1. admin@kagojerbarta.com : admin :
  2. amirsadeky88@gmail.com : amirsadeky :
  3. faysalajony@gmail.com : FAYSAL AHMED :
  4. kamrul304076@gmail.com : Kamrul :
  5. jamalpurbakshiganj@gmail.com : Kamrulbk :
  6. mdsaimkhanbd7@gmail.com : mdsaimkhan123 :
  7. motin.imran07051986@gmail.com : motin.imran07051986@gmail.com :
  8. seyam2858@gmail.com : seyam :
ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডুলহাজারায় পৈতৃক জমির ১০ কড়া নিয়ে বিরোধ, চকরিয়া থানায় অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি:
সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৯

তিনবার নোটিশ দিয়েও সালিশে হাজির হননি বিবাদীরা—দাবি অভিযোগকারীর; ন্যায়বিচার পেতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় পৈতৃক বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আলী হোসেন। তাঁর অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশের ১৫ কড়া জমি ভোগদখলে থাকলেও বাকি ১০ কড়া জমি থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশের চেষ্টা করেও বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখন আইনি প্রতিকার চাইছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডুলহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া মরকেজ মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ বিরোধের সূত্রপাত। আলী হোসেনের দাবি, তাঁর পিতা মৃত হাজি সুলতান আহমদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে তাঁর ন্যায্য অধিকার রয়েছে। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি সম্পূর্ণ প্রাপ্য অংশ বুঝে পাচ্ছেন না।
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ
আলী হোসেনের ভাষ্য, তাঁর পিতা হাজি সুলতান আহমদের নিজস্ব ৪০ শতক এবং এয়কৃত ২০ শতকসহ মোট ৬০ শতক জমি ছিল। এর মধ্যে স্থানীয় মরকেজ মসজিদের অজুখানার জন্য ৩০ কড়া জমি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ছেলেরা ২৫ কড়া করে জমি পেয়েছেন বলে তাঁর দাবি। তবে নিজের প্রাপ্য অংশের ১৫ কড়া জমি ভোগদখলে থাকলেও বাকি ১০ কড়া জমি নিয়ে বিরোধ চলছে।
মৃত হাজি সুলতান আহমদের ছয় ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছেন। ছেলেরা হলেন—আবদুল করিম, আবদুল সালাম, মোজাম্মেল (সাবেক ইউপি সদস্য), হাজি বজল আহমদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও আলী হোসেন।
আলী হোসেনের অভিযোগে বিবাদী হিসেবে তাঁর ভাতিজা আবু বক্কর, মো. মহসিন, তাঁদের বাবা হাজি বজল আহমদ এবং দিলদার বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
৭৫ কড়া জমি দানপত্রের দাবি বিবাদীপক্ষের
বিবাদীপক্ষের দাবি, মৃত হাজি সুলতান আহমদ জীবিত থাকাকালে আবু বক্কর সিদ্দিকীকে ৭৫ কড়া জমি দানপত্র করে দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত কাগজ ও টিপসই থাকার কথাও তাঁরা উল্লেখ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, কথিত দানপত্রের কারণে সংশ্লিষ্ট জমিতে আলী হোসেনের কোনো অধিকার নেই।
বিবাদীপক্ষের সদস্য মো. মহসিন বলেন, তাঁদের দাদা জীবিত থাকতেই তাঁর ভাই আবু বক্করকে ৭৫ কড়া জমি দান করে গেছেন। তাই ওই জমিতে আলী হোসেনের দাবি করার সুযোগ নেই বলে তাঁরা মনে করেন।
তবে কথিত দানপত্রের বৈধতা, জমির প্রকৃত পরিমাণ এবং উত্তরাধিকারীদের আইনগত অধিকার নির্ধারণে মূল দলিল ও ভূমি-রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনবার নোটিশ, তবু হয়নি সালিশের নিষ্পত্তি
আলী হোসেনের অভিযোগের পর ডুলহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন সিপু ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়াত উল্লাহ বিরোধটি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সালিশে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিবাদীদের তিনবার নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁরা হাজির হননি।
ইউপি সদস্য আয়াত উল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তদন্তের পর আলী হোসেন তাঁর দাবিকৃত সম্পত্তির সম্পূর্ণ অংশ পাননি বলে প্রতীয়মান হওয়ায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য তাঁকে সালিশি নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
থানায় অভিযোগ, এখন আইনি প্রতিকারের অপেক্ষা
স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ সফল না হওয়ায় আলী হোসেন চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি সালিশি নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আলী হোসেনের দাবি, পৈতৃক সম্পত্তির মূল দলিল, দানপত্র এবং উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে তাঁর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হোক। অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষ দানপত্রের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করছে।
এ অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে মূল দলিল, কথিত দানপত্র, খতিয়ান, নামজারি, দখলসংক্রান্ত তথ্য এবং উত্তরাধিকারীদের আইনগত প্রাপ্য অংশ যাচাই করা জরুরি। মৃত হাজি সুলতান আহমদের ছয় ছেলে ও চার মেয়ের উত্তরাধিকার এবং মসজিদের অজুখানার জন্য দেওয়া জমির পরিমাণও নথিপত্রের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং আইন অনুযায়ী নিজের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন আলী হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:০৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ডুলহাজারায় পৈতৃক জমির ১০ কড়া নিয়ে বিরোধ, চকরিয়া থানায় অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:০৮:৩১ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
৯

তিনবার নোটিশ দিয়েও সালিশে হাজির হননি বিবাদীরা—দাবি অভিযোগকারীর; ন্যায়বিচার পেতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলহাজারা ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় পৈতৃক বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আলী হোসেন। তাঁর অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজের প্রাপ্য অংশের ১৫ কড়া জমি ভোগদখলে থাকলেও বাকি ১০ কড়া জমি থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশের চেষ্টা করেও বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখন আইনি প্রতিকার চাইছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডুলহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনপাড়া মরকেজ মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ বিরোধের সূত্রপাত। আলী হোসেনের দাবি, তাঁর পিতা মৃত হাজি সুলতান আহমদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে তাঁর ন্যায্য অধিকার রয়েছে। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি সম্পূর্ণ প্রাপ্য অংশ বুঝে পাচ্ছেন না।
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ
আলী হোসেনের ভাষ্য, তাঁর পিতা হাজি সুলতান আহমদের নিজস্ব ৪০ শতক এবং এয়কৃত ২০ শতকসহ মোট ৬০ শতক জমি ছিল। এর মধ্যে স্থানীয় মরকেজ মসজিদের অজুখানার জন্য ৩০ কড়া জমি দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে ছেলেরা ২৫ কড়া করে জমি পেয়েছেন বলে তাঁর দাবি। তবে নিজের প্রাপ্য অংশের ১৫ কড়া জমি ভোগদখলে থাকলেও বাকি ১০ কড়া জমি নিয়ে বিরোধ চলছে।
মৃত হাজি সুলতান আহমদের ছয় ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছেন। ছেলেরা হলেন—আবদুল করিম, আবদুল সালাম, মোজাম্মেল (সাবেক ইউপি সদস্য), হাজি বজল আহমদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও আলী হোসেন।
আলী হোসেনের অভিযোগে বিবাদী হিসেবে তাঁর ভাতিজা আবু বক্কর, মো. মহসিন, তাঁদের বাবা হাজি বজল আহমদ এবং দিলদার বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
৭৫ কড়া জমি দানপত্রের দাবি বিবাদীপক্ষের
বিবাদীপক্ষের দাবি, মৃত হাজি সুলতান আহমদ জীবিত থাকাকালে আবু বক্কর সিদ্দিকীকে ৭৫ কড়া জমি দানপত্র করে দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত কাগজ ও টিপসই থাকার কথাও তাঁরা উল্লেখ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, কথিত দানপত্রের কারণে সংশ্লিষ্ট জমিতে আলী হোসেনের কোনো অধিকার নেই।
বিবাদীপক্ষের সদস্য মো. মহসিন বলেন, তাঁদের দাদা জীবিত থাকতেই তাঁর ভাই আবু বক্করকে ৭৫ কড়া জমি দান করে গেছেন। তাই ওই জমিতে আলী হোসেনের দাবি করার সুযোগ নেই বলে তাঁরা মনে করেন।
তবে কথিত দানপত্রের বৈধতা, জমির প্রকৃত পরিমাণ এবং উত্তরাধিকারীদের আইনগত অধিকার নির্ধারণে মূল দলিল ও ভূমি-রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনবার নোটিশ, তবু হয়নি সালিশের নিষ্পত্তি
আলী হোসেনের অভিযোগের পর ডুলহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন সিপু ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আয়াত উল্লাহ বিরোধটি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সালিশে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিবাদীদের তিনবার নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁরা হাজির হননি।
ইউপি সদস্য আয়াত উল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বিষয়টি তদন্ত করে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তদন্তের পর আলী হোসেন তাঁর দাবিকৃত সম্পত্তির সম্পূর্ণ অংশ পাননি বলে প্রতীয়মান হওয়ায় উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য তাঁকে সালিশি নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
থানায় অভিযোগ, এখন আইনি প্রতিকারের অপেক্ষা
স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ সফল না হওয়ায় আলী হোসেন চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি সালিশি নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
আলী হোসেনের দাবি, পৈতৃক সম্পত্তির মূল দলিল, দানপত্র এবং উত্তরাধিকার-সংক্রান্ত নথি যাচাই করে তাঁর আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা হোক। অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষ দানপত্রের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করছে।
এ অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে মূল দলিল, কথিত দানপত্র, খতিয়ান, নামজারি, দখলসংক্রান্ত তথ্য এবং উত্তরাধিকারীদের আইনগত প্রাপ্য অংশ যাচাই করা জরুরি। মৃত হাজি সুলতান আহমদের ছয় ছেলে ও চার মেয়ের উত্তরাধিকার এবং মসজিদের অজুখানার জন্য দেওয়া জমির পরিমাণও নথিপত্রের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি এবং আইন অনুযায়ী নিজের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছেন আলী হোসেন।