করারও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

যাঁরা একসময় দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও জীবন্ত করে তুলতে পারে। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এমন আয়োজনের গুরুত্ব কেবল তাঁদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ বা স্মৃতিচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করার সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন মো. আলী আজহার শেখ (ছাতিয়ানী), বি. এম. আজিজুর রহমান (উজালশিং), আলহাজ মোজাম্মেল হক (জয়নগর, শেরপুর), মো. আজহারুল ইসলাম, আলহাজ আজহার আলী ভূঁইয়া ও আলহাজ মো. জহুরুল ইসলাম (উজালশিং), অধীর চন্দ্র সাহা, রণজিৎ কুমার সাহা ও মো. আব্দুর রহিম মিয়া (রান্ডিলা), এস. এফ. ফেরদৌস আলম (বিলচাপড়ি), মো. রুহুল আমিন শেখ ও মো. আসমত আলী শেখ (ছাতিয়ানী), মো. আব্বাস আলী শেখ (পীরহাটি), মো. আব্দুর রাজ্জাক সরকার (প্রতাপ খাদুলী), এস. এম. আব্দুল আজিজ (কয়ড়া, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ), নজরুল ইসলাম (রান্ডিলা), মো. নুরুল আমিন (শলির চর, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ), মো. আজহার আলী সরকার (বানিয়াগাঁতী) এবং কে. এম. রায়হান আলী মুন্সি (গোবিন্দপুর)।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের ইতিহাসের গর্বিত অংশ। তাঁদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা, তাঁদের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব। ধুনটের এ স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন সেই ইতিহাসকে স্মরণ এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:২৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ধুনটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা, স্মৃতিচারণে ফিরে এলো মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস

আপডেট সময় : ০৫:২৬:২৮ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
৫

একটি স্বাধীন দেশের জন্মের পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের ত্যাগ, সাহস, রক্ত ও আত্মনিবেদন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেই গৌরবের অগ্রনায়ক। তাঁদের সাহসিকতা, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের বিনিময়েই বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। সেই ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষীদের একত্রিত করে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানী দক্ষিণপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অত্র অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠান–২০২৬’। সহযোদ্ধাদের এই মিলনমেলা ছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রোমন্থন, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং স্বাধীনতার ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার এক তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে মোট ২৬ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার অংশগ্রহণের কথা থাকলেও বিভিন্ন সমস্যা ও অনিবার্য কারণে সাতজন উপস্থিত হতে পারেননি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। এতে সভাপতিত্ব করেন যুদ্ধকালীন সেকশন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলী আজহার শেখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীত শেষে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। পরে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

মূল পর্বে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন এবং বক্তব্যের মাধ্যমে একাত্তরের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা, প্রতিকূল পরিস্থিতি, ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসা এবং একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকার কথা।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি। দীর্ঘ সংগ্রাম, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সেই ইতিহাসের প্রত্যক্ষ অংশীদারদের একসঙ্গে বসে স্মৃতিচারণ করতে দেখা শুধু একটি সাধারণ মিলনমেলা নয়; এটি জাতির ইতিহাস, আত্মপরিচয় ও স্বাধীনতার মূল্যবোধকে স্মরণ করারও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

যাঁরা একসময় দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও জীবন্ত করে তুলতে পারে। তাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এমন আয়োজনের গুরুত্ব কেবল তাঁদের পারস্পরিক সাক্ষাৎ বা স্মৃতিচারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করার সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন মো. আলী আজহার শেখ (ছাতিয়ানী), বি. এম. আজিজুর রহমান (উজালশিং), আলহাজ মোজাম্মেল হক (জয়নগর, শেরপুর), মো. আজহারুল ইসলাম, আলহাজ আজহার আলী ভূঁইয়া ও আলহাজ মো. জহুরুল ইসলাম (উজালশিং), অধীর চন্দ্র সাহা, রণজিৎ কুমার সাহা ও মো. আব্দুর রহিম মিয়া (রান্ডিলা), এস. এফ. ফেরদৌস আলম (বিলচাপড়ি), মো. রুহুল আমিন শেখ ও মো. আসমত আলী শেখ (ছাতিয়ানী), মো. আব্বাস আলী শেখ (পীরহাটি), মো. আব্দুর রাজ্জাক সরকার (প্রতাপ খাদুলী), এস. এম. আব্দুল আজিজ (কয়ড়া, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ), নজরুল ইসলাম (রান্ডিলা), মো. নুরুল আমিন (শলির চর, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ), মো. আজহার আলী সরকার (বানিয়াগাঁতী) এবং কে. এম. রায়হান আলী মুন্সি (গোবিন্দপুর)।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের ইতিহাসের গর্বিত অংশ। তাঁদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা, তাঁদের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব। ধুনটের এ স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন সেই ইতিহাসকে স্মরণ এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।